সর্বশেষ আপডেট ৪ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / বিদেশ / মধ্যপ্রাচ্য / যুক্তরাষ্ট্রে হামাস-কাতার বিরোধী চক্রান্তে ইসরাইল-সৌদি-আমিরাতি লবি

যুক্তরাষ্ট্রে হামাস-কাতার বিরোধী চক্রান্তে ইসরাইল-সৌদি-আমিরাতি লবি

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০১৭ ১২:৩৩ টা | আপডেট: ১১ জুন ২০১৭ ১৩:৫৫ টা

স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার ফিলিস্তিনি শিশুরা। ফাইল ছবি

বার্তা ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ

বহিরাগত ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারির অবসান ঘটিয়ে ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত হামাসকে স্তব্ধ করে দিতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে।

হামাসের প্রতি যেন কোনো দেশের সমর্থন না থাকে এবং কেউ নিপীড়িত-মজলুম ফিলিস্তিনিদের সহায়তা না করে তা নিশ্চিত করতে একযোগে মাঠে নেমেছে ইসরাইল ও দুই মুসলিম দেশে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হামাসকে সমর্থন করা বন্ধ করতে কাতারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন আইনপ্রণেতাকে গত দেড় বছরে অন্তত ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছে ইসরাইল-সৌদি-আমিরাত।

অবশেষে গত ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে (প্রতিনিধি পরিষদে) এ সংক্রান্ত একটি বিল উপস্থাপন করা হয়েছে। বিলটির নাম 'দি পেলেস্টাইন ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম সাপোর্ট প্রিভেনশন অ্যাক্ট-২০১৭' বা 'এইচআর ২৭১২'।

শুক্রবার পর্যন্ত এই বিলের পুরো ভাষ্য সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে বিলটিতে অভিযোগ করা হয়েছে- হামাস কাতারের কাছ থেকে আর্থিক ও সামরিক সহযোগিতা পাচ্ছে। বিলে সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র রফতানি এবং এক কোটি ডলারের বেশি ঋণ বা অর্থায়নের বিষয়ে কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে এই বিলটি উত্থাপনের পরপরই কাতারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু আকস্মিক ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে কাতারের জাতীয় সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট হ্যাক করে মতলবি খবর প্রচার করে বলা হয় দেশটির আমির ইরানকে সমর্থন করেন।

এরপর এই খবরের অযুহাতে সৌদি ও আমিরাতের নেতৃত্বে বাহরাইন ও মিশর কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। পরে ব্যর্থ রাষ্ট্র লিবিয়া ও ইয়েমেনের পশ্চিমা-সৌদিপন্থী কর্তৃত্বহীন সরকারও এতে যোগ দেয়।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি-আমিরাত-মিশর এক যৌথ 'সন্ত্রাসী তালিকা' প্রকাশ করে। এতে কাতারের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫৯ ব্যক্তি ও ১২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে জড়িত বলে অভিযোগ আনা হয়।

তালিকাটিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে। এরমধ্যে মিশরের গণতান্ত্রিক ইসলামী দল মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা আল্লামা ইউসুফ আল কারজাবির নামও রয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিল উত্থাপন এবং কয়েকটি আরব দেশের কাতারের সঙ্গে প্রকাশ্য শত্রুতার ঘটনায় আসলে কী দেখা যাচ্ছে?

লেখক ও অলাভজনক সংস্থা ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) প্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসির মতে কয়েকটি আরব দেশ এবং ইসরাইলের মধ্যে ক্রমেই আঁতাত বাড়ছে- তা এইচআর ২৭১২বিলের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধবাজ ইসরাইলপন্থী গ্রুপগুলি এবং আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে খুব কম সময়েই আঁতাতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু নতুন ঘটনা হলো ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের (এফডিডি) মতো ইসরাইলপন্থী গ্রুপগুলো সৌদিপন্থী বিল নিয়ে মাঠে নেমেছে এবং তাদের জন্য ক্যাপিটল হিলে তদ্বির করছে।

ইসরাইল, মিশর এবং সৌদি আরব- এই তিন দেশই ইসলামী রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে হুমকি মনে করে। মিশরের ক্ষমতাচ্যুত নির্বাচিত ও এখন পর্যন্ত বৈধ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। ২০১৪ সাল তাকে অপহরণ করে ক্ষমতা দখল করে ইসরাইল-সৌদি মদদপুষ্ট সামরিক জান্তা আবদেল ফাতাহ আল সিসি।

ব্রাদারহুড হলো হামাসের মতাদর্শিক ভিত্তিভূমি। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা শাসনকারী দল হামাস এ পর্যন্ত তিনবার ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। কাতারের কাছে সৌদির দাবি, তাদেরকে ব্রাদারহুড এবং হামাসকে সমর্থন করা বন্ধ করতে হবে, যা আসলে মিশর এবং ইসরাইলি নীতির সমর্থন করা মাত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের উপর ইসরাইলি প্রভাবের বিষয়টি এখন স্পষ্ট। এইচআর ২৭১২ বিলের উদ্যোক্তরা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরাইলপন্থী ব্যক্তি এবং গ্রুপের কাছ থেকে মোট ১০ লাখ নয় হাজার ৭৯৬ ডলার অনুদান পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অর্থের খেলা এবং তা নির্বাচন ও পাবলিক পলিসিতে কী ভূমিকা রাখে তা পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন গবেষণা সংস্থা 'সেন্টার ফর রেস্পন্সিভ পলিটিক্সের' সংগৃহীত উপাত্ত যোগ করে এই তথ্য জানাচ্ছে আল জাজিরা।

যেসব মার্কিন আইনপ্রণেতা হামাসকে টার্গেট করে কাতার বিল এনেছে তারা ঐতিহ্যবাহী সৌদিপন্থী মার্কিন রাজনীতিক না বলে জানিয়েছে ত্রিতা পারসি। তিনি জানান, ওই দশ আইনপ্রণেতা কট্টর ইহুদিবাদী ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি শিবিরের লোক।

কাতার বিরোধী বিলটির স্পন্সরকারীদের মধ্যে প্রধান দুই মার্কিন দল রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্রেট পার্টি-উভয় দলের লোকই রয়েছে। এরমধ্যে ফ্লোরিডা থেকে প্রথমবার নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান ব্রায়ান মাস্ট ও আরেক শীর্ষ রিপাবলিকান এড রয়েস এবং ডেমোক্রেট ইলিয়ট এনজেলসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউজ কমিটির (এইচসিএফআর) পাঁচজন সদস্য রয়েছেন।

ইসরাইলপন্থী সূত্র থেকে ২০১৬ সালের নির্বাচনকালে রয়েস দুই লাখ ৪২ হাজার ১৪৩ ডলার এবং এনজেল এক লাখ ৯০ হাজার ১৫০ ডলার গ্রহণ করেন। ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইলী আর্মিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পর মার্কিন আর্মিতে কর্মরত ব্রায়ান মাস্ট গ্রহণ করেন ৯০ হাজার ১৭৮ ডলার।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ইলিয়েনা রোজ-লেন্টিনেন ২০১৬ সালে এক লাখ ৫০ হাজার ৩০০ ডলার গ্রহণ করেন। যা তার ২৭ বছরের ইসরাইলপন্থী ক্যারিয়ারে পাওয়া ১০ লাখেরও বেশি ডলারের মধ্যে কোনো এক বছরে প্রাপ্ত সবচেয়ে বেশি অর্থ।

এদিকে ইসরাইলি লবির মাধ্যমে হামাস-কাতার বিরোধী বিল উত্থাপনকারী আইনপ্রনেতারা ২০১৬ সালে যেমন ১০ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছেন, তেমনি গত দেড় বছরে তারা সৌদি-আমিরাত লবির কাছ থেকেও অর্থ পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় (ফারা) জনসম্মুখে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, গত ১৮ মাসে সৌদি-আমিরাত লবি ওই মার্কিন আইন প্রণেতাদের ২৫ হাজার ৭০০ ডলার দেয়া হয়েছে বলে মার্কিন বিচার বিভাগে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল জাজিরার অনুসন্ধান অনুযায়ী, হামাস-কাতার বিরোধী লবিংয়ে সৌদি ও আমিরাতকে ১০টি ফার্ম সহযোগিতা করেছে। তবে এসব ফার্মই চূড়ান্ত নয়। দুই আরব দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের লবিং আরও প্রসারিত করছে এবং অনেক বেশি ব্যক্তিকেও এ কাজে অর্থ দিচ্ছে।

ফারার নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, ১০ মার্কিন আইনপ্রণেতার সঙ্গে সৌদি ও আমিরাতের লবিস্টদের উপর্যুপরি ইমেইল যোগাযোগ এবং সরাসরি বৈঠক হয়েছে।

টেক্সাসের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা টেড পো হামাস-কাতার বিরোধী এইচআর ২৭১২ বিলকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, কাতার, ইরানসহ অন্য যারা সন্ত্রাসবাদকে (আসলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলন) সমর্থন করে তাদের মূল্য দিতে বাধ্য করবে এই বিলটি। তিনি হলেন একমাত্র আইনপ্রণেতা যিনি ইসরাইলি-সৌদি-আমিরাতি লবি থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে নথিপত্রে উল্লেখ নাই।

প্রসঙ্গত, এ বছর ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারির ৫০ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। এই দখলদারির অবসানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরবের দেশগুলোর ১৯৭৩ সালেই সর্বশেষ যুদ্ধ হয়েছে।

এরপর ফিলিস্তিনিরা ফাতাহ পার্টির নেতৃত্বে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং হামাসের নামে  ইসরাইল বিরোধী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিদের সৌদিসহ বড় আরব দেশগুলোর তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। তবে সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, কাতার ও ইরানের মতো দেশগুলি ফিলিস্তিনবাসীকে সহযোগিতা করেছে।

এছাড়া আরবের প্রধান গণতান্ত্রিক দল ইসলামপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থক এবং সাধারণ আরব জনগণ ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ বরাবরই ফিলিস্তিনির স্বাধীনতা আন্দোলন এবং ইসরাইলি আগ্রাসন বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামকে অকুণ্ঠ সমর্থন করে আসছে। আর তাদের সমর্থনের কারণেই বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর মদদপুষ্ট ইসরাইল ফিলিস্তিনের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দিতে পারছে না।

মজার ব্যাপার হলো ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের বড় ধরনের অস্ত্র সংগ্রহ এবং কোনো গোষ্ঠীর সশস্ত্রতার বিরোধিতা করে থাকে। কিন্তু সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১১ কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার যে উদ্যোগ নিয়েছে তার ব্যাপারে ইসরাইল চুপ রয়েছে।

এছাড়া জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সশস্ত্র তৎপরতা নিয়েও ইসরাইলের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নাই। বরং আইএসের অনেক নেতা ও যোদ্ধাই ইসরাইলের হাসপাতালে চিকিৎসা সহায়তা পেয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে

ধারণা করা হচ্ছে হামাস-ব্রাদারহুড ও কাতার বিরোধী তৎপরতায় পরষ্পর যোগসাজশের কারণে সৌদির অস্ত্র ক্রয়ের ব্যাপারে ইসরাইল চুপ রয়েছে। আর আইএসের মাধ্যমে ইসরাইল বিরোধী শক্তি সিরিয়াকে দুর্বল করে দেয়ার কারণেও এদের ব্যাপারে ইহুদিবাদীদের সহানুভূতি রয়েছে।

যদিও কাতার শুরুতে সৌদি জোটের সঙ্গে মিলমিশে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে অনেক ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু দেশটির স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ক্রমান্বয়েই এমন পরিপক্কতা অর্জন করেছে যার ফলে দেশটি ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আরবের গণতন্ত্রায়নের প্রধান সংস্থা মুসলিম ব্রাদারহুডকেও সমর্থন করছে।

এর ফলে দেশটিকে সৌদির নেতৃত্বে চেপে ধরার চেষ্টা করা হলেও কাতার অসম সাহসের সঙ্গে জানিয়েছে তারা কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে না এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরবে না।

পাঠক মন্তব্য () টি

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফিলিস্তিন মুছে ফেলার 'শতাব্দীর চুক্তি' ফাঁস

'ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি'র মূল উদ্দেশ্য পৃথিবী থেকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের নাম মুছে…

ফিলিস্তিনের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানাল চীন

মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্রীয় সমাধান ও ফিলিস্তিনের পূর্ণ সার্বভৌমত্বকে সমর্থন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট…

কাতারকে বিশ্বাস করতে পারছে না সৌদি জোট

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন মিলে তাদের প্রতিবেশী দেশ…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD