সর্বশেষ আপডেট ১৩ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / ফিচার / জীবন যাপন / ১৩ দিনে উঁচু পাহাড় ও নদী ডিঙিয়ে ১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশুর বাংলাদেশে আসার গল্প

১৩ দিনে উঁচু পাহাড় ও নদী ডিঙিয়ে ১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশুর বাংলাদেশে আসার গল্প

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ২৩:১১ টা | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১৫:১৪ টা

বার্তা ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ

সহিংসতার মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশু জসিম। এখন সে কক্সবাজারের উখিয়ার একটি শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।

১৩ দিনে উঁচু পাহাড় ও নদী ডিঙিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে আশ্রয়ের খোঁজে। রাখাইন থেকে কক্সবাজারে আসার বর্ণনা দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে।

জসিম বিশ্বের কাছে নিজের কথা জানিয়েছে; ভবিষ্যতে সে শিক্ষক হতে চায়।

রোহিঙ্গা শিশু জসিম বলে, আমার নাম জসিম, বয়স ১২ বছর। এ সমস্যা শুরু হওয়ার আগে আমি স্কুলে পড়তাম। আমার প্রিয় বিষয় ছিল ইংরেজি। কারণ, আমি মনে করি, যদি ইংরেজিতে কথা বলতে পারি, তবে বিশ্বজুড়ে নানান মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারব।

আমি তাদের কাছে আমার মতামত প্রকাশ করতে পারব। আমি আশা করছি, আমি শিগগিরই আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারব। কারণ, আমি ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চাই।

আমাদের গ্রামে একদিন সেনাবাহিনী এসেছিল। আমরা তখন পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে ছিলাম। ওই দিন আমি অনেক সেনা দেখেছি। সংখ্যায় তা হয়তো ১০০ বা ২০০-এর মতো হবে।

তারা আমাদের অনেককে গুলি করেছিল এবং আমাদের বাড়িগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি সেদিন খুবই ভয় পেয়েছিলাম। আমরা একটি জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম।

পরে বাংলাদেশের উদ্দেশে হাঁটা শুরু করি। হাঁটতে হাঁটতে ১৩ দিন লেগে যায়। অনেক সময় আমরা জঙ্গলে থামতাম এবং সেখানেই আশ্রয় নিতাম।

বাংলাদেশের যাওয়ার যাত্রাপথটি ছিল বেশ কঠিন। যাত্রাপথে আমাদের বড় বড় পাহাড় এবং কিছু ছোট নদী অতিক্রম করতে হয়েছে। আমরা যখন হাঁটছিলাম, তখন সব সময় ভয় করত যে এই বুঝি সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের ঘিরে ফেলবে।

বাংলাদেশে ঢোকার আগে আমরা সব সময় সতর্ক ছিলাম। কারণ, সেনাবাহিনী ভূমিতে ছোট্ট বোমা পুঁতে রেখেছে; আমরা যদি এটির ওপর দিয়ে হেঁটে যাই, তাহলে বিস্ফোরিত হবে।

আমাদের নিজেদের গ্রাম নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। কারণ, এখন আর গ্রাম নেই। আমরা সেখান থেকে সাথে কোনো কিছুই আনতে পারিনি, সব হারিয়ে গেছে।

আমি মায়ের সাথে এসেছি; তবে বাবা এখনো রাখাইনে আছেন। বাবা আমাদের নিজের জীবন বাঁচাতে বলেছেন। পরে তিনি আমাদের কাছে চলে আসবেন। কিন্তু আমরা জানি না তিনি এখন কোথায় আছেন। আমরা তার কোনো খবর পাইনি।

বাবাকে নিয়ে আমি চিন্তিত; যদি সেনাবাহিনী তাকে খুঁজে পায় বা ছোট্ট বোমায় উড়ে যায়। আমি আনন্দিত যে আমরা নিরাপদে আছি। কিন্তু এখানে থাকা কঠিন। কারণ, এখানে বসবাসের জন্য কোনো বাড়িঘর নেই। ভেজা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে আমাদের ঘুমাতে হবে।

বিশ্বের কাছে নিজের বার্তাও দিয়েছে ১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশু জসিম।

'আমরা মিয়ানমারের নাগরিক। যদি তারা আমাদের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা দেয়, আমরা অনেক খুশি হব। আমরা এটাই চাই।'

পাঠক মন্তব্য () টি

আধুনিক মানুষের সর্বোচ্চ আয়ু ১১৫ বছর

আধুনিক মানুষের গড় সর্বোচ্চ আয়ু ১১৫ বছর বলে জানিয়েছে মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি…

কোরবানি সাংস্কৃতিক বিপ্লব: ফেসবুকে প্রচার বাড়ান

কোরবানির গরুর ছবি পোস্ট করে আপনি মোটেই ভুল করছেন না।

এক গ্রামেই শতবর্ষী ৩০০ জন!

ইতালির আকিয়ারোলি গ্রামে তিনশ' জনেরও বেশি মানুষ শতবর্ষ পার করে ফেলেছেন!

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD