সর্বশেষ আপডেট ৮ ঘন্টা আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / বৈশ্বিক ভারসাম্যের বাস্তবতায় ট্রাম্পের পাল্টে যাওয়া কথা

বৈশ্বিক ভারসাম্যের বাস্তবতায় ট্রাম্পের পাল্টে যাওয়া কথা

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০১৭ ১৫:৫২ টা | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৭ ১৭:০৭ টা

কিলিক বুগরা কানাতঃ

কয়েক বছর আগেও যেসব ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে চালানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তারা এখন বিশ্বের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় বিবেচনা করছেন। চীন-যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের মধ্যে একে অপরের সাথে সম্পর্ক নিয়ে মিশ্র অনুভূতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন রয়েছে। অধিকন্তু এর বাইরে আরো অনেকে রয়েছেন যারা প্রতিপক্ষ দেশকে প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি বলে বিবেচনা করে।

গত দুই দশক ধরে চীনের অর্থনৈতিক উত্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি থাকার বিষয়টি চ্যালেঞ্জে পড়লে চীন সম্পর্কে সতর্কবাদীদের আওয়াজ প্রবল হয়ে ওঠে। চীনের উত্থানের উপর গুরুত্বারোপ করে দেয়া রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি প্রচুর বই, ভিডিও এবং জার্নাল নিবন্ধও প্রকাশ হয়। এই ধরনের বিপজ্জনক বক্তৃতা শুধু ওয়াশিংটনেই নয় বরং বিভিন্ন আমেরিকান শহরেও দেয়া হয় যেখানে কারখানার বন্ধ হওয়া, অফশোরিং এবং চীন থেকে চাকরির আউটসোর্সিংয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এইসব নগর ও শহরের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করেতে চীনের জন্য চাকরি হারানোর ব্যাপারে কঠোর বক্তব্য দেয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ধরনের বক্তৃতাদাতাদের একজন। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার আগে ট্রাম্প আমেরিকান কাজ চুরি করা এবং আমেরিকান শিল্প "ধর্ষণের" জন্য চীনকে তিরস্কার করেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর এই বৈশ্বিক মহাশক্তি দেশটির দায়িত্ব নিয়ে তিনি এই সমস্যা উত্থাপনের উপর জোর দেন। তিনি চীনকে মুদ্রা ম্যানিপুলেটর হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং চীনের অবৈধ বাণিজ্য রীতি বন্ধ করতে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দেন। ট্রাম্প নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত বিজয় লাভ করলে তার এই বক্তব্য নিয়ে চীনে উল্লেখযোগ্যভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

যদিও হিলারি ক্লিনটনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়ার পিভট নীতিটি চালু করেছিলেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালে তাকে চীনের বিরুদ্ধে বেশি হৈচৈ করতে দেখা গেছে, তবুও ট্রাম্পই তার বক্তব্যের মাধ্যমে বেশি মানুষকে হতাশ করেছিলেন। অফিসে তার প্রথম কয়েক মাস তিনি এক অননুমেয় পথ এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে একটি কট্টর ধারা অনুসরণ করেন। প্রথম কয়েক মাসে তাইওয়ানি প্রেসিডেন্টের সাথে তার ফোনে আলাপ এবং দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কে তার টুইট দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি করে।

তবে, ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বেইজিংয়ের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করে। পরে উত্তর কোরিয়ার সমস্যা সম্পর্কে চীনকে নিয়ে তার হতাশা ব্যক্ত করে ট্রাম্প টুইট করেছেন। এতে যারা ট্রাম্পের চীনা নীতি বুঝতে চান তারা ধৈর্য ধরার সিদ্ধান্ত নেন এবং চীনে তার প্রথম সরকারি সফরের জন্য অপেক্ষা করেন।

নির্বাচনের এক বছর পর, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের উত্তেজনার সময় চীন সফর করেন। তবে, বিষয়সূচির শীর্ষ পর্যায়ে ছিল বাণিজ্য বিরোধ এবং উভয় দেশের মধ্যেকার উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি। ট্রাম্প ও মেলিনিয়ার চীন সফরকালে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের ব্যাপারে ট্রাম্পের পরিবর্তিত বক্তব্যে আমেরিকানরা বিস্মিত হয়। এক বছর ধরে চীনকে দোষারোপ করার পর, ট্রাম্প এই সময় পুরণো সেই পথটি অনুসরণ করেনি এবং এর পরিবর্তে চীনের ব্যাপারে তার দেশের বাণিজ্য অসহায়ত্বের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসনকে তিনি অভিযুক্ত করেন।

তিনি বলেন, “সর্বোপরি, দেশের নাগরিকদের উপকারের জন্য অন্য দেশ থেকে সুবিধা নিতে সক্ষম হওয়ার জন্য কে একটি দেশকে দোষ দিতে পারে? প্রকৃতপক্ষে আমি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এই বাণিজ্য ঘাটতির জন্য অতীতের প্রশাসনকে দোষারোপ করি এবং এটাকে আমাদের ঠিক করতেই হবে। কারণ এর জন্য আমাদের মহান আমেরিকান কোম্পানিগুলি কাজ করতে পারছে না এবং এটা আমাদের মহান আমেরিকান শ্রমিকদের কাজ হারানোর কারণ হচ্ছে। এটা কোনভাবেই চলতে দেয়া যায় না।”

এই বক্তৃতার পর, দুই দেশ ২৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষর করে। উপরন্তু, উত্তর কোরিয়াকে মোকাবেলা করার প্রচেষ্টার জন্য চীনকে ধন্যবাদ দিয়ে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার বিস্ময় সৃষ্টি করেন।

ট্রাম্প বলেন, “চীন এই সমস্যাটি সহজেই এবং দ্রুত সমাধান করতে পারে, আর আমি চীন এবং আপনাদের মহান প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন এটা নিয়ে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি বলেন ,আমি আপনাদের প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে একটি জিনিস জানি তিনি যদি সেই কঠোর পরিশ্রম করেন, তবে সন্দেহ নেই যে তা হবে।”

অনেকে এই পরিবর্তনটি নিয়ে ট্রাম্পকে আসল বাস্তবতায় ফিরে আসা হিসাবে মূল্যায়ন করছেন। দিনের শেষে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে, একটি কার্যকরী বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এই দু'টি দেশকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, চীনের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে এটি একটি প্রধান রাজনৈতিক উপকরণ হতে পারে।

উত্তর কোরিয়া হলো দ্বিতীয় ইস্যু এবং ট্রাম্পের এ নিয়ে বিবৃতিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একইভাবে গৃহীত হতে পারে না, তবে চীনের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তার পরিবর্তিত অবস্থান আলোচনার অনেক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। যদিও গত তিন দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রচারাভিযানের সময় ত্রুম হিসাবে এটি কঠোর বক্তব্য ছিল, তবুও অন্য দেশগুলিতে চাকরি হারানোর বিষয়টি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলির মধ্যে একটি। তিনি এই ইস্যুটিকে তার প্রচারণার জন্য একটি মুখ্য বিষয়ে পরিণত করেছিলেন এবং এই বক্তব্য দিয়ে সফলভাবে ভোটারদের সংগঠিত করেছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাবর্তনের পর, ট্রাম্পকে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া রাজনীতির বাস্তবতার মধ্যে নতুন ভারসাম্য এনে কথা বলতে হবে। এই ধরনের একটি ভারসাম্য গত তিন দশকে প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রহণ করেন এবং তা নিয়ে কাজ করতে চান। এই নতুন ভারসাম্যটি কেবল তার সমর্থন ভিত্তির সাথে ট্রাম্পের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না, একইসাথে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি নতুন স্বর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তুর্কি দৈনিক সাবাহ থেকে তরজমা মাসুমুর রহমান খলিলী

পাঠক মন্তব্য () টি

জেরুসালেমের জন্য তৃতীয় ইনতিফাদা

ট্রাম্পের নিজের ক্ষমতা সংহত করা ছাড়া এর পেছনে আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য…

জেরুসালেমের পর কি মক্কা?

ট্রাম্পের ঘোষণা হবে পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক চুক্তির পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার একটি…

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কতদূর?

চীনকে রোহিঙ্গাদের কার্যকর পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD