সর্বশেষ আপডেট ২৯ দিন ২ ঘন্টা আগে
আপনি আছেন হোম / বাংলাদেশ / অপরাধ / 'আমি তোর বাপ' বলে কৃষককে পুলিশের নির্যাতন

'আমি তোর বাপ' বলে কৃষককে পুলিশের নির্যাতন

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ ২৩:৫৫ টা | আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ ১৭:৪৫ টা

বার্তা ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ

চোখে টর্চ লাইটের আলো মেরে ধরে রাখার প্রতিবাদ করায় ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে আবদুল মালেক (৪৫) নামে এক নিরীহ কৃষককে বেধড়ক মারধর করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সাবদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমতিয়াজের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে থাকা একদল পুলিশ ওই কৃষককে মারধর করে।

মারধরে গুরুতর আহত হলে প্রথমে আবদুল মালেককে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কৃষক আবদুল মালেক কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবদারপুর গ্রামের বেলায়েত আলীর ছেলে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আবদুল মালেক বলেন, 'বাড়ির সামনে রেললাইনের পাশে বিজলির পালা ছিল; পাশে বসে ছিলাম। তখন রাত ৯টা বাজতে ১০/১৫ মিনিট বাকি ছিল।'

'ওই সময় ওরা (ক্যাম্পের পুলিশ) এসে আমার চোখে টর্চ লাইট মারে। আমি বলি- ভাই আপনারা কারা আমার চোখে লাইট মারছেন? লাইট নিচে লাবান (নামান)। দুই-তিনবার বলার পরও ওনারা লাইট লাবায়নি। ওরা আমাকে বলছে আমি তোর বাপ'।

আবদুল মালেক বলেন, 'এরপর আমি বলি- বাপের-মায়ের কিছু না বলি... এভাবে লাইট মারছেন কেন?। এরাম (এরকম) কথা বলার পর আমাকে টেনে-ছেঁচড়ে এনে আবল-তাবল (বেধড়ক) মারপিট শুরু করে দেয়। বলতে শুরু করে এই দেখ তোর কোন বাপ।'

তিনি বলেন, 'কিল-ঘুষি আর বাঁশের চটা দিয়ে মারপিট করতে থাকে। পায়ে, উরু, পিঠে আঘাতের চিহ্ন আছে। মাথায় আর মুখে কিল-ঘুষি দিতে থাকে। এরপর আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যায়। পরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।'

আবদুল মালেক আরও বলেন, দুই মাস আগে শারীরিক দুর্বলতার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হই। অসুস্থ হওয়ার কারণে এখন হাসপাতালে আসার পুলিশের কথা সঠিক নয়।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টায় আবদুল মালেক ভর্তি হন যার নম্বর ৪০০৫/২৯। তার ভর্তি টিকিটে চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন ফিজিক্যাল অ্যাসাল্ট। ভর্তি টিকিটে পুলিশ কেস লেখা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে তিনি চিকিৎসাধীন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল মালেককে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড (ছাড়পত্র) করা হয়। ছাড়পত্র নম্বর ১৬৪২। রেজিস্ট্রিশন নম্বর ৪৪/০২, তারিখ ২৬/০১/১৭।

আহত আবদুল মালেকের মেয়ে শাহানাজ পারভীন অভিযোগ করে বলেন, 'সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ইমতিয়াজ এবং কনস্টেবল সামিনুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আমার আব্বাকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। আমরা ঠেকাতে গেলে অকথ্য ভাষায় আমাদের গালিগালাজ করে।'

তিনি বলেন, 'আমার আব্বাকে পুলিশ পিটিয়েছে গ্রামের সবাই দেখেছে। দুই মাস আগে আব্বা অসুস্থ হয়েছিলেন। অসুস্থ মানুষকে পুলিশ অমানুষিক নির্যাতন করেছে।'

শাহনাজ আরও বলেন, 'প্রথমে আব্বাকে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছিলাম। আজ (শুক্রবার) ডাক্তার যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেছে। যারা আমার আব্বাকে বিনা কারণে নির্যাতন করেছে তাদের শাস্তি চাই।'

তবে অভিযুক্ত কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই ইমতিয়াজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবদারপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আবুল কাশেম সাংবাদিকদের কাঝ পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি দাবি করেন, 'পুলিশ লাইট মারলে আবদুল মালেক গালিগালাজ করেন। এএসআই ইমতিয়াজসহ টহল পুলিশ সদস্যরা তাকে ডেকে গালি দেয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করে। এসময় আবদুল মালেক ভুল স্বীকার করেন। এরপর আর পুলিশ তাকে কিছু বলেনি।'

এসআই আবুল কাশেম দাবি করেন, 'পুলিশ আবদুল মালেককে মারধর করেনি। তিনি হার্টের রোগী। কিছুদিন আগেও অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার দিন বাজারের একটি চায়ের দোকানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছেন।'

ঘটনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের কোটচাঁদপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, 'পুলিশের বিরুদ্ধে পেটানোর অভিযোগ সঠিক নয়। আবদুল মালেক ক্যাম্পের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পুলিশ লাইট মারলে আবদুল মালেক গালিগালাজ করেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। কিন্তু মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।'

পাঠক মন্তব্য () টি

সাংবাদিক জিয়াকে গাড়ির ধাক্কা, মডেল কল্যাণ গ্রেপ্তার

ফটো সাংবাদিক জিয়া ইসলামকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মডেল ও অভিনেতা…

'যে হাত দিয়ে খাওয়াছি তেল দিছি, সে হাত দিয়ে মারলাম'

‘আমি এই দুই হাত দিয়ে ওদের খাওয়াছি, তেল দিছি আর আজ আমি…

না'গঞ্জের সাত খুন মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটিকে হত্যার হুমকি…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD