সর্বশেষ আপডেট ১৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / বাংলাদেশ / আদালত / সুপ্রিম কোর্টের চিঠি বেআইনী, বিচারপতি জয়নুলের দুর্নীতি অনুসন্ধানে বাধা নেই

সুপ্রিম কোর্টের চিঠি বেআইনী, বিচারপতি জয়নুলের দুর্নীতি অনুসন্ধানে বাধা নেই

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ১৭:০৭ টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন বাংলাঃ

প্রাক্তন বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন হবে না-জানিয়ে দুদককে পাঠানো সুপ্রিম কোর্টের চিঠি বেআইনী ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট; এতে আদালতের মর্যাদা খর্ব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণসহ রুলের রায় ঘোষণা করেন।

এ মামলায় জারি করা রুল নিষ্পত্তি করেছেন আদালত। ফলে বিচারপতি জয়নুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে কোনো বাধা থাকলো না।

দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন।

এ মামলার অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

খুরশীদ আলম বলেন, এ রায়ে প্রমাণিত হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ওই চিঠি অবৈধ, যার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এই চিঠি দেওয়া ঠিক হয়নি।

তিনি বলেন, সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে সাত বছর ধরে অনুসন্ধান চলতে থাকায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, এই রায় পজিটিভ। কারণ আদালত বলেছেন-সাত বছর ধরে অনুসন্ধান চলছে, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই রায়টি পজিটিভভাবে দেখছি।

এরআগে গত ৩১ অক্টোবর এই চিঠির বৈধতা সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষে তা যেকোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়েছিল।

এ সংক্রান্ত রুলের ওপর বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন।

এছাড়া, অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী ও সমিতির সাবেক সম্পাদক এএম আমিন উদ্দিন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১৮ জুলাই সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয় দুদক। তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।

গত ২ মার্চ বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয় দুদক।

এর জবাবে গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দুদকে পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

চিঠিতে বলা হয়, বিচারপতি জয়নুল আবেদীন দীর্ঘকাল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনেক মামলার রায় প্রদান করেন।

অনেক ফৌজদারি মামলায় তার প্রদত্ত রায়ে অনেক আসামির ফাঁসিও কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দেয়া রায় সবার ওপর বাধ্যকর।

এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ আদালতের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, তার দেয়া রায়গুলো প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং জনমনে বিভ্রান্তির উদ্রেক ঘটবে।

সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনও রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন হবে না।

গত ২৮ মার্চ দুদককে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া চিঠিটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান তরফদার।

গত ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সুপ্রিম কোর্টের দেয়া চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

রুলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, দুদক চেয়ারম্যান, আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী ও বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে দশ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

গত ১৯ অক্টোবর রুলের ওপর প্রথম শুনানি শুরু হয়। এসময় দুদক আদালতকে জানায়, সুপ্রিম কোর্ট এই চিঠি দিলেও ওই বিচারকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান থেমে থাকেনি। আর দুদকের চাহিদা অনুযায়ী ওই বিচারকের বিষয়ে নথিপত্রও পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এরপর রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৩১ অক্টোবর মামলাটি যেকোনো দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখেন হাইকোর্ট।

পাঠক মন্তব্য () টি

আদালতে ধর্মীয় অবমাননার স্বীকারোক্তি টিটু রায়ের

টিটু রায়কে আদালতে হাজির করার ব্যাপারে পুলিশ অতিরিক্ত গোপনীয়তা অবলম্বন করায় তারা…

চিকিৎসার খরচ পরিশোধে ব্যর্থ অসচ্ছল ব্যক্তির লাশ জিম্মি না করার নির্দেশ

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে অসচ্ছল ব্যক্তির লাশ চিকিৎসার খরচ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে…

৭ই মার্চ কেন জাতীয় দিবস নয়, ভাষণ-মঞ্চ পুনর্নির্মাণের নির্দেশ কেন নয়

৭ই মার্চ তর্জনি উঁচিয়ে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধকরণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভাস্কর্য ওই মঞ্চে কেন…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD