সর্বশেষ আপডেট ৮ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / সৌদি রাজপরিবারের সুনামি ও ক্ষমতার রূপান্তর

সৌদি রাজপরিবারের সুনামি ও ক্ষমতার রূপান্তর

প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:১৪ টা | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৭ ১৭:১৭ টা

মাসুমুর রহমান খলিলীঃ

সৌদি আরবে শক্তিশালী রাজপুত্র, সামরিক কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং সরকারি মন্ত্রীদের গ্রেফতারের একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। সমালোচকরা বলছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এর মাধ্যমে তার ক্ষমতা লাভের পথে কিছু সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলেন।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গত শনিবার রাতে কারাগারে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল এবং বাদশাহ আবদুল্লাহর দুই পুত্রও রয়েছেন। সাবেক বাদশাহ ফাহাদের এক পূত্রও এতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত একজন সৌদি সরকারি কর্মকর্তা জানান, ১১ জন প্রিন্স ও অন্য ৩৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সিনিয়র প্রিন্সদের গ্রেফতারে সৌদি আরবের অনেক গোত্র ও দলের মধ্যে শক্তি ও ঐক্য দেখানোর প্রচেষ্টায় নিজেদের মতবিরোধকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখার ব্যাপারে ক্ষমতাসীন আল সউদ পরিবারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের ব্যতিক্রম ঘটলো। এর মাধ্যমে এই বার্তা দেয়া হলো যে, ৩২ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তার পিতা বাদশাহ সালমানের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে সিনিয়র প্রিন্স ও সৌদি ব্যবসায়িক জায়ান্টদের লক্ষ্য করে ‘দুর্নীতি বিরোধী’ অভিযান পরিচালনা করছেন।

আটককৃতদেরকে রিয়াদে রাইট কার্লটন এ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকদিন আগে এখানে একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল আর তাতে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নিজে এবং বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়িক টাইটানরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।

সৌদি টুইটার অ্যাকাউন্টগুলিতে গ্রেফতারকৃত অন্য কয়েকটি নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আরবী স্যাটেলাইট গ্রুপ এমবিসি পরিচালনাকারী রাজকীয় সৌদি পরিবারের সাথে সম্পর্কযুক্ত সৌদি ব্যবসায়ী আলি ওয়ালীদ আল-ইব্রাহিম, সৌদি আরব জেনারেল ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রাক্তন প্রধান আমর আল-দাবাঘ, সাবেক অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আসাফ এবং সৌদী প্রধান ব্যবসায়িক জায়ান্ট বিন লাদেন গ্রুপের প্রধান বাকর বিন লাদেন রয়েছেন তাদের মধ্যে। এরা হলেন সৌদি আরবের প্রধান প্রধান খাতের শীর্ষ বিনিয়োগকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

অবিশ্বাস্য গ্রেফতারের এই অভিযানের ব্যাপারে সরকারী প্রচার মাধ্যম তাৎক্ষণিকভাবে প্রশংসা করে বলেছে যে, প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পালন করছেন, তিনি তেলের নির্ভরতা থেকে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়েছেন এবং অতিসম্প্রতি সমাজের কিছু কিছু দিক উদার ও উন্মুক্ত করেছেন। রাষ্ট্রের ধর্মীয় নেতাদের শীর্ষ পরিষদও রাতারাতি এক বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, এটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি ইসলামী কর্তব্য। মূলত উচ্চ স্তরের গ্রেফতারের উদ্যোগে ধর্মীয় সমর্থন প্রদানের লক্ষ্যে এই বিবৃতির ব্যবস্থা করা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি সরকার বলেছে যে, এসব গ্রেফতার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন বৃদ্ধির একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অংশ হিসাবে এটি করা হয়েছে। সৌদি জনগণ এর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বহু বছর ধরে ব্যাপক সরকারি দুর্নীতি এবং সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে আসছিল। অবশ্য এই আকস্মিক পরিবর্তনের পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সৌদি শীর্ষ উদ্যোক্তাদের গ্রেফতারের ফলে বিনিযোগ ও ব্যবসা ক্ষেত্রে যে শূন্যতা তৈরি হলো সেটি বহুজাতিক সংস্থাগুলো দিয়ে পূরণ হতে পারে। এতে সৌদি অর্থনীতিতে বাইরের অংশগ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণ দুটোই বাড়তে পারে।

আটকদের মধ্যে বাদশাহ আবদুল্লাহর দুই পুত্র প্রিন্স মিটেব বিন আব্দুল্লাহ ও প্রিন্স তুর্কি বিন আবদুল্লাহ রয়েছেন। মিটেবকে শনিবার সন্ধ্যায় মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল গার্ডের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এই বাহিনী আল সউদ রাজ পরিবারকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করে। আর প্রিন্স তুর্কি ছিলেন রিয়াদের সাবেক গভর্নর। প্রিন্স মিটেবকে একসময় সিংহাসনের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। যদিও সম্প্রতি তাকে প্রিন্স মোহাম্মদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আর ভাবা হতো না। সালমান বাদশাহ হবার পর মুকরিন বিন আব্দুল আজিজকে ক্রাউন প্রিন্স করা হয় আর সে পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেবার পর মোহাম্মদ বিন নাইফ ক্রাউন প্রিন্স হয়েছিলেন। তাকেও ক্রাউন প্রিন্স পদ থেকে সরিয়ে দেবার প্রস্তাবকে যে তিনজন সমর্থন করেননি তাদের অন্যতম ছিলেন প্রিন্স মিটেব।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজপরিবারের স্পর্শের উর্ধে থাকা সদস্যদের গ্রেফতারের এই ঘটনায় একটি লক্ষণ সুস্পষ্ট যে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদের সিংহাসনে বসার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তাদের হয়তো আপোষ করতে হবে নয়তো সব কিছু থেকে ছিটকে পড়তে হবে।

এদিকে সৌদি মালিকানাধীন দুবাই ভিত্তিক স্যাটেলাইট নিউজ চ্যানেল আল-আরাবিয়া সোমবার জানিয়েছে যে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রিন্স মনসুর বিন মুরকিন ও অন্য সাতজন নিহত হয়েছে। প্রিন্স মনসুর সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রাক্তন মহাপরিচালক ও এক সময়ের ক্রাউন প্রিন্স মুকরিন বিন আব্দুল আজিজের ছেলে। কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ক্র্যাশ হবার কোন কারণ জানায়নি।

এর আগে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরী জরুরি সফরে সৌদি আরব যাবার পর সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেবার খবর প্রচার করা হয়। সাদ হারিরীর সৌদি আরবের নাগরিকত্বও রয়েছে । তিনি সৌদি আরবে শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের একজন। প্রধানমন্ত্রীর পদের চাইতে সৌদি আরবে তার বিনিয়োগ সাম্রাজ্য রক্ষা করাটা তার কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রিন্সদের গ্রেফতারের বিষয়টি আগে থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানতো কিনা তা স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা এবং হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জেরেদ কুশনার এবং অন্যরা সম্প্রতি রিয়াদে এক অঘোষিত সফর করেছেন। এই সফরের পর পর গ্রেফতারের ঘটনা ঘটায় অনেকে তার সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করছেন। অবশ্য শনিবার সকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি বাদশাহ সালমানের সাথে কথা বলেছিলেন, যদিও হোয়াইট হাউসের বক্তব্যে গ্রেফতারের কোনও রেফারেন্স অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

ওয়াশিংটনের রক্ষণশীল থিংক ট্যাংক দ্য ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস এর সিনিয়র কাউন্সিলর জন হান্না বলেন, চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং দুর্নীতির অভিযোগগুলোকে নিজের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে সংহত করতে যেভাবে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছেন সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও সেটিই দেখা গেছে।

হান্নাহ বলেছেন, প্রিন্স মোহাম্মদ তাঁর ক্ষমতা সংহত করা এবং তাঁর নিজের মতো করে শাসনকে পুনর্নির্মাণ করার উপায় হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানকে ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ৮২ বছর বয়সি পিতার কাছ থেকে ক্ষমতা লাভের পথে সম্ভাব্য প্রতিরোধকে ভেঙে দিয়েছেন।

অবশ্য এখনো পরিস্কার নয় প্রিন্স আলওয়ালিদ বা অন্যদের বিরুদ্ধে কি ধরনের তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের নাম উল্লেখ না করে, এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বলেছে, সন্দেহভাজনদেরকে অন্য সৌদি নাগরিকদের মতো একই অধিকার ও ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে তদন্ত সম্পর্কে নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখনো কারো কোন সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি এবং দোষী সাব্যস্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপ নাও নেয়া হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী কূটনৈতিক অংশীদারদের খুশি করতে অস্ত্র কেনা ও সে সব দেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি সরকারের অনেক অর্থের প্রয়োজন। এর একটি অংশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আরামকোর শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালালের কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী বলেন যে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যে প্রিন্স ওয়ালিদও রয়েছেন সেটি নিরাপত্তা বাহিনী তাকে জানান। প্রিন্স আলওয়ালিদ এর টুইটার, অ্যাপল, সিটিগ্রুপ, এবং ফোর সিজনচেইন হোটেলসহ অনেক আান্তর্জাতিক বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি লিফট ও করিমেরও অন্যতম বিনিয়োগকারী। তিনি রূপার্ট মারডকের সংবাদ কর্পোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিলেন, অবশ্য ২০১৫ সালে এর বেশিরভাগ শেয়ার বিক্রি করে দেন। ওয়ালিদ সবচেয়ে স্পষ্টভাষী সৌদি প্রিন্সদের একজন এবং দীর্ঘকাল ধরে নারী অধিকারের সমর্থক। তিনি আরবি জনপ্রিয় চ্যানেল রোটানা গ্রুপের মালিক। গ্রেফতারের পর সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জে রবিবার বিকেলে তার কোম্পানির শেয়ার ৭.৬ শতাংশ কমে যায়।

এর আগে এই বছরের প্রথম দিকে বিন সালমানের ধর্মীয় নেতা এবং কম পরিচিত প্রিন্সদের উপর চালানো অভিযান সমালোচনার মুখে পড়েছিল। যুবক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ তার বাবা বাদশাহ হবার তিন বছরেরও কম সময়ে সৌদি আরবে ক্রমেই অপ্রতিদ্বন্দি হয়ে উঠেছেন। তিনি তরুণদের দিয়ে তার প্রশাসন সাজাচ্ছেন এবং অভিজ্ঞ ও বয়স্ক প্রিন্সরা ক্ষমতা থেকে একে একে বিদায় গ্রহণ করছেন। যদিও নতুনদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজকীয় পরিবারের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সামনে রাখা হচ্ছে। তবে প্রশাসন থেকে অভিজ্ঞরা নানাভাবে বিদায় নিচ্ছেন।

এর আগে সৌদি প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্ট হিসাবে পরিচিতদের বিদায় করা হয়েছে। বিদায়ের এই প্রক্রিয়া বাদশাহ আবদুল্লাহর সময় শুরু হলেও সালমান বাদশাহ হবার পর সাময়িকভাবে এতে বিরতি পড়ে। মোহাম্মদ বিন সালমান কর্তৃত্বশালী হবার পর এই প্রক্রিয়া আবার গতি লাভ করলো। ব্রাদারহুডের পাশাপাশি অন্য ইসলামিস্টরাও সৌদি প্রশাসনে এখন গুরুত্ব হারাচ্ছেন।

নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান নতুন গ্রেফতার অভিযানের আগে তার দেশকে মধ্যপন্থী ইসলামের পথে নিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা দেবার পর সৌদি নারীদের গাড়ি চালানো এবং বৈধ অভিভাবক ছাড়া বিপনি বিতানে যাবার উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। একইসাথে বিভিন্ন সৈকতে পোশাক পরিধানের ব্যাপারে অনেক বিধি নিষেধ তুলে নেয়া হয়। এছাড়া বিপুল বিনিয়োগে একটি পর্যটন শহর তৈরির ঘোষণাও দেয়া হয়েছে যেখানে সৌদি অথবা ধর্মীয় বিধিনিষেধের নিয়ন্ত্রণ অকার্যকর থাকবে।

ব্রাদারহুড ও ইসলামিস্টদের পরিবর্তন করে লিবারেল ও সেক্যুলারদের সৌদি প্রশাসনে বসানোর ফলে এর আগেই প্রশাসনে দক্ষতার এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এখন রাজপরিবারের প্রভাবশালী সদস্যদের ব্যাপকহারে বিতাড়নের ফলে দক্ষতার ঘাটতি আরো বাড়তে পারে। এটাকে সৌদি সমাজের রূপান্তরের একটি বড় পদক্ষেপ হিসাবে মনে করা হচ্ছে। এক এগারোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলসহ পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ কট্টর ওয়াহাবি ধ্যানধারণা পরিত্যাগ করে গণতান্ত্রিক ও রাজতন্ত্রের মিশেল একটি ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। মরক্কো জর্দানসহ বেশ ক’টি দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের নতুন পদক্ষেপের প্রভাব অভ্যন্তরীণভাবে পড়ার সাথে সাথে প্রতিবেশি দেশেও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষত রাজপরিবারের যে সব প্রভাবশালী সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা বিন সালমানের কাতার নীতিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেননি। যদিও সৌদি রীতি অনুযায়ী তারা সরকারের নীতির কোন সমালোচনাও করেননি। এ কারণে নতুন পদক্ষেপের পর ধারণা করা হচ্ছে কাতারে শাসন পরিবর্তনের ব্যাপারে সৌদি প্রচেষ্টা গতি পেতে পারে। এর মধ্যে বাইরাইন প্রায় ১৫ বছর আগে আন্তর্জাতিক আদালতে নিষ্পত্তিকৃত কাতারের একটি দ্বীপে তার মালিকানার দাবি নতুন করে উত্তাপন করেছে। এটি কাতারকে আরো চাপে ফেলা অথবা যুদ্ধে জড়ানের একটি চেষ্টা হিসাবেও কেউ কেউ দেখছেন।

সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রশাসন অনেকগুলো প্রতিপক্ষ একসাথে তৈরি করেছে। অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিকভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের শক্তিকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা নিয়ে এই রাজনৈতিক শক্তিকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালানোর কারণে সেখানকার হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। সেখান থেকে রিয়াদ বিমান বন্দরকে লক্ষ্য করে একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। প্রতিবেশি কাতারের বিরুদ্ধে সহযোগি দেশগুলোকে সাথে নিয়ে সর্বাত্বক বয়কট চালানো এবং সেখনে শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় হাত দেয়ার মাধ্যমে কাতার-তুরস্ক শক্তিকে বিপক্ষে দাঁড় করানো হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আগে থেকেই অধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলে আসছে যার প্রভাব সিরিয়া ইয়েমেন ও ইরাকে এখনো রয়েছে। এর বাইরে সৌদি রাজপরিবারের প্রভাবশালী সদস্যদের নতুন করে প্রতিপক্ষ বানানো হয়েছে। আর এই লড়াইয়ে জিতে ক্ষমতাকে সুসংহত করতে গিয়ে তরুণ ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে সৌদি আরবের পাশ্চাত্য ও ইসরাইল নির্ভরতা অনেক বাড়তে পারে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ইসরাইলের সাথে এক পর্যায়ে কুটনৈতিক সম্পর্কও স্থাপন করতে হতে পারে রিয়াদের।

মাসুমুর রহমান খলিলী: উপ সম্পাদক, দৈনিক নয়াদিগন্ত

পাঠক মন্তব্য () টি

জেরুসালেমের জন্য তৃতীয় ইনতিফাদা

ট্রাম্পের নিজের ক্ষমতা সংহত করা ছাড়া এর পেছনে আর অন্য কোনো উদ্দেশ্য…

জেরুসালেমের পর কি মক্কা?

ট্রাম্পের ঘোষণা হবে পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক চুক্তির পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার একটি…

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কতদূর?

চীনকে রোহিঙ্গাদের কার্যকর পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD