সর্বশেষ আপডেট ১৩ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / কুর্দিদের ভবিষ্যৎ

কুর্দিদের ভবিষ্যৎ

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৯:২০ টা

গ্রাহাম ই. ফুলারঃ

গত শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বিদেশী শক্তির নানা যুদ্ধ-আগ্রাসনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সব মানুষই নিপীড়নের শিকার হয়েছে; সম্ভত তাদের মধ্যে কুর্দিরাই একমাত্র জনগোষ্ঠী যারা সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জাতীয়মুক্তির ইস্যুতে অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রতিটি ঘটনাতেই তারা নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, তারা নিজেদের আকাঙ্খাকে বিশ্ব মানচিত্রের মধ্যে দৃঢ়তার সঙ্গে জুড়ে দিতে পেরেছে আর বড় বড় শক্তিগুলোরে হিসাব-নিকাশের মধ্যে নিজেদের প্রতি মনযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
 
১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত আট বছর ইরান-ইরাক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে উত্তর ইরাক, এমনকি ইরানেও কার্যত স্বায়ত্তশাসন অর্জন করা যায়, এমন কিছু ফায়দা লুটে নিয়েছিল কুর্দিরা। এরপর ১৯৯০ সালে কুয়েতে আগ্রাসনের সময় তুর্কি সীমান্তবর্তী উত্তর ইরাকে নো ফ্লাইজোন তৈরির মধ্য দিয়ে সাদ্দাম হোসেন কুর্দি অঞ্চল থেকে কার্যত বহিষ্কার হয়ে পড়েন। এরপর ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে যে নৈরাজ্য তৈরি হয় তা ইরাকি কুর্দিদের কার্যত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কায়েমের নতুন সুযোগ এনে দেয়। অবশেষে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ সিরীয় কুর্দিদের  ভূরাজনৈতিক সমীকরণে এমন একটি পক্ষ করে তুলেছে যার ফলে তুরস্কের প্রচণ্ড অসন্তোষ উপেক্ষা করেই সিরীয় কুর্দি যোদ্ধারা শেষ পর্যন্ত দায়েশবিরোধী আন্তর্জাতিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সিরিয়ার কুর্দিরা এখন উত্তর সিরিয়ায় তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।

কুর্দিরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এথনিক জাতিগোষ্ঠী, তাদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন কোটি, কিন্তু তাদের কোনো নিজস্ব রাষ্ট্র নেই। তারা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, এরমধ্যে তুরস্কে প্রায় দেড় কোটি, ইরাকের ষাট লাখ, ইরানে ষাট লাখ এবং সিরিয়ায় প্রায় কুড়ি লাখ কুর্দি বসবাস করে।

কুর্দিরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে?

কুর্দিরা কখনোই প্যান-কুর্দি সংহতি অর্জন করেনি। এর প্রধান কারণ হলো তারা এমন পাহাড়ী অঞ্চলে বসবাস করে, যা বিভিন্ন গোত্রপ্রথা ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে বিভক্ত। আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা যেসব রাষ্ট্রে বসবাস করে সেসব রাষ্ট্র তাদের কোনো ধরনের স্বাধীনতা নাকচ করার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অবিচল।

এছাড়াও কুর্দিরা ঐতিহাসিকভাবে তিনটি ব্যাপকভাবে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিভক্ত। তাহলো তুরস্কে তুর্কি ভাষী কুর্দি, সিরিয়া ও ইরাকে আরবি ভাষী কুর্দি এবং ইরানে ফারসিভাষী কুর্দি। এ তিন ভাষাই সম্পূর্ণ আলাদা এবং কোনোটিই কোনোটির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আর কুর্দি ভাষা নিজেই ইরানি ভাষাশ্রেণীর একটি, যার অন্তত তিনটি আলাদা উপভাষা (ডায়ালেকট) আছে। কুর্দিরা যেসব ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে তা সাধারণত তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার শহুরে কেন্দ্রগুলি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, আর কুর্দিরা অনেক বেশি আদিবাসী জীবন যাপন করে, এবং শহরবাসী কুর্দিদের বাদ দিলে অন্যদের মাঝে সামন্ত ধাচের সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।

এ শতাব্দীর প্রথম দিকে কুর্দিদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে তুরস্ক বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছিল। এমনকি পঁচিশ বছর আগে তুর্কি সংবাদ মাধ্যমে ‘কুর্দ’ শব্দটির কদাচিৎ ব্যবহার করা হতো। আতাতুর্ক কামালপন্থী প্রথা ও সরকার ব্যবস্থায় অভিযোগ করা হতো কুর্দিরা হলো একটি পশ্চাদপদ পাহাড়ি জাতি যারা তুরস্কে নৈরাজ্য ও রাহাজানিতে লিপ্ত।  কিন্তু বর্তমানে, বিশেষ করে রজব তৈয়ব এরদোগান নেতৃত্বাধীন একেপি সরকারের প্রথম দিককার দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছিল। যেমন ওই সময় সরকারিভাবে কুর্দিদের জাতীয়তার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল, এক সময় জনপরিসরে কুর্দি ভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ থাকলেও এরদোগান কুর্দিদের নিজস্ব ভাষা ব্যবহারের স্বাধীনতা দিয়েছেন। এমনকি স্কুলগুলোতে তুর্কি ভাষার পাশাপাশি কুর্দি ভাষায় পাঠদানেরও নিরীক্ষা হয়েছে। দুঃখজনকভাবে পরবর্তী বছরগুলোতে এরদোগান ও কুর্দি গেরিলা গ্রুপগুলো পরষ্পরের পতনের জন্য অন্যদের সঙ্গে দেনদরবার করে বেড়িয়েছে। যেমন এরদোগান জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান জোরালো করতে তুর্কি জাতীয়তাবাদী কার্ড খেলেছেন।  অন্যদিকে প্রধান কুর্দি সশস্ত্র মার্কসবাদী মিলিশিয়া-পিকেকে তুরস্কের ভিতরেই বিদ্রোহী তৎপরতা চালাতে শুরু করেছে। এখন উভয় পক্ষের মধ্যেই তীব্র উত্তেজনা এবং সহিংস পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে এরদোগান তার কর্তৃত্ববাদী অবস্থানকে জোরদার করতে তুরস্কের প্রগতিশীল কুর্দি নতুন রাজনৈতিক দল এইচডিপির পুরো নেতৃত্বকেই ধরাশয়ী করেছেন।

ইরাকে কুর্দিরা বেশ কয়েকবার স্বায়ত্তশাসন লাভের ব্যাপারে সাফল্য অর্জন করেছে, বিশেষত সাদ্দাম ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর। আঙ্কারার সাফল্য হলো তারা শেষ পর্যন্ত বুলেটকে হারিয়েছে এবং বুদ্ধিমানের মতো ইরাকের কুর্দিদের অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিয়েছে। যথার্থই ইরাকি কুর্দিস্তানকে নিজের অর্থনীতির কক্ষপথে টেনে নিয়ে কুর্দিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক বাণিজ্য চুক্তির প্রতিনিধিত্ব করছে তুরস্ক।




সিরিয়ার টালমাটাল অবস্থার সুযোগ নিয়ে দেশটির কুর্দিরা তুর্কি-সিরীয় সীমান্তে রোজাভা নামে একটি নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম দিয়েছে।  তারা মূলত তুরস্কের কুর্দি গেরিলা দল পিকেকের সঙ্গে মিত্রতায় আবদ্ধ মিলিশিয়া সংগঠনের জোট ওয়াইপিজির প্রতিনিধিত্ব করে। তারা অবশ্য দায়েশবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করে থাকে। মূলত সিরীয় কুর্দিদের বড় সংখ্যকই১৯৩৭ সালে তুর্কি আর্মির হত্যাযজ্ঞের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থী, ওই ঘটনার জন্য ২০১১ সালে এরদোগান কুর্দিদের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু আঙ্কারা রোজাভার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেয় এবং সিরীয় কুর্দি মিলিশিয়াদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। সিরিয়ায় নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে উত্তর সিরিয়াতে কোনো ধরনের  স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তুর্কি।

আগেকার কুর্দি নেতৃবৃন্দ ও রাজনীতিকরা ছিলেন রক্ষণশীল ও ঐতিহ্যবাদী, তারা গোত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে আঞ্চলিকভাবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ১৯৮০ সালে কুর্দিস্তান ওয়ার্কাস পার্টির (পিকেকে) নেতা আবদুল্লাহ ওসালান যখন কুর্দি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি মার্কসবাদী প্যান-কুর্দি রূপকল্প তুলে ধরে সকল কুর্দির মুক্তির জন্য একটি কুর্দি রাষ্ট্র গঠনের ডাক দেন, তখন নতুন ধারার কুর্দি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়। এই আন্তর্জাতিক এজেন্ডা ঐতিহ্যবাহী কুর্দি নেতাদের হুমকির মুখে ফেলে দেয়, বিশেষ করে উত্তর ইরাকে। এর ফলে ইরাকি কুর্দি নেতারা পিকেকের বিরুদ্ধে আঙ্কারাকে ব্যবস্থা নিতে স্বতপ্রণোদিত হয়ে সহযোগিতা করতে প্ররোচিত করে। তবে এই সহযোগিতা বহু তরুণ কুর্দি জাতীয়তাবাদী গ্রহণ করেনি।

একই সময়ে ইরাক ও সিরিয়ার মতো ঘটনা প্রবাহ দিয়ে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ায় ইরানের কুর্দিদের সবার থেকে সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন বলে প্রতীয়মান হয়। ইরান কুর্দিদের আত্মপরিচয়কে স্বীকৃতি দিলেও, বিচ্ছিন্‌নতাবাদের চেয়ে অনেকটা লঘু ব্যাপার হওয়া সত্ত্বেও স্বায়ত্তশাসনের জন্য কোনো ধরনের তৎপরতাকে বরদাশত করে না তেহরান। বরং কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নৃশংসভাবে দমনাভিযান চালানো হয়।

নতুন রাজনৈতিক বিকল্প

প্রকৃত বাস্তবতা হলো কুর্দিদের চারপাশে দায়েশ বিরোধী লড়াই, নতুন ইরাকি রাষ্ট্র গঠন, সিরিয়াতে নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং তুরস্কের বাইরের কুর্দি অঞ্চলগুলোতে দেশটির অ্যাক্টিভিস্ট ভূমিকার মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ঘটছে; এসব ঘটনাপ্রবাহ কুর্দিদের নতুন নতুন রাজনৈতিক বিকল্প বেছে নেয়ার সুযোগ দিচ্ছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিচার করলে সকল কুর্দির বৃহৎ স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি অনিবার্য বলে প্রতীয়মান হয়ে, তবে বাস্তবতা হলো এই ইরাকি কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসন অনেক বেশি অগ্রসর।

যেকোনো কুর্দি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বৈরিতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে তুরস্ক, ইরাক, সিরিয়া এবং ইরান ঐকবদ্ধ হয়েছে। অন্য ইস্যুতে পরষ্পরের ব্যাপারে তারা যেমন আচরণ করুক না কেন কুর্দি স্বাধীনতার বিষয়ে তারা সব সময় পরষ্পরকে সহযোগিতা করে থাকে। অধিকতর স্বায়ত্তশাসন কুর্দিদের রাষ্ট্র অর্জনে সহায়ক হচ্ছে, তাই অন্য কুর্দি অঞ্চলগুলোতেও আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবি উঠছে। তবে বর্তমানে কুর্দিদের আন্তর্জাতিক মহলে এমন কিছু উন্নতি করতে হবে যা তাদের প্রতি বড় ধরনের সহানুভূতি, কূটনৈতিক সমর্থন এবং মানবাধিকারর বিষয়ের মনযোগ আকর্ষণ করে।

ইরাকি কুর্দিরা ২৫ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতার বিষয়ে গণভোট করেছে। এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে ওয়াশিংটনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও এ অঞ্চলের সব রাষ্ট্র। তবে এসব মুসিলম রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল করে দেয়ার রণনীতির জায়গা থেকে ইসরাইল কুর্দি স্বাধীনতাকে সমর্থন করছে। কিছু কুর্দি স্বাধীনতার বিপক্ষে  ভোট দেবে, যার কারণ হলো আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আর ‘হ্যা’ ভোট মানে এমন নয় যে এখনই স্বাধীনতা কার্যকর হয়ে যাবে, কিন্তু কুর্দি আঞ্চলিক সরকার এ ভোটের ফলে বাগদাদের সঙ্গে দেনদরবার করার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান অর্জন করবে।  আর এই অপ্রতিরোধ্য প্রক্রিয়া বৃহৎ কুর্দি স্বায়ত্তশাসনকে বিশেষভাবে আরও সামনে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দেবে।

দেয়াল লেখা হয়েছে: বৃহৎ কুর্দি সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন সব কুর্দি অঞ্চলে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। যদি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সরকার এতে বাধা দেয়, দমনাভিযান ও নির্যাতন চালায়; তাহলে আন্তর্জাতিক সহানুভূতিপুষ্ট কুর্দি অসন্তোষ দিন দিন বাড়তে থাকবে।  চার রাষ্ট্র কিভাবে দীর্ঘ মেয়াদে কুর্দি ইস্যুকে সামলাবে তার ব্যাপারে তাদের মুন্সিয়ানার (স্মার্টনেস) পরিচয় দিতে হবে। কুর্দি ইস্যুকে উপেক্ষা এবং নিপীড়ন সহিংসতা ও স্থানীয় ক্ষোভই শুধু বাড়িয়ে তুলবে।

হেয়ালি মনে হবে যে তুরস্কে যদি ব্যাপকতর কুর্দি স্বায়ত্তশাসন কায়েম হয় তাহলে সবচেয়ে বড় জয় হবে তুরস্কেরই, তবে তা সম্ভব হবে যদি আঙ্কারা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের কার্ড খেলে। অর্ধেকেরও বেশি তুর্কি কুর্দি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কুর্দি অঞ্চলের বাইরে বসবাস করে। ইসতাম্বুল হচ্ছে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় কুর্দি শহর। কুর্দিদের পরিচয় এখন নিজস্ব গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে এবং তুর্কি জনগণের মধ্যে তারা বেশ ভালোভাবেই স্বীকৃত। যদি তুর্কি কুর্দিরা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের অনুমতি পায় তাহলে তা তুরস্ক ভেঙে বেড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের খুব একটা উৎসাহ যোগাবে না, বরং দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্ন করা থেকে তারা সরে দাঁড়াবে। তুরস্কের অংশ হওয়ার মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে মৈত্রী রেখে তুর্কি কুর্দিরা মধ্যাপ্রাচ্যের সবচেয়ে বিকাশমান রাষ্ট্রের অংশীদার হতে পারবে।    কিছু মনে করবেন না যে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার আগ্রাসী মনোভাব ও কী হনুরে ভাবের চোটে বর্তমানে সব রাজনৈতিক বিরোধীদের নাস্তানুবাদ করছেন, তিনি তুর্কি গণতন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি করছেন এবং  আন্তর্জাতিক মহলে তুরস্কের ইজ্জত খোয়াচ্ছেন, কিন্তু ‌এসবই এরদোগানের ব্যাপারে শেষ কথা নয়, তিনি কখনোই একেবারে শেষ হয়ে যাবেন না।

যদি তুরস্ক তার কুর্দি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, তাহলে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের সমগ্র কুর্দি জনগণের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে। প্রকৃতপক্ষে, নিজেদের কুর্দি নাগরিকদের জন্য একটি সমাধানমূলক তুর্কি নীতি তুর্কি-কুর্দিস্তানে শাসনপ্রণালী ও জীবনধারার এমন একটি মডেল তৈরি করবে যা ইরাক, ইরান ও ও সিরিয়ার অসন্তুষ্ট কুর্দিদের আকর্ষণের জন্য চুম্বকের মতো কাজ করবে। তাহলে বাকি তিন দেশ যা কিছুই প্রস্তাব করুক না কেন তুরস্কই হবে কুর্দিদের আর্ন্তর্জাতিক রাজধানী।

অন্যদিকে তুরস্ব যদি নির্বোধ হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোগান যদি নিজের একঘরে সরকারকে শক্তিশালী করতে কুর্দিদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত তুর্কি জাতীয়তাবাদের বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখেন, তাহলে তুরস্কে সঙ্কট ঘনীভূত হবে এবং সহিংসতা বাড়বে, যা দেশটিকে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এই অবস্থা আশেপাশের সব কুর্দি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

কুর্দিরা কি কখনো নিজ রাষ্ট্রের অধীনে একীভূত হবে

তা কেউ বলতে পারে না। এই চার রাষ্ট্র কিভাবে তাদের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘুদের আত্মীকরণ করবে তা তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য লিটমাস টেস্টে পরিণত হবে। কিন্তু এটি বলা নিরাপদ যে নিপীড়ন এবং সহিংসতা কখনোই কুর্দি সমস্যার সমাধান করবে না। বরং এমনটি হলে তা কুর্দিদের বৃহত্তর স্বাধীনতার দাবিকে তরান্বিত করবে।

গ্রাহাম ই. ফুলার: মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএর সিনিয়র কর্মকর্তা, মুসলিম বিশ্ব বিষয়ক বিভিন্ন বইয়ের লেখক, তার সর্বশেষ বই হলো ‘ব্রেকিং ফেইথ: এ নো অবল অব এসপিয়নেজ অ্যান্ড অ্যামেরিকানস সিক্যুয়েন্স অব বিবেকান ইন পাকিস্তান’।

পাঠক মন্তব্য () টি

তারেক রহমান: আপনার প্রধান প্রতিপক্ষ তথ্যসন্ত্রাস

আপনার দুর্ভাগ্য আপনি আধিপত্যবাদী শক্তির শিখন্ডি গোষ্ঠীর তথ্যসন্ত্রাসের নির্মম শিকার।

ভারতে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা

মোদি সরকারের নীতির ভারনীয় অর্থনীতির পতন আসন্ন।

কয়েক দশকের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট শোচনীয়তম

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবাহ ১৯৯৪ সালে সংঘটিত রুয়ান্ডা গণহত্যা-পরবর্তী সময়ের চেয়ে বেশি।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD