সর্বশেষ আপডেট ১৪ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / নেপালে ক্ষমতা নিয়ে নতুন খেলা?

নেপালে ক্ষমতা নিয়ে নতুন খেলা?

প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ ১৭:৪২ টা

মাসুমুর রহমান খলিলীঃ

নেপালে সরকার গঠন নিয়ে নতুন খেলা শুরু হয়েছে। ফেড়ারেল ও প্রাদেশিক নির্বাচনে নিশ্চিতভাবে পরাজিত হবার পরও নেপালি কংগ্রেসের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি নিজে কোয়ালিশন গঠন করতে না পারলে মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহলকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বাইরে থেকে সমর্থন দানের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং উচ্চ পরিষদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়বেন। উচ্চ সভার ৫৯ জন সদস্যের মধ্যে ৫২ জন নির্বাচিত হবেন এবং তিন জনকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৮ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বলেছে সরকারকে।

নেপালি কংগ্রেসের ক্ষমতা না ছাড়ার এই নতুন তৎপরতার বিরুদ্ধে নেপাল জুড়ে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে নেপালি কংগ্রেস পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র) এর চেয়ারম্যান পুষ্প কমল দাহলকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সমর্থন করতে ইচ্ছুক। তবে সে ক্ষেত্রে তারা বিরোধী দলে থাকার কথা ঘোষণা করে।

নেপালের কংগ্রেসের প্রস্তাবের জবাবে দাহল বলেন, তিনি বামপন্থী জোটের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না। দাহল আরও বলেন যে, ইউএমএল এবং মাওবাদী কেন্দ্র একীকরণ প্রক্রিয়া চলছে এবং এ প্রস্তাব পার্টি ইউনিফাইং কো-অর্ডিনেশন দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে। দাহল নিজে এবং ইউএমএলের প্রধান খাড়গা প্রসাদ শর্মা ওলি নতুন দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে জানান।

কেপি অলির সরকারের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিকে দেরি করতে নেপাল কংগ্রেস এই কৌশল নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওলি ছিলেন একসময় নয়া দিল্লির ঘনিষ্ঠ। আর এখন তিনি ভারতবিরোধী হয়ে পড়েছেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের নতুন সংবিধান প্রচলনের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে দেশটির ওপর পাঁচ মাস অবরোধ আরোপ করে রাখে ভারত। ওলি যাতে প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন, সে চেষ্টাও করে ভারত। তিনি অবশ্য ভারতের উন্নয়ন বিনিয়োগের বিরুদ্ধে নন।

সদ্য সমাপ্ত নেপালে দু’দফায় কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এ নির্বাচনে সিপিএন- ইউএমএল ও মাওবাদীদের সমন্বয়ে বাম জোট এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক জোট সরাসরি প্রতিদ্ধন্দ্বিতা করে। কেন্দ্রীয় সংসদের ১৬৫ আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচন এবং ১১০ আসনে আনুপাতিক ভোটের নির্বাচন হয়। এর চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি- ইউএমএল ১২১টি, নেপালি কংগ্রেস ৬৩টি, মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ৫৩টি, রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ১৭টি এবং ফেড়ারেল সোশ্যালিস্ট পার্টি ১৬টি আসনে বিজয়ী হয়।

এই ফলাফলে বাম জোটের সরকার গঠনের ব্যাপারে কোন সংশয় থাকার কথা নয়। এই দুটি দল শুধু ‍নির্বাচনী জোটই গঠন করেনি একই সাথে দুটি বাম দলকে এক দলে পরিণত করার ঘোষণা ও প্রক্রিয়াও চালাচ্ছে। জোটের পক্ষ থেকে কেপি অলিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা করা হয়। এর পরও ক্ষমতায় থেকে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী দেউবা প্রচন্ডকে প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে বিজয়ীদের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছেন।

দেউবার হিসাব হলো, বাম জোট থেকে মাওবাদীদের বের করে আনা গেলে তার দলের ৬৩টি আসনের সাথে মাওবাদীদের ৫৩ এবং প্রজাতন্ত্রী জনতা পার্টি ও ফেড়ারেল সোশ্যালিস্ট ফ্রন্টকে নিয়ে ফেড়ারেল সরকার গঠন করা যাবে। ২৭৫ আসনের কেন্দ্রীয় সংসদে সরকার গঠনের জন্য ১৩৮ আসন প্রয়োজন। আর এই অস্বাভাবিক জোট গঠন করা গেলে ১৪৯ আসনের সমর্থন তৈরি করা সম্ভব হবে।

এই সমীকরণে মাওবাদীদের নিয়ে আসা গেলে কয়েকটি প্রদেশেও সরকার গঠন করা যাবে। ১, ৩, ৬ ও ৭ নং প্রদেশে ইউএমএল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে। ৪ ও ৫ নং প্রদেশে দুয়েকটি ছোট দলের সমর্থন পেলে ইউএমএল সরকার গঠন করতে পারেবে। বাকি ২ নং প্রদেশে মাধেসি দলগুলো সরকার গঠন করতে পারে কংগ্রেস বা অন্য কোন বড় দলের সমর্থন নিয়ে।

নেপালে অবশ্য কংগ্রেস ও দেউবার এই প্রচেষ্টা সফল হবে এমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রজাতন্ত্রী পার্টি ও সোশ্যালিস্ট পার্টিও শর্ত সাপেক্ষে বাম জোটের সরকারকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। এছাড়া কংগ্রেসের ভেতর থেকেই দেউবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি উত্থাপিত হয়েছে। তবে ইউএমএল ও মাওবাদীরা অভিন্ন দলে রূপান্তর না হলে দু’দলের মধ্যে যে কোন বিরোধ সরকারে অস্থিরতা সুষ্টি করতে পারে।

নেপালের এবার ১৯৯৯ সালের পর এবার প্রথম প্রত্যক্ষ সংসদীয় নির্বাচনে সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে দেশটির রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন সংবিধানের আওতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সংবিধান প্রণয়নের জন্য নির্বাচিত গণপরিষদকে সংসদ হিসাবে গণ্য করা হয় এবং গণপরিষদের আসনের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়। নেপালে নতুন সংবিধানে নির্বাচনের যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তা দক্ষিণ এশিয়ায় এক অনন্য হিসাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রচেষ্টার পেছনে মূল লক্ষ্য হলো ইউএমএল নেতা কেপিঅলিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া থেকে নিবৃত করা এবং নেপালের সরকারে প্রতিবেশি ভারতের প্রভাব বজায় রাখা। নেপালে সুসংহতভাবে বাম সরকার গঠন সম্পন্ন হলে চীনের সাথে কানেকটিভিটি ও বাণিজ্যের যেসব চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

ইতিমধ্যে নেপালের নতুন বাম-জোট সরকার চীনের সঙ্গে কানেকটিটিভিটি জোরদার করবে বলে জল্পনা-কল্পনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সড়ক বিভাগ চীনের সঙ্গে কাঠমান্ডুকে সংযুক্ত করতে একটি সুড়ঙ্গ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত সড়কটি সীমান্ত শহর রাসুওয়াগাধি হয়ে রাজধানী কাঠমান্ডুর কাছাকাছি পৌঁছবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠমান্ডুর টোখা থেকে নুয়াকোট জেলার চাহারি পর্যন্ত সুড়ঙ্গ সড়কটি নির্মাণ করা হলে কাঠমান্ডু থেকে সীমান্ত শহর রাসুওয়াগাধিতে পৌছতে মাত্র আড়াই ঘন্টা সময় লাগবে। এই সুড়ঙ্গ সড়কের দৈর্ঘ হবে ৪.২ কিলোমিটার। অন্যদিকে রাসুওয়াগাধিমুখি পাসাং লামু হাইওয়েতে পৌছার জন্য আলাদা ৩৫ কি.মি. দীর্ঘ একসেস রোড তৈরি করা হবে। আর এসব হলে নেপালি রাজনীতি ও প্রশাসনে দিল্লির প্রভাব সঙ্কুচিত হয়ে যাবে।

নেপালে নতুন খেলা দিন শেষে সফল হবে বলে মনে হয় না। চীন কোনভাবেই নেপালকে ভারতের প্রভাব গন্ডিতে জিম্মি হতে দিতে চায় না। নেপালের বৃহত্তম দাতা ও বিনিয়োগকারী হিসেবে ভারতকে এর মধ্যে টপকে গেছে চীন। এর ফলে ভারতের অস্বস্তি বেড়েছে। সমস্যা হলো, নেপালকে এখনো ভারত তার ‘আঙিনা’ হিসেবে দেখে। সে নিজ দেশে চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়, কিন্তু তা তার প্রতিবেশী দেশে চীনের বিনিয়োগকে গভীর সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে।

পাঠক মন্তব্য () টি

তুর্কি-সুদান সহযোগিতা ও ইরিত্রিয়ায় মিসরের সেনা প্রেরণ

সুদান-তুরস্ক সম্পর্ক ও ইরিত্রিয়ায় মিসরের সেনা পাঠানোর বিষয়ে মাসুমুর রহমান খলিলীর পর্যালোচনা।

অসমের বাঙ্গালি বন্দি শিবিরগুলো এবং অসমের অর্থনীতি

আসাম পরিস্থিতি নিয়ে গবেষক আলতাফ পারভেজের পর্যালোচনার দ্বিতীয় পর্ব।

২০১৮ সাল: ইসলামিস্টদের সকাল আসন্ন!

ইসলামী আন্দোলন বা রাজনৈতিক ইসলাম শক্তিশালী খেলোয়াড় হিসাবে ফিরে আসছে।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD