সর্বশেষ আপডেট ১৩ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / ফিচার / আধ্যাত্মিকতা / পবিত্র আশুরা আজ

পবিত্র আশুরা আজ

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০১৭ ১১:০৫ টা | আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০১৭ ১২:০৮ টা

বার্তা ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ

আজ ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী একটি দিন। বিশ্ব ইতিহাসেও এটি একটি বর্বরতম ঘটনার জন্য স্মরণীয় দিন।

আজকের এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে সাইয়েদেনা হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) হক ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এবং ইসলামের শত্রু ও বাতিল ইয়াজিদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে নির্ভীকভাবে শাহাদতের অমীয় সুধা পান করে ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে দাঁড় করিয়ে গেছেন।

এজন্যই আল্লামা ইকবাল (রহ.) বলেছেন, 'ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকা বাদ'।

এ মহান দিনে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এর শাহাদতের মাধ্যমে ইসলামকে জিন্দা রাখার জন্য যে রক্ত প্রবাহ শুরু হয়েছিল নতুন নতুন ইয়াজিদ বাহিনীকে প্রতিহত করতে সে রক্ত প্রবাহের ধারা অব্যাহত থাকবে।

'নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া/আম্মাগো লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া/কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে/সে কাঁদনে আঁসু আনে সীমারের ছোরাতে।'

ঈমানের বলে বলীয়ান এবং সত্য ও ন্যায়ের সাধক হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) হক ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে অন্যায় ও সত্যের বিরুদ্ধে থেকে নির্ভীকভাবে শাহাদতের অমীয় সুধা পান করে পৃথিবীর বুকে চির অমর হয়ে আছেন।

যতদিন পৃথিবীসহ আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকূল থাকবে, ততোদিন তার নাম ও কীর্তি পৃথিবীজুড়ে অভিনন্দিত ও অনুকরণীয় হতে থাকবে। সাইয়েদেনা হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) প্রমাণ করে গেছেন, অন্যায় ও অসত্যের কাছে কখনও মাথা নত করা যাবে না।

সত্য তথা হক প্রতিষ্ঠায় মাথা উঁচু করে প্রাণ উৎসর্গ করলে আদর্শ প্রতিষ্ঠাসহ জগতের বুকে চির অম্লান ও উজ্জ্বল থাকা যায়। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার মাধ্যমে এ শিক্ষাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা মুসলিম উম্মাহর অগ্রযাত্রায় নবতর চেতনার উন্মেষ এবং রাব্বুল আলামীনের প্রদর্শিত পথে চলার ক্ষেত্রে ত্যাগ স্বীকারের জন্য যুগে যুগে ইসলামের উত্থানে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছে।

আশুরার দিনে কারবালা প্রান্তরে প্রতিটি ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণময় ও তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তাইতো আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উপলব্ধি ছিল 'শির দেগা, নেহি দেগা আমামা'। কারবালার মত লড়াই যুগে যুগে চলতেই থাকবে। এখনো চলছে মুসলিম দেশে দেশে।

পবিত্র আশুরার দিনটি বৈশিষ্ট্যময় হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো হচ্ছে এই দিনে জগৎ সৃষ্টির সূচনা হয়। এ দিনেই (শুক্রবার) মহাপ্রলয়ের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংস হবে।

এই দিনেই হযরত আদম (আ.)কে জান্নাত থেকে পৃথিবীর বুকে অবতরণ করানো হয়। এই দিনেই আল্লাহ তায়ালা তার তওবা কবুল করেছিলেন। হযরত নূহ (আ.) এদিনেই মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পেয়ে নৌকা থেকে পৃথিবীর বুকে আবার অবতরণ করেছিলেন।

এই দিনে হযরত ইদ্রিস (আ.) সশরীরে জান্নাতে প্রবেশ করেন। হযরত আইয়ুব (আ.) দীর্ঘদিন কঠিন রোগ ভোগের পর এদিনে রোগমুক্ত হন।

এই দিনেই হযরত ইউনূস (আ.) মাছের পেট থেকে বের হয়ে রক্ষা পেয়েছিলেন। আশুরার দিনে হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহ তায়ালার অশেষ কুদরতে নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে ৪০ দিন অবস্থান করে সুস্থ অবস্থায় বেরিয়ে আসেন।

এই দিনে হযরত দাউদের (আ.) তওবা কবুল হয় এবং হযরত সোলায়মান (আ.) বাদশাহী লাভ করেন। ১০ মহাররমে হযরত ইউসুফ (আ.) তার পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.) এর সাথে মিলিত হন।

আশুরার দিনেই হযরত মূসা (আ.) আল্লাহ তায়ালার সাথে কথা বলেছিলেন। এই দিনেই আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইল সম্প্রদায়কে ফেরাউনের বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করেন এবং লোহিত সাগরে ফেরাউন ও তার বাহিনীর সলিল সমাধি ঘটান।

পবিত্র আশুরার দিনেই আল্লাহ তায়ালা হযরত ঈসাকে (আ.) শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেন। বিভিন্ন বর্ণনা মতে, এদিনে ২ হাজারের মত পয়গমম্বরগণের জন্ম হয়েছিল, এবং এদিনেই উনাদের দোয়া কবুল হয়েছিল।

আশুরার দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার দিন। ১০ মহররমের পূর্ব দিনের দিবাগত রাত পবিত্র আশুরার রাত। এ রাতে সকল নবীগণের দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন।

আশুরার এ রাতে মহান আল্লাহতালা উম্মতে মোহাম্মদীগণের দোয়া কবুল করেন। তাই আশুরার দিনসহ আগে বা পরে আরো একটিসহ মোট দুই দিন রোজা রাখার কথা বলেছেন, আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)।

রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার পর রমজানের রোজা ছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোজা হচ্ছে আশুরার রোজা।

রাসূল (সা.) আশুরার দিনের প্রশংসা করে বলেছেন, আশুরার দিনের সম্মানে মুমিনগণ রোজা রাখলে দোজখের আগুন তাদের স্পর্শ করবে না। আশুরার দিনে ১০ আয়াত কুরআন তেলাওয়াতকারী সারা বছরের কুরআন তেলাওয়াতের ছোয়াব পাবে। যে আশুরার দিনে রোজা রাখলো, সে যেন সারাজীবন রোজা রাখলো। আশুরার দিনে ৪ রাকাত নফল নামাজ নিম্নরূপে আদায় করলে পেছনের ৫০ বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। ৪ রাকাত নফল নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ২৫ বার সূরা এখলাস পড়তে হবে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল ও মাতম করে শোক প্রকাশ করেন শিয়া সম্প্রাদায়ের লোকজন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

অপর দিকে গত ২০১৫ সালে আশুরার দিনে পুরান ঢাকার হোসনি দালান থেকে মিছিল বের করার প্রাক্কালে সন্ত্রাসী হামলার কারণে এবার আশুরার কর্মসূচিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

হোসাইনি দালান এলাকায় এবার আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাজিয়া মিছিল ও আশুরার কর্মসূচিতে দা, কাচি, ছুরি বা ধারালো কোনো অস্ত্র না নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ধ্যার আগেই কর্মসূচি শেষ করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পাঠক মন্তব্য () টি

হজের নতুন খতিব শায়খ ড. সাআদ বিন আন নসর

বুধবার থেকে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ আদায়ের পর…

আজ পবিত্র হজ

আজ পবিত্র হজ। 'লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা…

রমজানে নিয়মিত রোজা রাখে এ হিন্দু পরিবার

বারাসতে দেশান্তরী খুলনার বসু পরিবারের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে একটি মসজিদ।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD