সর্বশেষ আপডেট ১৪ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / বাংলাদেশ / জাতীয় / ২০১৮ সালের শেষের দিকে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে: প্রধানমন্ত্রী

২০১৮ সালের শেষের দিকে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ১৯:৪১ টা | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ২০:১৯ টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন বাংলাঃ

বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' হিসেবে গড়ে তুলাই আমার একমাত্র  ব্রত বলেও উল্লেখ্য করেন শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে দেশেকে উন্নত দেশে উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।

চলতি বছরের শেষের দিকে সংবিধান অনুযায়ী সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে জানিয়ে সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন।

সরকারের বর্ষপূর্তির ভাষণের শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, আমার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার। কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সে বিচার আপনারাই করবেন।

এরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোন এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সহযোগিতাকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়'- জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা আমার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা আমার একটাই প্রচেষ্টা-কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ করব, স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলব।

বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' হিসেবে গড়ে তুলাই আমার একমাত্র  ব্রত বলেও উল্লেখ্য করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজকের এই দিনে আমি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। আজ আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছি।

৫ জানুয়ারিতে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা এবং নির্বাচন প্রতিহতের চেষ্টার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে নির্মম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের দিন ৫৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়। হত্যা করে প্রিজাইডিং অফিসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫- এই তিন বছরে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের হাতে প্রায় ৫০০ নিরীহ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গাড়ি, ২৯টি রেলগাড়ি ও ৯টি লঞ্চ পোড়ানো হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাংচুর এবং ৬টি ভূমি অফিসে আগুন দেয়া হয়। মসজিদে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয় পবিত্র কোরআন শরীফ। তাদের জিঘাংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি রাস্তার গাছ এবং নিরীহ গবাদিপশু।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সরকারের উন্নয়নে ধারাবাহিকতা ছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। ৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে পঁচাত্তরের সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা, পরবর্তী ছয় বছর বিদেশের মাটিতে তার নির্বাসিত জীবন কাটানো এবং ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক, ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ে তার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের বিবরণও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে তিনি যখনই মানুষের কাছে গিয়েছেন, তখনই পেয়েছেন মানুষের অপার স্নেহ, ভালবাসা ও আত্মবিশ্বাস। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, বন্ধুর পথ অতিক্রম করে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পায়।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসন, সন্ত্রাস-দুর্নীতি ও লুটপাট এবং পরবর্তী দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুঃশাসনের বিবরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সাথে ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল ও সরকার উৎখাতের নামে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যার প্রসঙ্গও টানেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ বছর-এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে।

তিনি বলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারাই নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, নয় বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।

তিনি বলেন, তার সরকার দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঢাকায় মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রাবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান পাওয়ায় বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে বিশ্বসভায়। সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে।

তিনি আরো বলেন, যে বাংলাদেশকে একসময় করুণার চোখে দেখত, সাহায্যের জন্য হাত বাড়ানোয় করুণার পাত্র মনে করত; আজ সে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বসভায় সম্মানিত।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণই সব ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য জনগণকেই ঠিক করতে হবে-তারা কী চান! তারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না আবার পিছনের দিকে চলুক— সেটাই দেখতে চান।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একবার ভাবুন তো, মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল? মানুষ কী চান না তাদের সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক?

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক! প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক! মানুষ দু'বেলা পেট পুরে খেতে পাক! শান্তিতে জীবনযাপন করুক।

চলতি বছরের শেষের দিকে সংবিধান অনুযায়ী সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে জানিয়ে সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো কোনো মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ অশান্তি চায় না। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি-এটা আর এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশন ইতোমধ্যে দুইটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।

ভাষণে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। দেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব, ইনশাল্লাহ।

পাঠক মন্তব্য () টি

আইভীকে দেখতে হাসপাতালে কাদের

চিকিৎসাধীন নারায়নগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেখতে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক…

শরণার্থী ক্যাম্পে ফের হাতির হামলা, রোহিঙ্গা নিহত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় একটি শরণার্থী ক্যাম্পে ফের হাতির হামলায় এক রোহিঙ্গা মারা…

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু

চারদিন বিরতি দিয়ে আমবয়নের মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আগামী…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD