সর্বশেষ আপডেট ৭ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক কেন টিকবে না?

ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক কেন টিকবে না?

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৭ ১৬:৫৩ টা | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৭ ১৮:৪৪ টা

মাও কেজিঃ

তিন মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন দক্ষিণ এশীয় নীতি তুলে ধরেছিলেন তা নিয়ে দিল্লিতে অনেক আশাবাদ সৃষ্টি হয়। কারণ এতে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেবার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করা হয় আর ভারতের দিকে বিশেষ ইতিবাচক নজর দেয়া হয়। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের পরবর্তী শতকে ইন্দো-মার্কিন সম্পর্কের উপর রাখা বক্তব্যে স্পষ্টতই আবারো ওয়াশিংটনের দক্ষিণ এশিয়ার কৌশল আলোচনায় চলে আসে।

‘মুক্ত এবং খোলা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’কে কেন্দ্র করে রাখা তার বক্তব্য ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে একটি নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়েছে।

বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের জন্য যৌথ কৌশলগত উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহ নতুন কোন বিষয় নয়। দুই দেশের সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী চীন দ্রুত এগিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব কিভাবে দীর্ঘায়িত ও টেকসই করা হবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মার্কিন-ভারত অসামরিক পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে একটি সমন্বয় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। জোটের বাইরে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টায় ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির ভূমিকা অস্পষ্টভাবেই এগিয়ে চলছে। কোনও পক্ষই দ্বিতীয় কাতারে খেলতে ইচ্ছুক ছিল না বলে সম্পর্কে ক্রমাগত ফাটল তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, পারমাণবিক শক্তি হিসেবে ভারতের অবস্থানকে অবয়ব প্রদানের জন্য অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক চাপের অধীনে কাজ করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দিল্লির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানোকে ভারতের অকৃতজ্ঞ মনোভাব হিসাবে মূল্যায়ন করে তাতে হতাশ হয়েছে।

প্রশ্ন হলো ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন কি একটি নতুন এবং আরো টেকসই অংশীদারিত্বে সক্ষম হবে? এক্ষেত্রে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ব্যাপারে তাদের ভূমিকা পুনরায় নির্ধারণ করতে হবে।

উভয় দেশের সিদ্ধান্ত-প্রণেতাদের এখন একটি স্বস্তিকর অবস্থার সন্ধান করতে হচ্ছে। ওয়াশিংটন এবং নয়া দিল্লিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে অন্য পক্ষের প্রতি নিজেকে সমর্পন না করা অথবা তাদের জন্য কাজ করা এ দুটি চরমের একটি বেছে নেবার অবস্থায় এসেছে।

ভারতের অগ্রহণযোগ্য “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন” অর্জন করতে হলে বিনিময় পাবার প্রত্যাশা ছাড়াই ওয়াশিংটনকে বৈশ্বিক পর্যায়ে ভারতের উত্থানে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। ভারতীয়-আমেরিকান কৌশলবিদ অ্যাশলে টেলিস সবচেয়ে ভালভাবে এই বিকল্পের মূল বিষয়টি বলেছেন। তিনি বলেছেন, “ভারত নিজের উন্নয়ন এবং কৌশলগত সাফল্যের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখবে, যা এশিয়ার ওপর চীনা আধিপত্যের সামর্থ্যকে ঠেকিয়ে রাখবে। আর এই প্রক্রিয়ার মধ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি এগিয়ে যাবে।” তাঁর মতে, ভারতবর্ষের উত্থানকে সহায়তা করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চীনের ক্ষমতার ওপর প্রয়োজনীয় বাধা তৈরি হবে। আর এভাবে ওয়াশিংটনের স্বার্থ রক্ষা হবে। এই যুক্তিটি যদিও স্বাভাবিকভাবে নতুন দিল্লির পছন্দ হবে কারণ এটি ভারতের বাধ্যবাধকতা কমিয়ে দেয়। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং তার সহযোগীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করবে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্পের “আমেরিকা প্রথম” বিষয়ক এজেন্ডার সাথে এই ধরনের একতরফা চুক্তিটি মানানসই হয় না। আর তিনি যে প্রায়ই তার চুক্তি সম্পাদনের অতিদক্ষ সামর্থ সম্পর্কে বলেন তার সাথে এটি ঠিকভাবে যাবে না।

বিকল্প হিসাবে ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘গ্রহণ ও প্রদানের’ উপর জোর দিতে পারে, যা ভারত-আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্বের সাথে জড়িত বাধ্যতামূলক কর্তব্য বা বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে। এই রকম সম অংশীদারিত্ব হতে পারলেও ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক ক্ষমতার পার্থক্য থাকায় তা নয়া দিল্লিকে মার্কিন কক্ষপথে ছড়িয়ে দিতে পারে। ভারত তাৎক্ষণিকভাবে জেগে ওঠে অন্য উপায়ের চেয়ে আমেরিকা থেকে আরো বেশি কিছু দাবি করতে পারে।

নতুন দিল্লি তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন দাবির ব্যাপারে আপোষ করলে তা ব্যাপকভাবে ওয়াশিংটনের অনুকুলে চলে যেতে পারে আর দেয়া ছাড় আবারও ফেরত নিতে পারে।

নয়া দিল্লির জন্য আদর্শ হলো সব ধরনের মার্কিন সহায়তা উপভোগ করবে কিন্তু একই সাথে তার গতিশীল কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ধরে রাখবে। এখানে, ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন হলো একটি স্বাধীন বিদেশ নীতি যা বাইরের বাধ্যবাধকতার বোঝা থেকে মুক্ত হবে। তবে, অবাস্তব বলে মনে হলেও এটা সত্যি যে, ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং এশিয়ায় তার একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্যগত অবস্থানের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সুবিন্যস্ত উপায়ের দিকে অগ্রসর হয়। তবে তাদের যে কাঠামোগত চাপের মুখোমুখি হতে হয় তা কেবল ভারতকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের ঋণ-লিজ আইনের মতো মার্কিন সাহায্যের একতরফা অর্জনের জন্য যোগ্য করে না।

মোদির জন্য ভাল দিক হল যে- তিনি এক অভূতপূর্ব ম্যান্ডেট উপভোগ করছেন এবং ভারতের আন্তর্জাতিক উপস্থিতির ব্যাপারে একটি অসাধারণ উৎসাহ রয়েছে। এর ফলে তার পূর্বসুরীদের তুলনায় তার বিদেশী নীতি গ্রহণের আরও নমনীয় অবকাশ দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়াদিল্লি কতটুকু কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ত্যাগ করবে তা স্পষ্ট নয়।

উদাহরণস্বরূপ, ভারতের ভারত-মার্কিন বেসামরিক পরমাণু চুক্তির পর যদি দিল্লি এর বাধ্যবাধকতা অনুসারে বিনিময় দিত তবে ভারতের জাতিসংঘে লিবিয়া ও সিরিয়াতে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করা বা ইরানের জ্বালানি আমদানী অব্যাহত রাখা অথবা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় মার্কিন উদ্যোগের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হতো না। ভারত কি এই ধরনের বন্ধন দ্বারা আবদ্ধ হতে প্রস্তুত হবে? ভারত মনে করে বহিরাগত হুমকি দমনে দাঁড়াবার আগেই নয়াদিল্লি তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে ঝুঁকির সম্মুখীন করবে না।

একটি পূর্ণ ইন্দো-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্ভব না হলে প্রত্যাশা এবং কৌশলগত হিসাব নিকাশ ঠিক থাকবে না। ওয়াশিংটনের পাকিস্তান থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং এই অঞ্চল জুড়ে অবকাঠামো নির্মাণে ভারতের সাথে যোগ দিতে সম্মত হওয়া পাকিস্তানের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের আগের অবস্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের উপস্থিতি সম্পর্কে নতুন দিল্লির উদ্বেগ দূর করে। একই সাথে ভারত তার অস্ত্রসম্ভারকে আরও "আমেরিকানকরণ" করার জন্য সম্মত হয়েছে এবং যৌথ সামরিক মহড়া আপগ্রেড করেছে।

এসব উন্নয়ন উৎসাহব্যঞ্জক হতে পারে, তবে উভয় পক্ষের কৌশলগত সংহতি “মুক্ত এবং খোলা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের” লক্ষে পৌঁছানোর আগে সামনে পাড়ি দেয়ার একটি দীর্ঘ পথ রয়েছে।

মাও কেজি: পিঙ্কাল ইনস্টিটিউশনের গবেষক

গ্লোবাল টাইমস থেকে অনুবাদ মাসুমুর রহমান খলিলী

পাঠক মন্তব্য () টি

জেরুসালেমের জন্য তৃতীয় ইনতিফাদা

ট্রাম্পের নিজের ক্ষমতা সংহত করা ছাড়া এর পেছনে আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য…

জেরুসালেমের পর কি মক্কা?

ট্রাম্পের ঘোষণা হবে পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক চুক্তির পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার একটি…

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কতদূর?

চীনকে রোহিঙ্গাদের কার্যকর পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD