সর্বশেষ আপডেট ১৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / রক্তাক্ত আরাকান নিয়ে ভূ-রাজনীতির দাবা খেলা

রক্তাক্ত আরাকান নিয়ে ভূ-রাজনীতির দাবা খেলা

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৮:৩৪ টা

আলতাফ পারভেজঃ

বর্মায় নতুন করে গণহত্যা শুরুর ১৫ দিন পেরিয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমের আহাজারি ছাড়া এই গণহত্যা ও লাখ লাখ শরণার্থীর ঢেউ থামাতে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো অর্থবহ কিছু করেনি এখনো। ইতোমধ্যে স্পষ্ট, নাফের ওপারে রক্তপাত থামাতে আন্তর্জাতিক মুরুব্বিদের বড় ধরনের কোন ‘হস্তক্ষেপ’ হচ্ছে না। উপরন্তু এও দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারতের মতো দেশগুলো প্রকাশ্য, আধা-প্রকাশ্য ও গোপন উপায়ে বর্মাকে সমর্থন দিচ্ছে-- রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কিংবা তাদের আশ্রয়দাতা বাংলাদেশকে নয়।

বাংলাদেশের জন্য প্রথম বড় বিস্ময় ছিল আরাকানে সামরিক অভিযান পরিচালনায় বর্মা সেনাবাহিনীর প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য সংহতি। একই বিষয়ে বর্মার প্রতি চীনের অপ্রকাশ্য সমর্থনেও ঢাকার বিস্ময়ের কমতি ছিল না এবং যুক্তরাষ্ট্রও যে প্রবাহমান ঘটনাবলীতে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিচলিত নয়-- এও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতবিহ্বলতার এক বড় কারণ।

লক্ষ্যণীয়, ভূ-রাজনীতির দাবাখেলায় এমুহূর্তে চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সকলের কাছেই বাংলাদেশের চেয়ে বর্মার গুরুত্বই বেশি।
রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের জন্য সর্বাগ্রে জরুরি ছিল চীনের সহানুভূতি। বর্মায় শক্তির প্রধান ভরকেন্দ্র সেনাবাহিনীর ওপর এককভাবে চীনেরই রয়েছে সর্বাধিক প্রভাব। চীনের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা একদিকে যেমন ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ঘনিষ্টতার কারণে আবার অন্যদিকে, গত অক্টোবরে রোহিঙ্গা সমস্যায় চীনা নেতৃত্বের মধ্যস্থতার প্রস্তাবের কারণেও। সে সময় চীনের বিশেষ প্রতিনিধি সান গুইয়াঙ চার দিনের সফরে ঢাকায় এসে ঐ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। গত মার্চে ঢাকাস্থ চীনের রাষ্ট্রদূত কক্সবাজারও গিয়েছিলেন পুরানো শরণার্থী শিবিরগুলো দেখতে। কিন্তু ২৫ আগস্ট যা ঘটেছে তাতে চীন প্রথমে হতচকিত এবং পরবর্তীকালে তার পুরানো বৃত্তে ফিরে গেছে। চীনের উপলব্ধি, বিশেষভাবে ‘কফি আনান কমিশন’-এর সুপারিশ বাস্তবায়নের পথ কন্টকিত করতে এবং সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় তার সিল্করুটে বাধা দিতেই দেশটির ভূ-রাজনৈতিক ‘প্রতিপক্ষ’ আরাকানে পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে এবং এ পর্যায়ে চীনের পক্ষে রক্ষণশীল অবস্থান গ্রহণ করা ছাড়া উপায় নেই।

চীন আরাকানের ঘটনাবলীতে প্রথম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ৩১ আগস্ট এবং সেই প্রতিক্রিয়ায় ‘বন্ধু প্রতিবেশি’র রাখাইন অঞ্চলে সহিংস আক্রমণকারীদের দোষারপের পাশাপাশি সেখানে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় বর্মা সরকারের প্রচেষ্টা’য় সমর্থন জানানো হয়। সহযোগিতারও আশ্বাস দেয়া হয়। বাস্তবে চীনের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আগ্রহ রয়েছে সামান্যই। তার আগ্রহ মূলত বর্মার সঙ্গে চলমান ব্যবসায়ে-বাণিজ্য এবং প্রভাব বহাল রাখার প্রশ্ন নিয়ে। বহুকাল ধরে বর্মার প্রধান বিদেশী বিনিয়োগকারী দেশ চীন। ১৯৮৮ থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বর্মায় বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে ৬৯.৫৩ বিলিয়ন ডলার আর তাতে এককভাবে চীনই করেছে ১৮.৫৩ বিলিয়ন ডলার। চীন রোহিঙ্গাদের সহানুভূতি দেখাতে যেয়ে এসব বিনিয়োগকে ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না। উপরন্তু প্রতিবেশী বর্মাকে নতুন মুরুব্বি খুঁজতে দিতেও অনিচ্ছুক।

চলতি রক্তপাতের ক্ষেত্র আরাকান প্রদেশেই রয়েছে চীনের গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প--যার হিস্যা নিয়ে (৮৫ শতাংশ বনাম ৫০ শতাংশ) এমুহূর্তে চীন-বর্মা দরকষাকষি চলছে। এই সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে শিল্পপার্কও করতে চায় চীন। একই সঙ্গে এখান থেকেই তেল পাইপলাইন বসবে মেইনল্যান্ড-চীন পর্যন্ত। আরাকানকে ঘিরে চীনের এইরূপ বিবিধ প্রকল্প ও প্রভাব বৃদ্ধিতে ভারত উদ্বিগ্ন। কারণ এখানে চীনের সদম্ভ উপস্থিতি নাগাল্যান্ড-মনিপুর-ত্রিপুরায় ভারতকে দুর্বল করবে।

তবে বর্মায় রয়েছে ভারতের আরও অধিকতর কিছু স্বার্থ। বর্মার উপর দিয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ভারত। আর ভারতের এসকল আকাঙ্খাতে সায় আছে ওয়াশিংটনের--কারণ তাতে বর্মায় চীনের প্রভাব কমবে। এই পটভূমিতেই রোহিঙ্গা সংকটে পর্যুদস্ত ঢাকার জন্য গত দুই সপ্তাহে সবচেয়ে রূঢ় অভিজ্ঞতা ছিল বর্মার প্রতি দিল্লির পুনঃপুন সাপোর্ট।

ভারত ২৬ আগস্ট এই বিষয়ে ভারত প্রথম যে বিবৃতিতে দেয় তাতে আরাকানে বর্মার নিরপত্তারক্ষীদের জীবনহানিতে দুঃখপ্রকাশ করা হলেও শত শত রোহিংগার মৃত্যু ও তাদের গ্রামগুলো ধ্বংসের ব্যাপারে পূর্ণ নিরবতা দেখা যায় তাতে। এরপর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ছুটে গেছেন দেশটিতে। অথচ এই সময় আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমের নিন্দায় দিশেহারা অং সান সুচিকে ঢাকা এক ঘরে দেখতে চাইছিল। মোদির সফর বর্মার জন্য ছিল বিশেষ স্বস্তির। ভারতীয়দের এইরূপ কার্যক্রম যে কোন ভাবাবেগের ফসল ছিল না--তার নজির মিলেছে একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারিয়ানদের বৈঠকে’ ভারতীয় প্রতিনিধিরা বর্মার চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবে সায় দিতে অস্বীকার করেন। এমনকি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ জুড়ে থাকা স্বল্প সংখ্যক রোহিংগা শরণার্থীকে সে দেশ থেকে বর্মার হাতে তুলে দিতেও দিল্লির ইচ্ছা প্রকাশ পায় গত সপ্তাহেই।

স্পষ্টত ভারত বর্মার প্রতি ‘টোটাল সার্পোট’-এর নীতি নিয়েছে। বর্মার সঙ্গে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর ১৬ শত কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে নাগা ও মনিপুরী স্বাধীনতাকামীদের থেকে নিরাপদ করাও এই নীতিকৌশলের একটি কেন্দ্রীয় দিক। উপরন্তু চীনকে মোকাবেলায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র মৈত্রী কাঠামো এক্ষেত্রে মুখ্য নিয়ামকের ভূমিকা রেখেছে।

এক্ষেত্রে স্মরণীয় যে, আন্তর্জাতিক আইনের জনৈক ভাষ্যকার বর্মাকে অভিহিত করেছেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দাবাবোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নাইট (ঘোড়া) হিসেবে। যে নাইটকে যুক্তরাষ্ট্র গত ৪-৫ বছর ধরে চীনের একচ্ছত্র প্রভাব থেকে ছুটিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। যেমনটি চেষ্টা করছে তারা লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও। ফলে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা গণহত্যার নিন্দায় কড়া ভাষা ব্যবহার কিংবা অর্থনৈতিক অবরোধধর্মী জাতিসংঘের কঠোর কোন উদ্যোগে সায় দিয়ে বর্মাকে ‘বিব্রত’ করতে অনিচ্ছুক। কারণ তা বর্মাকে আরও বেশি মাত্রায় চীননির্ভর করে ফেলতে পারে। যা একদম চাইছে না ওয়াশিংটন। বরং বর্মার সঙ্গে সামরিক, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আরও ‘এনগেজমেন্ট’ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র শিগগির একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে। কংগ্রেসে এই লক্ষ্যে নতুন করে একটি বিল পাস করার প্রক্রিয়াও চলছে। আগামী সপ্তাহে এই বিল পাস হলে বর্মার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীর সহযোগিতা আরও বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের উপরোক্ত ভূমিকায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্মিলিত কোন অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এইরূপ ব্যর্থতার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো এখন বৌদ্ধরাষ্ট্র ও মুসলিমরাষ্ট্র নামে দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান ফিলিপিনের প্রেসিডেন্টের মানবাধিকার রেকর্ডও অত্যন্ত খারাপ।

সামগ্রিক উপরোক্ত হতাশাজনক চিত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া। রোহিঙ্গা সংকট যদিও রাষ্ট্রীয় বর্বরতাজনিত সমস্যা-- কোন ধর্মীয় সমস্যা নয়, তারপরও রোহিঙ্গারা মুসলমান হওয়ায় এবং এই সমস্যা নিয়ে বর্মার কিছু ভিক্ষুর পুনঃপুন উত্তেজক এবং ঘৃণা উদ্রেককারী বক্তব্যের কারণে মুসলমান বিশ্ব এই গণহত্যায় বিশেষ ব্যথিত। তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশে গত দুই সপ্তাহ জুড়ে প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। এসব দেশের অনেক প্রতিনিধি বাংলাদেশে এসে সংহতিও প্রকাশ করে গেছেন। কিন্তু তারপরও ওআইসি’র মতো সংস্থার বিশেষ বৈঠক বসেনি আজো। কাজাখস্তানে ওআইসি’র প্রযুক্তি বিষয়ক একটি সম্মেলনের ফাঁকে ৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ একটি বৈঠক হয়--যা ছিল কার্যত সংস্থাটির মুখরক্ষার মৃদু চেষ্টা মাত্র। মুসলিম বিশ্বের সাধারণ ক্ষোভ তাদের শাসকদের কোন কূটনীতিক যুদ্ধে নামাতে পারেনি। বিশেষ করে গত তিন দশক ধরে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিশেষ সহানুভূতিশীল থাকলেও সর্বশেষ ঘটনাবলীতে সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া ছিল অতি দায়সারা। অথচ খোদ সেই দেশেই এই মুহূর্তে তিন লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে।

উপরোক্ত বাস্তবতায় আরাকানের রক্তপাত নিয়ে পোপ ফ্রান্সিস থেকে ডেসমন্ড টুটু পর্যন্ত মানবতাবাদীদের প্রায় সকল সোচ্চার আর্তনাদই চাপা পড়ে গেছে এখন। ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব আঁচ করা মাত্রই অং সান সুচি আরাকানের ঘটনাবলীকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দানকারী এনজিও কার্যক্রমও বন্ধ করে দিতে পেরেছেন তিনি সেখানে। ২৫ আগস্টের আগে যেটা ভাবাও যেত না। বর্মার নিরাপত্তা উপদেষ্টা থঙ তুন গত বুধবার এও জানিয়েছেন, জাতিসংঘে তাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ কোন পদক্ষেপ নেয়া হলে সেটায় বাধা দিতে চীন-রাশিয়ার সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া অবশ্য আরও কৌতূহল উদ্দীপক তথ্য দিয়েছেন। তাঁর মতে নিরাপত্তা পরিষদের যা করার তা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আর তা হলো, ‘অপ্রকাশ্য এক বৈঠকের মাধ্যমে পরিষদ সদস্যরা বর্মাকে পরিস্থিতির উত্তাপ কমাতে বার্তা দিয়েছে।’ আপাতত জাতিসংঘের তরফ থেকে অধিকতর কঠোর কোন পদক্ষেপ আশা করা যায় না।

স্বভাবত বাংলাদেশ দেখছে ‘বন্ধুত্ব’-এর কোন স্থায়ী স্মারক বা আদর্শবাদীতা নেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কে। প্রত্যেক দেশ তার তার ভূ-রাজনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থে যেকোন মুহূর্তে যেকোন অবস্থান নিচ্ছে। অবস্থান পরিবর্তন করছে। কিন্তু কেবল বাংলাদেশই তার পররাষ্ট্রনীতিতে তেমন গতিশীলতা দেখাতে পারছে না।

আলতাফ পারভেজ: সাবেক ছাত্রনেতা, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও শিক্ষক

পাঠক মন্তব্য () টি

তারেক রহমান: আপনার প্রধান প্রতিপক্ষ তথ্যসন্ত্রাস

আপনার দুর্ভাগ্য আপনি আধিপত্যবাদী শক্তির শিখন্ডি গোষ্ঠীর তথ্যসন্ত্রাসের নির্মম শিকার।

ভারতে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা

মোদি সরকারের নীতির ভারনীয় অর্থনীতির পতন আসন্ন।

কুর্দিদের ভবিষ্যৎ

নিপীড়ন এবং সহিংসতা কখনোই কুর্দি সমস্যার সমাধান করবে না।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD