সর্বশেষ আপডেট ৪ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / এক গেরিলার শেষকৃত্য শেষের অনিশ্চয়তা

এক গেরিলার শেষকৃত্য শেষের অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০১৭ ২৩:৪৯ টা | আপডেট: ১৩ জুন ২০১৭ ০১:৩২ টা

নাগা স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা এস এস কাপলাং

আলতাফ পারভেজঃ

এক.
খুব হালকা চালে এটা বলা যায় যে, আজ সকালে এস এস কাপলাংয়ের (স্যামওয়াং স্যাংইয়ুং কাপলাং) শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার মধ্যদিয়ে ভারতীয় সেনা বাজেটের ৭ লাখ রুপি চিরদিনের জন্য বেঁচে গেল- যারা এই নাগা জাতীয়তাবাদীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য একদা উল্লিখিত অংক ঘোষণা করেছিল।

তবে ৭৭ বয়সে এস এস কাপলাং ন্যাশনাল সোশালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড (এনএসসিএন)-এর হেড কোয়ার্টারে ৯ জুন শান্তিপূর্ণভাবেই মারা গেছেন গত শুক্রবার এবং আগামীকাল দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নাগা সমাজে তার স্মরণে শোকদিবস পালিত হতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে নাগারা সকল ধরনের বেসরকারি অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে বলে জানা যায়।

দুই.
কাপলাংয়ের মৃত্যুতে নাগা সমাজে শোকের গভীরতা দেখে ভারতীয় মিডিয়ার তরুণ কর্মীরা বেশ অবাকই হয়েছেন- যাদের কাছে তিনি ‘টেরোরিস্ট’ ছাড়া আর কিছইু নন। যে কারণে এরূপ একজন  ‘টেরোরিস্ট’-এর জন্য ভারতীয় সংবিধান মেনে শপথ গ্রহণকারী নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রীর গভীর শোকবাণীতে পুরো ভারতীয় প্রচারমাধ্যমে আজ হৈচৈ হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, দিল্লি থেকে কহিমা, ইম্ফল বা আইজল যে আজো অনেক দূর! রাজনীতি সচেতন নাগা সমাজে এবং আরও ব্যাপক অর্থে বললে, নর্থ-ইস্ট জুড়ে কাপলাংকে ‘বাবা-কাপলাং’ বা ‘আংকেল কাপলাং’ হিসেবেই শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্বোধন করা হতো। তিনি ছিলেন নাগা জাতীয়তাবাদের তিন প্রাণপুরুষের একজন। অপর দুই জনের মাঝে পিজু মারা গেছেন ১৯৯০-এ; বেঁচে আছেন শুধু ৮৩ বছর বয়সী টি. মুইভা।

উপরোক্ত তিনজনের সবার জীবনই নিজ জাতিসত্তার জন্য অবিশ্বাস্য ত্যাগ-তিতিক্ষাময়। আসাম ও কাচিনে স্বল্পস্থায়ী শিক্ষাজীবন শেষে কাপলাং ১৯৬৪ সালে নাগা ডিফেন্স ফোর্স গঠন করেছিলেন। পরে এ জে পিজোর সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৭৪ সালে তিনি পিজোর নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল (এনএনসি) ভাইস চেয়ারম্যান হন। সেই থেকে জঙ্গলে জঙ্গলেই কেটেছে পুরো জীবন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভারত-বর্মা সীমান্তের হাইডআউটে ছোট্ট বাঁশের বেড়ার একটি ঘরেই শেষ জীবন কেটেছে কাপলাংয়ের। কিন্তু সেখান থেকেই ‘আংকেল-কাপলাং’ সমগ্র নাগা সমাজে বিকল্প ‘সরকার প্রধান’ হয়ে ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। উপরন্তু ২০১৫ সালে তাঁর নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের অনেকগুলো গেরিলা সংগঠনের জোট ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব ওয়েস্টার্ন সাউথ ইস্ট এশিয়া।

কাপলাংয়ের মৃত্যুতে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা

১৯৭৫ সালে এ জে পিজো যখন নাগাল্যান্ডের ভবিষ্যত প্রশ্নে ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেন-তখন কাপলাং ও টি. মুইভা তা মানতে অস্বীকার করে ১৯৮০ সালে এনএনসি থেকে বেরিয়ে এসে এনএসসিএন গঠন করেছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী বরাবরই এনএসসিএনকে বলে থাকে  ‘মাদার অব অল ইন্সারজেন্সি’।

কাপলাংয়ের মৃত্যু তাই উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জাতিসত্তার স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম প্রজন্মের এক কিংবদন্তির বিদায়। এরকমই মন্তব্য করেছেন নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। আবার ভারত ও নাগাশক্তি--উভয়ের জন্যই কাপলাংয়ের মৃত্যু এক ধরনের অনিশ্চয়তাও তৈরি করেছে।

নাগাদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা ব্যতীত উত্তর-পূর্ব ভারতে যে শান্তি আসার সম্ভাবনা কম সেটা দিল্লি উপলব্ধি করলেও কাপলাংয়ের মতো আপসহীন নেতার অনুপস্থিতির কারণে নাগাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় ভারতীয় নেতৃবৃন্দ স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘসূত্রিতার কৌশল নেবেন এবং নাগাদের নতুন নেতৃত্বের মনোভাব বোঝার অপেক্ষায় থাকবে।

ইতোমধ্যে হাইড-আউট থেকে বিভিন্ন সূত্রে এনএসসিএন জানিয়েছে, তারা ক্যাঙগো কনায়েককে নতুন চেয়ারম্যান মনোনীত করেছে। ঘোষণাটি অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হয়নি।

কনায়েক নাগা আর্মির লে. জেনারেল হিসেবে উল্লিখিত হন। ২০১১ থেকে তিনি এনএসসিএন-এরও ভাইস চেয়ারম্যান। ১৯৬৩ সালে কনায়েক নাগা আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন; সেই সূত্রে বলা যায়, তিনিও একজন পুরানো সংগ্রামী। তবে তার নেতৃত্ব কতটা টেকসই হবে সেটা বোঝার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। বিশেষত বর্মার কাচিনদের সঙ্গে তার বোঝাপড়াটা এমুহূর্তে নাগা সংগ্রামের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় শর্ত হয়ে আছে।

কাপালং জীবিত অবস্থায় আসামের উলফা এবং কেআইএ (কাচিন ইন্ডিপেনডেন্ট আর্মি)-কে বন্ধু সংগঠনে পরিণত করতে পেরেছিলেন- যেটা ছিল ভারতীয় বিপুল সামরিক অগ্রাভিযানের মুখেও তার বড় এক শক্তির জায়গা।

আলতাফ পারভেজ: সাবেক ছাত্রনেতা, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক ও শিক্ষক

পাঠক মন্তব্য () টি

চিটাগাং নাকি ডুবে যাবে

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ হালিশহরের এবং আগ্রাবাদের কিছু অঞ্চলে এখন নিয়মিত পানি উঠে।

আসামের ‘বাংলাদেশী বন্দিশিবিরগুলো’

আসামের বর্তমান ‘বাংলাদেশী বন্দিশিবিরগুলো’ কি ৭০ বছর আগের নাজি শিবিরগুলোর সঙ্গে তুলনীয়?

পরিস্থিতি কাতারের পক্ষে ঘুরে গেছে

মজলুমের পক্ষে দুনিয়াব্যাপী মুসলমান জনগোষ্ঠী দাঁড়িয়ে গেছে ও যাবে, যা অপ্রতিরোধ্য।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD