সর্বশেষ আপডেট ১১ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / অর্থনীতি / বিদ্যুত-জ্বালানি / গ্যাসের দাম দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ছে

গ্যাসের দাম দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ছে

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০১৭ ১৯:০৪ টা

অর্থনীতি ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ

আগামী বছর থেকে বিভিন্ন খাতের গ্যাসের দাম এক তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়বে। এর ফলে জীবন যাত্রার ব্যয়ও বাড়বে।

গ্যাস সঙ্কট সমাধানে বিদেশ থেকে আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজির ব্যয় মেটানোর জন্য দাম বাড়ানোর এই পরিকল্পনা করেছে সরকার।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিট প্রতি গ্যাসের দাম গৃহকর্মে ৯.১ টাকা থেকে বেড়ে ১১.২ টাকা, সিএনজিতে ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৫১.৭ টাকা, শিল্পখাতে ৭.৭৬ থেকে বেড়ে ১৪.৯ টাকা, বাণিজ্যিক খাতে ১৭.০৪ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা, বিদ্যুৎখাতে ৩.১৬ টাকা থেকে বেড়ে ৪.৯৯ টাকা, সার কারখানায় ২.৭১ থেকে বেড়ে ৪.৭৫ টাকা,  কেপটিভ পাওয়ারে ৯.৬২ টাকা থেকে বেড়ে ১৪.৯৮ টাকা এবং চা বাগানে ৭.৪২ টাকা থেকে বেড়ে ১২.১০ টাকা দাঁড়াবে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের এপ্রিলে এলএনজি আমদানি শুরু হবে। ওই বছরের অক্টোবরের মধ্যে এ এলএনজির মাধ্যমে দেশের গ্যাস চাহিদার এক তৃতীয়াংশ পূরণ করা হবে।

গ্যাস আমদানির জন্য বার্ষিক খরচ পড়বে তিনশ’ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মূদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল আমদানি ব্যয় মেটাতে দেশের বৈদেশির মুদ্রার একটা উল্লেখযোগ্য অংশেও টান পড়বে।

এর ফলে পেট্রোবাংলার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিদিন বিদ্যুৎ-সার উৎপাদন এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে যে দশ লাখ কিউবিক ফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস ব্যবহৃত হয় তার মূল্য এক তৃতীয়াংশ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়াতে হবে।

আর এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সবকিছুর ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গিয়ে জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে যাবে।

তবে এ সত্ত্বেও ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস আমদানির ফলাফল মোটের ওপর ভালো হবে। কারণ এর ফলে প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক।

পেট্টোবাংলার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই গ্যাস আমদানি অর্থনীতিতে যে অবদান রাখবে তা দুই লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার সমান।

সহজ কথায় এলএনজি আমদানির ফলে দেশের শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানাসহ অন্য সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারবে।

পেট্টোবাংলার মতে, বর্তমানে দেশে বার্ষিক ২৭০০ এমএমসিফিড প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ হয়। যা দেশের প্রকৃত চাহিদার চেয়ে ৮০০ এমএমসিফিড কম।

ফলে গ্যাস স্বল্পতার দরুণ বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদনে যেতে পারছে না। বহু শিল্প ইউনিট ঠিক মতো চলতে পারছে না এবং বিভিন্ন সার কারখানা কয়েক মাসের জন্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় সম্প্রতি সরকার কাতার থেকে প্রাইসিং পদ্ধতি অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করার জন্য চুক্তি করেছে।

পেট্টোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, ৫০০ এমএমসিফিড গ্যাস আমদানির জন্য প্রতি বছর ১২ হাজার ৭২০ কোটি টাকা খরচ হবে। আর ১০০০ এমএমসিফিড গ্যাস আমদানির জন্য প্রতি বছর খরচ হবে ২৫ হাজার কোটি বা ৩০০ কোটি ডলার।

আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের এপ্রিলের কক্সবাজারের মহেশখালিতে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি নির্মিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে এই গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।

এই টার্মিনালে  আমদানি করা এলএনজি গ্যাস তরলিকৃত করে রাখা হবে এবং এখান থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। দি ডেইলি স্টার

পাঠক মন্তব্য () টি

বিদ্যুতের দাম ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব ওজোপাডিকো'র

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে…

বিদ্যুতের দাম বাড়ছে ৫ শতাংশ: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

নসরুল হামিদ বলেন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা পর্যন্ত…

'সরকারি বিদ্যুৎপরিকল্পনার ঋণনির্ভর, পরিবেশবিধ্বংসী'

নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিয়ে ও প্রকৃতি সংরক্ষণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছে…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD