সর্বশেষ আপডেট ১১ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / বিদেশ / আমেরিকা / ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলেন বাবা

ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলেন বাবা

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:০২ টা | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:০৪ টা

বিদেশ ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ

আবদুল-মুনিম সোমবাত জিতমউদ। ৬৬ বছর বয়স। থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। করতেন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা। ওখানেই খুন হয়েছেন তার ছেলে। এরপর থেকে এখন থাইল্যান্ডের বসবাস করেন তিনি। ছেলের সেই খুনিকেই ক্ষমা করে দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন বাবা আবদুল মুনিম। দেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশার দাওয়াত। বলেন এখন থেকে জীবনে শুধু ভাল কারজ করবে; মানুষকে সাহায্য করবে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে এ ঘটনা ঘটে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিন হত্যার রায় দিতে আদালত প্রস্তুত। মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে ওই খুনিকে। এমন সময় আদালতের বিচারকের দিকে তাকিয়ে বাবা আবদুল-মুনিম সোমবাত জিতমউদ বলেন, অল্প বয়সের ছেলে। ওকে ক্ষমা করে দিলাম। ইসলাম ক্ষমার কথাই বলে।

পরে ছেলে হত্যার আসামি ট্রে আলেকজান্ডার রেলফোর্ডকে বুকে জড়িয়ে ধরেন সোমবাত জিতমউদ। এসময় পিন-পতন নিরবতায় আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

চোখের পাতা ভিজে উঠে কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট জজ কিমবার্লি বানেলের। কিছুক্ষণের জন্য আদালত মুলতুবি ঘোষণা করে নিজের কক্ষে চলে যান বিচারক বানেল।

পিৎজা খেতে গিয়ে আড়াই বছর আগে জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনকে ছুরি মেরে খুন করার অভিযোগ রয়েছে ২৪ বছর বয়সী রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে। রয়েছে পিৎজার দোকানে ডাকাতি, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ। তদন্ত, তথ্যাদিতে তা প্রমাণিতও হয়েছে আদালতে।

এত কিছুর পরেও বাবা হয়ে ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে দিলেন জিতমউদ। এই ঘটনা অপূর্ব ক্ষমার দৃষ্টান্তের পাশিপাশি ভিন্নরকম এক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।
 ট্রে আলেকজান্ডার রেলফোর্ড

রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ ছিল, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড  অথবা ৩১ বছরের কারাদণ্ড সাজা হওয়ার কথা। কিন্তু জিতমউদের বক্তব্য শুনে কিছুক্ষণ পর আদালতে ফিরে এসে বিচারক বানেল সাত বছরের কারাদণ্ড দেন খুনি রেলফোর্ডকে।

পরে আসামির কাডগড়ায় গিয়ে তাকে জড়িয়ে রেলফোর্ডের কানে-কানে সালাউদ্দিনের বাবা জিতমউদ বলেন, কোনো চিন্তা করো না। ইসলামকে স্মরণ করবে সব সময়। ভাবছ কেন? সময়টা দেখতে-দেখতে কেটে যাবে।

তিনি আরো বলেন, এরপর তোমার জীবনটা আবার নতুন করে শুরু হবে। একেবারে অন্যভাবে এবার জীবনটাকে গড়ে তুলবে। শুধু ভালো ভালো কাজ করবে এবার, আর সবাইকে ভালো কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে।

আবদুল মুনিম বলেন, সঠিক পথে চলবে সব সময়। জেল থেকেই ইসলামি জীবন শুরু করে দিতে পার। এভাবে সাত বছর পর তোমার ৩১ বছর বয়সে যখন তুমি জেল থেকে বেরিয়ে আসবে, তখন জীবনটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে পারবে।

এসব শুনে খুনি রেলফোর্ডের চোখে পানি চলে আসে, তিনি অনুতপ্ত হন। জিতমউদ তখনো তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন।

জিতমউদ তার পরিবার নিয়ে বর্তমানে থাকেন থাইল্যান্ডে। আগে অবশ্য তিনি বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন।

দেশটিতে বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করেছেন আবদুল-মুনিম সোমবাত জিতমউদ। লেক্সিংটন ইউনিভার্সাল অ্যাকাডেমীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনের লেক্সিংটনে একটা পিৎজার দোকান ছিল। প্রায় আড়াই বছর আগে সেখানে ২২ বছর বয়সী সালাউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন রেলফোর্ড। এসময় দোকান লুঠপাট করে ক্যাশবাক্স ভাঙচুর করা হয়েছিল।

পাঠক মন্তব্য () টি

কোস্টারিকায় ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে উত্তর আমেরিকার…

রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সঙ্কটের নিরসনে বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

মার্কিন সিনেটে মিয়ানমার সেনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

এছাড়া আগামী ১৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমার সফর করবেন বলে…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD