সর্বশেষ আপডেট ১৩ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / ব্লগ / রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলে সহযোগী সেই রেনেটা

রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলে সহযোগী সেই রেনেটা

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ২২:৩৬ টা

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানঃ

রেনেটা লক-ডেসালিয়েন এর কথা বাংলাদেশের মানুষের ভোলার কথা নয়। ২০০৭ সালে ১/১১ ঘটানোর নেপথ্যে ছিলেন সেই সময় বাংলাদেশে কর্মরত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনকারী এই কানাডিয়ান।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী তিনি একটি মিথ্যা চিঠি তৈরী করেন। যে চিঠিতে তিনি জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ইব্রাহিম গামবারির উদ্ধৃতি দিয়ে জানান যে, বিরোধী দলকে (আওয়ামী লীগ) বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন করা হলে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত সকল সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের ফেরত পাঠানো কথা বিবেচনা করবে জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ।

এই চিঠির রেফারেন্স দিয়েই মইন ইউ আহমেদ সংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে উৎখাত করেছিলেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তর এবং আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেলের দপ্তর থেকেও জানানো হয়েছিল, বিষয়টি ছিল মিথ্যা।

রেনেটা লক-ডেসালিয়েন ২০১৪ সাল থেকে মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের দায়িত্ব করেছেন এবং এই সময়ে তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত মিয়ানমার সরকার ও জঙ্গী বৌদ্ধদের জাতিগত নির্মুল প্রক্রিয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেবার সব ধরণের চেষ্টা করে গেছেন।

গতকাল বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জাতিসংঘের এবং অন্যান্য মানবাধিকার কর্মীরা যাতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে যেতে না পারেন, সব সময় সেই চেষ্টা করতেন মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনেটা লক-ডেসালিয়েন।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যেন প্রকাশ্যে কোন আলোচনা না হয়, তিনি সেটাও সব সময় নিশ্চিত করতেন। আরাকানে রোহিঙ্গাদের উপর পরিচালিত জাতিগত নির্মূল অভিযানের বিষয়ে মিয়ানমারে কর্মরত জাতিসংঘের যে কোন পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা সতর্ক সদরদপ্তরকে সতর্ক করার চেষ্টা করলেই তাকে সরিয়ে দিতেন এই রেনেটা।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের অফিসে প্রধান কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন ক্যারোলাইন ভ্যান্ডেনাবিলে। মিয়ানমারে দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পরপরই একদল বিশেষজ্ঞের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি, যেখানে রাখাইন ও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ আসে। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “বার্মিজ একজন ওই বৈঠকে বলেন, রোহিঙ্গাদের সবাইকে কুকুরের মত মেরে ফেলা উচিৎ। মানুষের এরকম অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি হল একটা লক্ষণ। এর মানে হল, সমাজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এসব স্বাভাবিক হিসেবেই গণ্য হতে পারে।”

২০১৪ সালে রেনেটা মিয়ানমারে যোগ দেবার পর থেকেই তিনি ক্যারোলাইন ভ্যান্ডেনাবিলের কাজে বাঁধা দিতে থাকেন। রেনেটা যোগ দেবার পর থেকে মিয়ানমার সরকারের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক জাতিসংঘের অনেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই এড়িয়ে যাওয়া হত, এর পরিবর্তে সরকারের ভাষায় লেখা হতো ‘বাঙালি’ এবং ‘অবৈধ অভিবাসী’। ওই সময় জাতিসংঘের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে ‘অন রেকর্ড’ কথা বলতে পারতেন না। এমনকি নিজেদের মধ্যে রূদ্ধদ্বার বৈঠকেও তারা রোহিঙ্গাদের সমস্যার বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন বলে জাতিসংঘের এক অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে।

বর্তমানে উত্তর কোরিয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বে থাকা টমাস কুইনতানা ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছয় বছর মিয়ানমারে একই দায়িত্বে ছিলেন। ইয়াংগন বিমানবন্দরে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনেটা লক-ডেসালিয়েনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে কী কথা হয়েছিল, সেই বিবরণ তিনি বিবিসিকে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাকে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, রাখাইনে যাওয়া আমার উচিৎ হবে না, সুতরাং আমি যেন সেখানে না যাই। আমি এর কারণ জানতে চাইলাম, বিষয়টা ছিল আসলে এরকম, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধে জড়ানো যাবে না।”

নিষেধের পরও কুইনতানা রাখাইনে গিয়েছিলেন। এর ফলে তার মিশনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন আবাসিক সমন্বয়ক ডেসালিয়েন। মিয়ানমারে তাদের আর কখনও দেখা হয়নি।

রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের করা একটি প্রতিবেদন ফাঁস হওয়ার পর তা হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিবিসি। ‘স্লিপারি স্লোপ: হেলপিং ভিকটিমস অর সাপোর্টিং সিস্টেম অব অ্যাবিউস’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারে জাতিসংঘ দপ্তরের রোহিঙ্গা নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।

রেনেটার অধীনে “জাতিসংঘের কান্ট্রি টিম অতি সরলীকৃত এক ধারণা থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো দেখছে। তারা মনে করছে, উন্নয়ন হলেই ওই এলাকার উত্তজেনা কমে আসবে। কিন্তু তারা এটা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে যে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের পরিচালিত পক্ষপাতদুষ্ট একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করার অর্থ হল বৈষম্যকেই আরও পোক্ত করা।”

জাতিসংঘের আরও কিছু নথিতে একই ধরনের উপসংহার এসেছে। বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত এপ্রিলে তার কর্মীদের একটি মেমো তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে মিয়ানমারে জাতিসংঘের কান্ট্রি টিমকে চিহ্নিত করা হয় ‘অকার্যকর’ হিসেবে।

ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর জাতিসংঘ ডেসালিয়েনকে মিয়ানমারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। কিন্তু তারপর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তিনিই মিয়ানমারে জাতিসংঘের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, কারণ তার বদলে জাতিসংঘ মনোনীত নতুন সমন্বয়ককে নিয়ে মিয়ানমার সরকার আপত্তি তুলেছে।

সোজা কথায়, রেনেটা লক-ডেসালিয়েন মিয়ানমারে জাতিসংঘের কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং মিয়ানমারের খুনী সরকার ও জঙ্গী বৌদ্ধদের ভাড়াটে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছে। সেই কারণেই তার বদলির আদেশ বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছেনা মিয়ানমারের সরকার।

এমন খুনীদের পৃষ্ঠপোষক এবং মিথ্যুক জালিয়াত কিভাবে জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, সেটাই আশ্চর্য বিষয়!

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান: বিশ্লেষক, শিক্ষক ও রাজনীতিক

পাঠক মন্তব্য () টি

বিনিয়োগের ধারণায় চীনের নতুন চমক

কোন বিরতি ছাড়াই পাঁচ বছর নেপালে ‘বোধিছায়া’ নামের নাটকটির মঞ্চায়ন হবে।

কেন হানাফী মাজহাবের অনুসারী হলাম

চার ইমামের কারো যোগ্যতা কি ইমাম আলবানীর চেয়ে কম ছিল?

কারা ফটকের সামনে একটি ঈদ

সেদিনের ঈদটা এভাবে শুরু হয়নি। কারণ আম্মু ছিল কারাগারের মেহমান।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD