সর্বশেষ আপডেট ১৪ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / শিক্ষা / খবর / ঘুষ প্রসঙ্গ: শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা

ঘুষ প্রসঙ্গ: শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা

প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৭:৫৬ টা | আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ২০:৪৭ টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন বাংলাঃ

'সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ'র প্রসঙ্গিক বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কর্মকর্তাদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ নিতে বলা প্রসঙ্গে তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি তার।

বুধবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এ দাবি করেন।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থা ঘুষ আর দুর্নীতিতে ছিল আকণ্ঠ নিমজ্জিত। উদাহরণ হিসেবে আমি সেসব পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলাম। অথচ কতিপয় পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশিত করা হয়েছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের একটি অনুষ্ঠানের সংবাদ বেশির ভাগ গণমাধ্যমে যথোপযুক্তভাবে তুলে ধরা হলেও কতিপয় পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, সেই বিভ্রান্তির ওপর ভিত্তি করে কতিপয় বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামতও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই বিষয়টি স্পষ্ট করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ কতিপয় মিডিয়ায় প্রকাশিত খণ্ডিত-ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমার দীর্ঘদিনের সততার সংগ্রাম, নীতি-আদর্শ, কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধের বিষয়ে আপনারা অবগত। মিডিয়ার খণ্ডিত, ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করার আগে সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলে অনেক বেশি খুশি হতাম।

নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা খাতের দুর্নীতি অনেক কমেছে। বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে শিক্ষা খাতের দুর্নীতি বিশ্বের তুলনায় অনেক কমেছে।

তিনি বলেন, বিশ্বে শিক্ষাক্ষেত্রে গড় দুর্নীতির হার ১৭ ভাগ হলেও বাংলাদেশে তা ১২ ভাগ। আমরা এ হারকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে কাজ করে চলেছি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেশ কয়েকটি দপ্তর, পরিদপ্তরে এরই মধ্য স্বচ্ছতা এসেছে, দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে। ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে এবং থাকবে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম-আমাদের সম্পদ কম, যতটুকু সম্পদ আছে, তার সবটুকু সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি-অপচয় ও অপব্যয় বন্ধ করতে হবে। এক টাকা দিয়ে দুই টাকার কাজ করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় অব্যাহতভাবে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থাগুলোর মধ্যে ভাবমূর্তির দিক দিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

নাহিদ বলেন, কর্মকর্তারা ঘুষ-দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিলেন। এ সবই আগের বিএনপি-জামায়াত সরকারের অপশাসনের ফসল। সেই সময় ডিআইএ কর্মকর্তারা অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুষের খাম গ্রহণ করার সময় বলত, এর ভাগ ওপরেও দিতে হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক-কর্মচারীরা মনে করত, অফিসাররা চোর, মন্ত্রীও চোর। ডিআইএ কর্মকর্তারা আমাকে তাদের অতীতের দুঃখ-কষ্টের কথা বলেছেন।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমি যখন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিই, তখন সাধারণ শিক্ষকরা আমার কাছে তাদের বিভিন্ন হয়রানির কথা বলতেন। তাদের অল্প বেতনের কথা আমাকে বলতেন।

তিনি আরো বলেন, আমি সেই কথাগুলো ওই দিন বলেছিলাম। পত্রপত্রিকায় আমার ওই কথাগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা খাতের অনেক অর্জন যেমন রয়েছে, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন নিশ্চিত করাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ আছে।

তিনি আরো বলেন, সব ক্ষেত্রে আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে চাই। আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। আশা করি আমার এই বক্তব্যের পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমাদের সরকার ঘুষ-দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। ফলে শিক্ষকদের এখন আর হয়রানির শিকার হতে হয় না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সব প্রশ্ন এড়িয়ে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

গত ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ল্যাপটপ ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ অধিদপ্তরের অতীতের আট বছর আগের উদাহরণ দিতে গিয়ে ডিআইএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির কথা তুলে ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার পরামর্শ দেন।

পাঠক মন্তব্য () টি

অনশন ভাঙলেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা

জাতীয়করণের দাবিপূরণের আশ্বাস পেয়ে অনশন ভেঙেছেন আন্দোলনরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা।

স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

সভা শেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।

এবার আমরণ অনশনে যাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা

নিবন্ধন পাওয়া সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশনে…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD