সর্বশেষ আপডেট ১৪ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / অসম সীমান্তে কী হচ্ছে?

অসম সীমান্তে কী হচ্ছে?

প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৭:১৩ টা | আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:৩০ টা

মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল

আলতাফ পারভেজঃ

এক.
আপাত কিছু দিন অসম নিয়ে আলাপ না করলেই নয়। আরাকানের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানবিক বিপর্যয়ের আরেক ভরকেন্দ্র হতে চলেছে অসম। না চাইলেও বাংলাদেশকে এই বিপর্যয়ের বাইরে থাকার সুযোগ নেই। সুতরাং আলাপ-আলোচনা জরুরি। ধারাবাহিক এই বিবরণের মূল অংশে প্রবেশের আগে একটি প্রতীকী তথ্য দিয়ে আলাপ শুরু হোক।

উপরের ছবির মানুষটিকে অনেকেই চেনেন হয়তো। বদরুদ্দিন আজমল। দেখতে মাওলানা ভাসানীর মতো। অসমের ধুবরি থেকে গত দুই মেয়াদে লোকসভার এমপি। স্থানীয়রা তাঁকে ‘ধুবরির হুজুর’ বলে। বলা যায়, আজমল এখন ভারত নিয়ন্ত্রিত রাজ্যটির দ্বিতীয় ভাসানী।

অসমের নওগাঁ জেলায় জন্ম নেয়া বদরুদ্দিন আজমল পারিবারিকভাবে বড় ব্যবসায়ী। আগর ব্যবসা করেন তাঁরা। ব্যবসা-বাণিজ্য ও সমাজ সেবার জগতেই ছিল তাঁর বিচরণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় গ্রামীণ হাসপাতাল হাজি আবদুল মজিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল ছাড়াও অসম জুড়ে শত শত দাতব্য কাজে যুক্ত বদরুদ্দিন আজমল। তবে ২০০৬-এ রাজনীতিতে যোগ দিয়েই অসমের রাজনীতির পুরানো ছকটি পাল্টে দিতে শুরু করেন।

বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন দলের নাম ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’। জন্মের ছয় মাসের মাথায় এই দল নির্বাচনে (২০০৬) অংশ নিয়ে আসন পায় ১২৬-এর মধ্যে ১০টি; পরের নির্বাচনে পায় ১৮টি এবং সর্বশেষ নির্বাচনে পেয়েছে ১৩টি।

অসমের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বাংলাভাষী মুসলমানরা এই দলের সমর্থকদের একটা বড় অংশ। বাংলাভাষী এই মুসলমানরা অতীতে বিভিন্ন দলের সামান্যই মনযোগ পেতো। কিন্তু বদরুদ্দিন আজমল তাদের পৃথকভাবে সংগঠিত করা শুরু করলেই ভারত নিয়ন্ত্রিত রাজ্যটির ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টাতে শুরু করে; ভারতীয় মিডিয়ার বিশেষ মনযোগ পড়ে সমাজের একেবারে তলদেশীয় বর্গের দরিদ্র মুসলমানদের প্রতি এবং এরূপ ঘৃণাপূর্ণ শোরগোলও শুরু তখন থেকেই-- ‘অসম ভারতের দ্বিতীয় মুসলমানপ্রধান রাজ্য হয়ে যাচ্ছে’।

এরূপ ভয়ার্ত এবং উস্কানিমূলক প্রচারণার গূঢ় কারণ হলো অসমের ১২৬টি নির্বাচনী এলাকার ৩৫টিতে বাংলাভাষী মুসলমানরা সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য।

এরপরই আসে অসমের ডেমোগ্রাফি পাল্টে দেয়ার প্রকল্প। বিজেপি প্রকাশ্যেই বলতে থাকে-- অসম থেকে ‘অবৈধ’ বাঙলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তারই সূচনা পদক্ষেপ হিসেবে গত রবিবার রাতে অসমের বিজেপি সরকার নাগরিকত্বের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে গত ৯ বছর ধরে লোকসভার সদস্য থাকা বদরুদ্দিন আজমলের নামটিই নেই।

বলাবাহুল্য, অসমের নাগরিকত্বের প্রথম তালিকা থেকে আরও ১ কোটি ৪০ লাখ বাদ পড়া মানুষের সঙ্গে আজমলের নামটি যুক্ত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী বার্তা আছে। [চলবে.. ..]

দ্বিতীয় পর্ব: অসমের বাঙ্গালি বন্দি শিবিরগুলো এবং অসমের অর্থনীতি

বানান রীতি লেখকের নিজস্ব, অনলাইন বাংলার রীতি অনুযায়ী অসম মানে আসাম

পাঠক মন্তব্য () টি

নেপালে ক্ষমতা নিয়ে নতুন খেলা?

নির্বাচনে পরাজিত হবার পরও নেপালি কংগ্রেসের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা…

তুর্কি-সুদান সহযোগিতা ও ইরিত্রিয়ায় মিসরের সেনা প্রেরণ

সুদান-তুরস্ক সম্পর্ক ও ইরিত্রিয়ায় মিসরের সেনা পাঠানোর বিষয়ে মাসুমুর রহমান খলিলীর পর্যালোচনা।

অসমের বাঙ্গালি বন্দি শিবিরগুলো এবং অসমের অর্থনীতি

আসাম পরিস্থিতি নিয়ে গবেষক আলতাফ পারভেজের পর্যালোচনার দ্বিতীয় পর্ব।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD