সর্বশেষ আপডেট ১৪ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / শিক্ষা / সাক্ষাৎকার / সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে ঢাবির বিনির্মাণ চান ফিরোজ

সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে ঢাবির বিনির্মাণ চান ফিরোজ

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০১৮ ২৩:৩৯ টা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে সাড়া ফেলেছেন জাতীয়তাবাদী প্যানেলের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।

'সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনির্মাণ' শীর্ষক স্লোগান দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক সঙ্কটের জ্ঞানভিত্তিক উত্তরণ প্রয়োজন। আর এ উত্তরণপর্বে নেতৃত্ব দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্যাগী ও নির্লোভ ছাত্রনেতা হিসেবে সুনাম রয়েছে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের। গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জরুরি অবস্থার সময় সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। আগস্টের ছাত্র বিক্ষোভের জন্য দণ্ডিতও হয়েছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি প্রার্থী হিসেবে অনলাইন বাংলার কাছে নিজের ভাবনা ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।

অনলাইন বাংলা: আমাদের পাঠকদের কাছে আপনার পরিচয় তুলে ধরুন।

ফিরোজ:  আমি মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে আসন্ন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেল থেকে আপনাদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।

আমার বাবা একজন শিক্ষক এবং মা শিক্ষানুরাগী। তাদের অনুপ্রেরণায় আমি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছি। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন নেতা হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম।

তখন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্বে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমৃদ্ধ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি আমি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম সিনেটে সেই স্বপ্নের কথা তুলে ধরতে আমি সিনেটের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছি।

অনলাইন বাংলা: যদি জানতে চাই, তাহলে আপনার স্বপ্নের কথা কিভাবে তুলে ধরবেন?

ফিরোজ: আমরা সবাই জানি, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ জমানায় পূর্ববঙ্গের নিপীড়িত, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যাপীঠের উদ্যোক্তা পূর্ববঙ্গের নেতাদের লক্ষ্য ছিল একটি শিক্ষিত দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তোলা, যারা এ জনপদের মানুষের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক মুক্তি নিশ্চিত করবে।

হ্যা, শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন জ্ঞান সৃজনে সফল নেতৃত্ব দিয়ে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত হয়েছে,তেমনি রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধেরও সূতিকাগার ছিল। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার আলো ছড়ানোর পাশাপাশি পরাধীন দেশে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরও জন্ম দিয়েছে। এই ঐতিহ্য আফ্রো-এশিয়া তো বটেই, সমগ্র বিশ্বেই বিরল।

সেই বিরল গৌরবের ঐতিহ্যের অধিকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই দেশের অস্তিত্ব হুমকিতে। আরেক দিকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা-যুদ্ধ তীব্রতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যেখানে ভিশনারি লক্ষ্য নিয়ে দেশকে বাস্তবতা মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া জাতীয় কর্তব্য বলে সূচিত হয়েছে, তখন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় ঘটেছে। সংসদ-আদালত-নির্বাহী বিভাগের সর্বত্র নৈরাজ্য-স্বজনপ্রীতি-দলীয়করণের ফলে খোদ রাষ্ট্রের ভঙ্গুর দশা তৈরি হয়েছে। বল্গাহীন দুর্নীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদেশে লাখ লাখ কোটি টাকা অর্থ পাচার। এসব স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ গুড়িয়ে দিতে গুমখুনসহ ভয়াবহ মানবাধিকার হরণ চলছে।

আর এই দুর্দশাগ্রস্ত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ তার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনমিতিকি সুবিধা) কাজে লাগাতে পারছে না। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট তখনই হয় যখন কোনো দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যার আধিক্য বিরাজ করে, অর্থাৎ মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষের বয়স হয় ১৫ থেকে ৬৪ বছর। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে ঠিকমতো কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিপুল কর্মসংস্থান ও উচ্চ আয়ের মাধ্যমে দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যেতে পারবে।

এ অবস্থায় আমি মনে করি,আগামী দিনের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিশন (রূপকল্প), তা বাস্তবায়নের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নির্ধারণ ও দক্ষ যোগ্য উচ্চশিক্ষিত নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে পুরো জাতিকে পথ দেখাতে পারে  কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে হতাশাজনক শিক্ষা পরিস্থিতি,অপ্রতূল অবকাঠামো ও অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বিরাজ করছে, তা ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা অসম্ভব করে তুলছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিনির্মাণ প্রয়োজন। বিশ্বের প্রথম সারির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে তাদের দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। আর লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনলাইন বাংলা: আপনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কী ভূমিকা রাখতে পারে?

ফিরোজ: সমৃদ্ধ-উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিনির্মাণের জন্য সুপরিকল্পিত রূপকল্পকে সামনে রেখে বাস্তবোচিত পদক্ষেপ গ্রহণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিনেট।

রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে বিজয়ে হতে পারলে সিনেটে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিনির্মাণে  আমি একটি রূপকল্প প্রস্তাব করব।

অনলাইন বাংলা: আপনার রূপকল্পে কী কী বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে??

ফিরোজ:  আমার রূপকল্পে ১১টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সবার বিবেচনার জন্য আমি এসবের সংক্ষিপ্ন বিবরণ তুলে ধরছি।

১. শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতি ও পাঠ্যসূচিকে পরিবর্তন করে জাতীয় মূল্যবোধ-ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজ-হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকে যুগোপযোগী করা। যার মধ্য দিয়ে এমন নতুন জ্ঞান সৃজনের ধারা চালু করা, যাতে ভবিষ্যতের দার্শনিক-বৈজ্ঞানিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দিক নির্দেশনা প্রদানে সক্ষম উচ্চশিক্ষিত স্কলার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

২. গবেষণা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রথম একশ'টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। যার মধ্য দিয়ে ষোল কোটি মানুষের বিপুল জনসংখ্যাকে একটি অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার সকল জ্ঞানগত রূপনকশা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। গবেষণা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটের এক তৃতীয়াংশ থেকে শুরু করে অর্ধেক অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

৩. কাঠামোগত উন্নয়ন: বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ, আবাসিক হল, গবেষণাগার, লাইব্রেরি থেকে শুরু করে শিক্ষা উপকরণ শতভাগ উন্নত প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যকর নয়নাভিরাম অবকাঠামো নির্ভর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

৪. শিক্ষা পরিস্থিতি: বাংলাদেশের উদার সহিষ্ণু গণতন্ত্রের মডেল হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য হল, ইনস্টিটিউট ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকুস নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। সব দল-মত-পক্ষের ছাত্রদের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে।

৫. শিক্ষক নিয়োগ: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই জ্ঞানের জগতে নেতৃত্ব দেন। তারাই শিক্ষার্থীদের প্রচলিত জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে নতুন জ্ঞান সৃজনের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলেন। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের মতোই জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। দল-মত-গোষ্ঠী স্বার্থ বিবেচনায় অযোগ্য কাউকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া বন্ধ করা হবে।  সর্বোচ্চ মেধাবী,গবেষক ও প্রজ্ঞাসম্পন্নদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে উন্নত দেশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টোরাল ডিগ্রি অর্জনের ওপর গুরত্বারোপ করা হবে।

৬. শিক্ষক রাজনীতির রূপান্তর: বর্তমানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে সিনেট ও সিন্ডিকেটে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি জাতির জন্য দৃষ্টান্ত হওয়ার পরিবর্তে ভঙ্গুর জাতীয় রাজনীতির প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হচ্ছে। এর পরিবর্তন ঘটিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে শিক্ষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক রাজনীতির রূপান্তর ঘটনো হবে।

৭. নারী নেতৃত্ব: দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়ায় সমাজের সর্বত্র উচ্চ শিক্ষিত নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধেক আসনে নারী শিক্ষার্থী ভর্তি ও অধিকহারে নারী শিক্ষক ও গবেষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। ডাকসু ও বিভিন্ন ফোরামে শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যে অর্ধেক যেন নারী হয় তা সুনিশ্চিত করা হবে।

৮. অপবাদমুক্ত করা: সন্ত্রাস, প্রশ্নফাঁস, মাদকাসক্তি, অযোগ্যদের শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের মতো কর্মকাণ্ডের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এসবের কারণে প্রায় সময় সংবাদ মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতিবাচকভাবে চিত্রিত হয়। এ সব বন্ধে সর্বাত্মক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভূমিকা পালন করবে।

৯. আবাসন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ দিন ধরে আবাসন সঙ্কট বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও নবীন শিক্ষকরা আবাসনের অভাবে দুর্বিষহ জীবন যাপন করেন। এক্ষেত্রে আবাস সঙ্কটের সমাধানে বিদ্যমান শিক্ষার্থী হল ও শিক্ষক বাসভবন সংস্কার,বর্ধিতকরণের কাজ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী হল ও শিক্ষক বাসভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া একুশ শতকে ডিজিটাল জীবন ধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আবাসন সুবিধা বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য অল্প টাকায় পুষ্টিকর বৈচিত্রপূর্ণ সুস্বাদু খাবার এবং স্বাস্থ্যকর লিভিং স্পেস নিশ্চিত করা হবে।

১০. পরিবহন: বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্নত মানের আরামদায়ক ডিজিটাল গণপরিবহন এবং শিক্ষকদের সবার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার ব্যবস্থা করা হবে।

১১. জবাবদিহিতামূলক সিনেট: রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েটদের মতামত ও পরামর্শের আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে ধারণ করে ভবিষ্যতের পথে দুর্নিবার গতিতে এগিয়ে যেতে পারে, তার জন্য সিনেটকে একটি জবাবদিহিতামূলক পরিষদে পরিণত করা হবে।

অনলাইন বাংলা: নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ও এ রূপকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?

ফিরোজ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমার স্বপ্নের কথা পেশ করে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আমি রেজিস্টার্ড ভোটারদের সমর্থন ও ভোট চেয়েছি। তাদের রায়ে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়ে ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনির্মাণের’ লক্ষ্যে আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো।

আমি আত্মবিশ্বাসী রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটরা আমাদের জাতীয়তাবাদী প্যানেলের সব প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন। ভোটারদের রায় পেয়ে গৌরবের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমাদের প্রাণপ্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারব বলে আমি আত্মবিশ্বাসী। আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশকেই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে না, একুশ শতকের যুদ্ধবিগ্রহ জর্জরিত পৃথিবী জুড়েই আশার আলো দেখাতে পারবে।

অনলাইন বাংলা: দীর্ঘ সময় কথা বলার জন্য আপানাকে ধন্যবাদ।

ফিরোজ: অনলাইন বাংলাকেও ধন্যবাদ।

পাঠক মন্তব্য () টি

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD