সর্বশেষ আপডেট ৪ ঘন্টা আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / ব্লগ / কারা ফটকের সামনে একটি ঈদ

কারা ফটকের সামনে একটি ঈদ

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০১৭ ২৩:৪৬ টা | আপডেট: ৩০ জুন ২০১৭ ২৩:৪৭ টা

আমিরা আজমাইনঃ

ঈদের দিন! আহ, কি আনন্দ!! সকালে ঘুম থেকেই উঠেই শুরু দৌড়াদৌড়ি। আমি ঘর গুছানোতে ব্যস্ত আর আম্মু রান্না ঘরে।আব্বু ভাইদের যে নামাযের আগেই হালকা নাস্তা দিতে হবে!
এর মাঝেই ভাইয়ার চিৎকার।
বড়ভাই: আমার পাঞ্জাবী কই?
আমি: হ্যাংগারে
ছোটভাই: আপু আমার পাঞ্জাবিটা আরেকবার আয়রন করে দিবা! কুচকায় গেছে!
আমি: আগে বলতে পারিস না! যা তাড়াতাড়ি নিয়ে আয়!
আব্বু:আমারটাও একটু দিও!

চলতে থাকে হুলস্থুল। টুপি কই! জায়নামায কই! সেন্ডেল তো পাচ্ছি না! আতর কোনটা দিব!

সবাই রেডি হয়ে আম্মুকে দিয়ে চেক করানো! ঠিক আছে সব! আম্মু যদি ঠিক আছে না বলে তাহলে যে কিছুই ঠিক নেই বুঝতে হবে!

এভাবেই শুরু হয় আমাদের বাসায় ঈদের সকাল।

কিন্তু নাহ! সেদিনের ঈদটা এভাবে শুরু হয়নি। কারণ বাসার প্রাণের মধ্যমনি আম্মুই যে বাসায় ছিল না। আম্মু যে ছিল জালিমের কারাগারের মেহমান। :(

সেই ঈদে রান্না ঘরে আম্মু ছিল না। ছিলাম না পরিবারের সবাই একসাথে। একেক জন একেক বাসায়। যেন আমরা উদ্বাস্তু! তারপরও আমি নতুন বাসার রান্না ঘরে ঢুকেছিলাম। যেই আমি সহজে রান্না ঘরে ঢুকতাম না, সেই আমিই সেদিন রান্না করেছিলাম। কারণ ঈদের দিন কারাগারে রান্না করা খাবার দেয়ার অনুমতি আছে! অনেক যত্ন করে সেদিন রান্না করেছিলাম। রান্না শেষ করে খাবারগুলো নিয়ে গিয়েছিলাম কারাগারে।

যাওয়ার পথে ভাবছিলাম যেয়ে অনেক উচ্ছাসের সাথে আম্মুকে বলব, দেখো আম্মু আমি রান্না করেছি! কিন্তু নাহ! আমি কিছুই বলতে পারছিলাম না মোটা রডের ওপাশে দাঁড়ানো আম্মুকে দেখে! চোখ থেকে ঝরে পড়ছিল অবাধ্য অশ্রুরা। পরিস্থিতির কারণে আব্বুর চলে আসতে হয়েছিল আম্মুকে এক ঝলক দেখেই। আমি ভাইয়াকে দেখছিলাম হেঁচকি তুলে কাঁদতে।

কিন্তু আম্মু ছিল নির্বিকার। সাহসের প্রতীক। আমাদের সাহস দিয়ে যাচ্ছিল অনবরত। বলছিল "কতো বছর ধরে কতো মানুষ এমন কষ্ট পেয়েছে, পাচ্ছে। তোমাদের তো খুশি হওয়া উচিত তোমাদের আম্মুকে আল্লাহ পরীক্ষার জন্য বাছাই করেছেন বলে! আমি ভাল আছি। ভিতরের সবাই অনেক ভাল। রক্ষীরা কয়েদীরা সবাই সম্মান করে কথা বলে। তোমরা টেনশন করো না।"

আম্মুর একথা শুনে ভাইয়া ডুকরে উঠে বলেছিল "বাইরের মানুষগুলো যে ভাল না আম্মু!"

একথায় নির্বাক হয়ে গিয়েছিল আম্মুও। আম্মুর গাল বেয়েও তখন গড়িয়ে পড়ছিল অবাধ্য অশ্রুরা।

সাক্ষাতের নির্দিষ্ট (৩০ মিনিট) সময় শেষ হয়ে গেল কোন ফাঁকে টেরই পেলাম না। চলে এলাম বাসায়। দেখলাম আব্বুর ভয়ানক নিঃসঙ্গ চেহারা! সংসারের এতোগুলো বছরে এমন ঈদ কখনো তো করতে হয় নি!

মানুষটা আছে আমাদের পাশেই। এক কিলোমিটারের দুরত্বে জীবিত অবস্থায় আছে। কিন্তু আমরা চাইলেই তার সাথে দেখা করতে পারছি না!

আব্বু ভাইয়া আর আমি তিনজন তিন রুমে শুয়ে ছিলাম। বোধহয় তিনজনই সিলিং ফ্যান দেখছিলাম গভীর মনোযোগে! কিন্তু ভিতরে চলছিল ঝড়! হয়তো ঝড়ের তীব্রতা যখন বেশি হয়ে যাচ্ছিল তখন কয়েকফোটা অশ্রু হয়ে ঝরে বৃষ্টির মতো ঝড়কে প্রশমিত করার চেষ্টা করেছিল!

প্রকৃতির অঝর ধারায় ঝরা বৃষ্টিও যেন ছিল মজলুমের কান্না! জালিমের জন্য অভিশাপ!

এমনই ভয়ানক কষ্টের সাথে অথবা এরচেয়েও দুঃখভরা দিন অতিবাহিত করছে কত মানুষ. কত পরিবার! একেকটা ঈদ যাচ্ছে। কিন্তু ঈদ মানে যে খুশি,সেই খুশি কি আসছে মানুষগুলোর মনে! এসব খবর আমরা ক'দিন নিয়েছি! ক'দিন অনুভব করেছি অন্তরে!

যেদিন অন্তর থেকে আমরা অনুভব করতে পারব মুসলিম জাতির দুঃখ দুর্দশা, হতে পারব এক দেহের ন্যায়; যার এক অংশের বেদনায় অন্য অংশ কাঁদে সেদিনই আসবে মুক্তি।

আমিরা আজমাইন: লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট

পাঠক মন্তব্য () টি

মানুষ! লাশ এবং রানা প্লাজা!

নিপীড়ত মানুষের পক্ষে আমরা কাউকে দাঁড়াতে দেখিনি।

সরি মুন্সি জামাল!

রিকশায় চড়ার পূর্বে ভাড়া ঠিক করে নেয়াটা সুন্নত মনে করি। বরাবরের মতই…

জন্মদাতা না হয়েও তিনি আমার পিতা

কাকা তুমি জন্মদাতা নাহলেও তুমি আমার পিতা। তোমাকে হারিয়ে আমি এতিম হয়ে…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD