সর্বশেষ আপডেট ১ দিন ৫ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / বাংলাদেশ / জাতীয় / ২৫০ বছর পরে ১/১১ নামে ফিরেছিল পলাশীর চক্রান্ত

২৫০ বছর পরে ১/১১ নামে ফিরেছিল পলাশীর চক্রান্ত

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৭ ২২:৩১ টা

বিশেষ প্রতিনিধি, অনলাইন বাংলাঃ

বাংলার কুলাঙ্গার তারা। গাদ্দারের দল। জগৎশেঠ মহাতঙ্গ চাঁদ, মহারাজা স্বরূপ চাঁদ, রায় দুর্লভ, রাম নারায়ণ, উমিচাঁদ, রাজা রাজবল্লভ, মহারাজ নন্দকুমার, কৃষ্ণচন্দ্র রায়, মানিক চাঁদ, কৃষ্ণচন্দ্র রায়, ইয়ার লতিফ খান, মীরজাফর আলী খান, মীর মিরন, মীর কাসেম,  ঘসেটি বেগম, মুহাম্মদী বেগ ও দানা শাহ।

এদের চক্রান্তেই ১৭৫৭ সালে দুই শত বছরের জন্য বাংলার স্বাধীনতার অস্ত যায়। হানাদার ইংরেজরা দখল করে নেয় সুবে বাংলাকে।

এরপর প্রথম একশ’ বছর ঔপনিবেশিক দখলদার ইংরেজের অধীনতা মানেনি বাংলার মানুষ। অসম সাহসে অকুতোভয় আলেম-পীর-ফকির-সন্নাসী-পাগলদের নেতৃত্বে স্বাধীনতার লড়াই করে গেছেন তারা।

সিপাহী বিদ্রোহকে নৃশংসভাবে দমনের মধ্য দিয়ে ফকির মজনু শাহ, হাজী শরীয়তুল্লাহ, দুদু মিয়া ও তিতমীরের স্বাধীন সংগ্রামের অবসান হয়। প্রায় ৫০ বছরের আঁধার যাপনের পর ১৯০৬ সালে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ গঠনের মধ্য দিয়ে আবার সংগ্রাম শুরু হয়।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পাকিস্তান নামে ১৯৪৭ সালে সুবেবাংলার একাংশ পূর্ব বাংলা স্বাধীনতা ফিরে পায়।  

১৯৭১ সালে মওলানা আবদুল হামি খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ জিয়াউরর রহমান, শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার ও তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলা সত্যিকারের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

সেই স্বাধীন বাংলাদেশে আড়াইশ’ বছর পর পলাশীর ষড়যন্ত্রকারীদের বংশধররা নতুন দেশবিরোধী নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। এদেশে বিদেশীদের ইন্ধনে স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু হত্যা, দশ বছরের মাথায় শহীদ জিয়াকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জন্মগতভাবে বাংলাদেশি না হয়েও এইচএম এরশাদ নয় বছর ধরে স্বৈরশাসন জারি করে রেখেছেন। কিন্তু পলাশী ছাড়া ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার মতো ভয়াবহ চক্রান্ত আর কখনোই হয়নি।

এক এগারর ষড়যন্ত্রের মধ্যে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শুধু ক্ষমতা দখলের ঘটনা ঘটেনি। বরং ওই অভ্যুত্থানের নকশা অনুযায়ী সংবিধান-বিচার বিভাগ-প্রতিরক্ষা-নির্বাচনী ব্যবস্থা তছনছ করা হয়েছে। স্বাধীন সত্ত্বা কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে তাবেদার নতজানু আজ্ঞাবহ যন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে।

এক এগারর তাবেদার গাদ্দারেরা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তির পদতলে সমর্পণ করলেও বিগত দশ বছরে জাতীয় স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের কোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম গড়ে ওঠেনি। বরং এক এগারর অভ্যুত্থানকারীরা নিপীড়নের যে পথ দেখিয়েছিল সেই পথে বিরোধীদের আরো কোনঠাসা করা হয়েছে। আর বিরোধীরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম না করে নিজেদের রক্ষার জন্য চেষ্টা করে গেছে। রাজনৈতিক সঙ্কটকে চিহ্নিত করে জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত না করে নিজেরা ক্ষমতা পেতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে সময় অপচয় করেছে।

এক-এগারোর ষড়যন্ত্র

২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর বিএনপি নেৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা ছিল।

এর ঠিক দুদিন আগে রাজধানীর পল্টন মোড়ে জাময়াতে ইসলামীর সমাবেশে লগি-বৈঠা নিয়ে হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা।

এতে ছাত্রশিবিরের সদস্য স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র মুজাহিদুল ইসলাম, হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপন, লালবাগের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন, জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান হাবিব, জুরাইনের জামায়াত কর্মী হাজী আনোয়ারুল্লাহর ছেলে জসিম, সিদ্ধিরগঞ্জের আবদুল্লাহ আল ফয়সাল নিহত হন। একই সময় যুবমৈত্রীর কর্মী রাসেল আহমদ নিহত হন।

ওই দিন সারা দেশে মোট ১৭জন বিএনপি-জামায়াত কর্মী নিহত হন। আর ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ৩ দিনে নিহত হয়েছিল চারদলীয় জোটের ৫৪ নেতাকর্মী।

এই ঘটনার জের ধরে সাবেক প্রধান বিচারপতি কেএম হাসান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হন। এতে ক্রমেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে থাকে, দেশে নির্বাচনী আবহ শুরু হয়ে যায়।

২২ জানুয়ারি ভোটের দিন ধার্য করে নবম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয়জোট ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট অংশ নেয়।

কিন্তু সাবেক স্বৈরশাসক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের মনোনয়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।

৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনা ও এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ৪ জানুয়ারি নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ওপর পশ্চিমা কূটনীতিকদের গুরুত্ব আরোপ করে। মহাজোট ৭ ও ৮ জানুয়ারি অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

৭ জানুয়ারি টানা অবরোধ চলাকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী বৈঠক করেন।

অবরোধের শেষ দিন মহাজোট বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে। ৯ জানুয়ারি বঙ্গভবনের আশপাশে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা হামলা শুরু হয়।

১০ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিরোধে শেখ হাসিনার হরতাল অবরোধসহ ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেন। একই দিন কুমিল্লার জনসভায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন বাধাদানকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

১১ জানুয়ারি দুপুরের পর থেকে দেশে গুমোট অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিকাল ৪টায় পূর্বনির্ধারিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক বাতিল করা হয়। তিন বাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা বঙ্গভবনে যান। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গভবনে অবস্থান করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিটিভির স্ক্রলে প্রথম জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা জানানো হয়।

রাত ৮টার পর তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের আইজি, র্যা ব, বিডিআরসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সঙ্গে সেনাপ্রধান লে. জেনারেল মইন উ আহমেদ সেনাসদরে বৈঠক করেন।

রাত সাড়ে ৮টায় সব উপদেষ্টাকে বঙ্গভবনে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তারা উপদেষ্টাদের ব্রিফ করে পদত্যাগ করতে বলেন। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন ৯ উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন ড. ইয়াজউদ্দিন।

সন্ধ্যার পর থেকেই ‘কিছুক্ষণের মধ্যে রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন’ মর্মে বিটিভিতে জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত রাত ১১টা ২০ মিনিটে বিশেষ স্থান থেকে আসা একটি বক্তব্য জাতির উদ্দেশে পড়ে শোনান ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। তাতে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে তাঁর পদত্যাগ ও জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রেক্ষাপট এবং সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা ছিল। উপদেষ্টাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে বিচারপতি ফজলুল হককে প্রধান উপদেষ্টার অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেয়া হয়।

রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। রাজনৈতিক সংবাদ প্রকাশে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। রাস্তায় নামে সেনাবাহিনী। রাতেই জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের ডিজি পদ থেকে মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারকে বদলি করা হয়।

পরদিন ১২ জানুয়ারি নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ শপথ নেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম  জিল্লুর রহমান, আবদুল জলিল ও আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, শেখ সেলিম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, এলডিপি সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আব্দুর রবসহ মহাজোটভুক্ত দলের নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জেআর মোদাচ্ছের হোসেন, সাবেক দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান ও বিচারপতি লতিফুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি ফজলুল হক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহফুজুর রহমান। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন  খালেদা জিয়া ও জামায়াত আমির মাওলানা নিজামীসহ চারদলীয় জোটভুক্ত দলের নেতারা এ অনুষ্ঠান বর্জন করেন।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ফখরুদ্দীনের আহমেদের শপথ গ্রহণের কয়েকদিন পর কয়েক দফায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব) এম এ মতিন, ব্যবসায়ী তপন চৌধুরী, বেগম গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব) মতিউর রহমান, আইয়ুব কাদরী, আনোয়ারুল ইকবাল, ইফতেখার আহমেদ এবং ড. চৌধুরী সাজ্জাদুল (সিএস) করিম।

জেনারেল আমিনের বর্ণনায় ১/১১

২০১১ সালের ৩০ আগস্ট উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিসের গোপন তারবার্তা থেকে এক এগারর অন্যতম কুশীলব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিনের ভাষ্য জানা যায়।

ঢাকা ০০০০৬৬ শিরোনামে পাঠানো তারবার্তাটি তুলে ধরা হয় এক এগারোতে বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল।

বার্তায় বলা হয়, ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স কাউন্টার টেররিজম (ডিজিএফআই) প্রধান ব্রিগেডিয়ার এটিএম আমিন ১২ জানুয়ারি সাক্ষাত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। তারবার্তায় বলা হয়েছে, এটিএম আমিনের মতে, তিন বাহিনী প্রধান ও আর্মি চিফ অব স্টাফ অফিসার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী ও সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মইন উ আহমেদ ১১ জানুয়ারি বিকাল প্রায় ৫টার দিকে প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

ওই বৈঠকে তারা প্রেসিডেন্টকে কোন সময় না দিয়ে উপরের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে বলেন। আমিন দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট সেসব দাবি মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের প্রাক্কালে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের ডাইরেক্টর জেনারেল মেজর জেনারেল মো. রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে তখনও নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি যে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা।

আমিন বলেন, মেজর হায়দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাকে অবসরে যেতে বাধ্য করা হতে পারে। ( বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে বলে অনেকেই মনে করেন)। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে আমিন বলেন, আমরা এ বিষয়টি দেখবো।

আমিন আরো বলেন, প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব এম. মোখলেসুর রহমান চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে তাকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। রাষ্ট্রদূতকে আমিন বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের কাছে যেতে সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্তকে দু’টি বিষয় প্রভাবিত করেছিল।

সেনাবাহিনী যদি একপক্ষীয় নির্বাচনে সমর্থন দিয়ে কাজ করে তাহলে তা নিয়ে জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের অব্যাহত অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশের ওপর একটি বিবৃতি। জাতিসংঘের স্থানীয় প্রতিনিধির জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনও নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সমর্থনকে সম্পর্কিত করে বিবৃতি দেয়। তাতে নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সমর্থনের বিষয়টি উঠে আসে।

শুরুতেই জেনারেল মইন জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ করেন, যাতে জাতিসংঘ একটি চিঠি ইস্যু করে এবং তিনি ওই চিঠি নিয়ে প্রেসিডেন্টকে রাজি করাতে পারেন যে, যদি রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান না করা যায় তাহলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন বাধাগ্রস্ত হবে।

দ্বিতীয় ফ্যাক্টরটি ছিল জেএমবি’র নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার। যে প্রমাণ পাওয়া গেল তাতে দেখা গেল জেএমবি নির্ধারিত নির্বাচন বিঘ্নিত বা প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এসব ঘটনায় সেনাবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের কাছে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য।

আমিন আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর বর্তমান সব উপদেষ্টা তাদের পদত্যাগপত্র পেশ করেন। তবে সবচেয়ে বেশি সিনিয়র র্যাংতকের উপদেষ্টা ছিলেন আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা বিচারপতি ফজলুল হক। নতুন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন না করা পর্যন্ত তিনিই ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনে সম্মত হন।

গ্রেপ্তার-দমন-বিদায়

১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পরপরই শুরু হয় গ্রেপ্তার অভিযান। কামাল মজুমদারকে গ্রেফতার করা হয় সবার আগে। মোসাদ্দেক আলী ফালু, হাজি সেলিম, নাসির উদ্দিন পিন্টুসহ সাবেক সাংসদ ও নেতাদের বাসায় হানা দেয় যৌথ বাহিনী।

ফখরুদ্দীন সরকার প্রধান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের নামে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করেন। সেই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ‘দুর্নীতিবাজ’ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার শুরু হয়।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের ৭৯ জন রাজনীতিককে গ্রেপ্তারের পর বহু মামলায় জড়িয়ে দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদের নামে দৈহিক নির্যাতন করা হয়। এই নির্যাতনের শিকার অনেক রাজনীতিক পরবর্তীতে অকালে মারা গেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় চালানো নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ৭ বছর ধরে চিকিৎসা নিলেও গত বছরের জানুয়ারিতে মারা গেছেন।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাতে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমানকে, ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও পরে ২ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তারেককে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ও দুই নেত্রীকে সংসদ ভবন চত্বরে বিশেষ কারাগারে বন্দি রাখা হয়।

ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকারের সময় ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে সর্বপ্রথম জরুরি অবস্থা ভেঙে মিছিল বের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাকিতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে সান্ধ্যকোর্স চালুর বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে নেতৃত্বে দেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থী খোমেনী ইহসান। বিভাগের আন্দোলন সফল হওয়ার পর তার নেতৃত্বে নোবেল জয়ী ড. ইউনুসের নাগরিক শক্তি দলগঠনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। ওই আন্দোলন থেকে ড. ইউনসুকে ‘বাংলার হামিদ কারজাই’ আখ্যা দিয়ে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। এরপর ড. ইউনুস সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের উপর সেনা সদস্যদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

২২ আগস্ট রাত ৮টা থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারফিউ জারি করে আন্দোলন দমন করা হলেও এ আন্দোলনের জেরে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের রাজনৈতিক দল গঠন ও সরাসরি ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত পরিত্যক্ত হয়।

পরে ২০০৮ সালের প্রথমার্ধের শেষের দিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক এগারর অভ্যুত্থানে জড়িতদের সমঝোতা হয়। এর ভিত্তিতেই ওই বছরের জুন মাসে প্যারোলো মু্ক্তি পান তিনি। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।  

সমঝোতা অনুযায়ী ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্ব নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ওই নির্বাচনে মহাজোট ২৬৩ আসনে জয়ী হয়। এর  মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৩০, জাতীয় পার্টি ২৭, জাসদ ৩, ওয়ার্কাস পার্টি ২ ও এলডিপি ১টি আসনে জয়ী হয়। অন্যদিকে চার দলীয় জোট ৩৩ আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে বিএনপি ৩০, জামায়াতে ২ ও বিজেপি এটি আসন পায়। স্বতন্ত্র সাংসদ নির্বাচিত হন ৪ জন।

২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত মহাজোট সরকারের সময় শুরুতে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় রহস্যজনক সহিংসতায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, ১৪ জন বিডিআর সদস্যসহ মোট ৭৪জন খুন হন।

সরকারের মাঝামাঝি সময়ে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। ভারতের সঙ্গে অনির্দিষ্ট মেয়াদের কাঠামোগত চুক্তি করা হয়।

সরকারের শেষ বছর ২০১৩ সালে প্রধান ইসলামী বিরোধী দল জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেওয়া শুরু হয়। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কার্যকর করা হয়। ইসলাম বিদ্বেষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে আন্দোলন হয়। ৫ মে রাতে ঢাকার মতিঝিলে তাদের সমাবেশে সরকারি বাহিনী রক্তক্ষয়ী অভিযান চালায়। এত ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যার সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে।

ওই বছর সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতের কয়েক শ নেতাকর্মী নিহত হন। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের দিনই ৮০ জন নিহত হন। অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে ২৬ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত হরতাল-অবরোধে ৭৫ জন নিহত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে নিহত হন ২৪ জন।

পাঠক মন্তব্য () টি

রানা প্লাজা হত্যাযজ্ঞ: শ্রমিকদের কর্মসূচিতে বাধা

রানা প্লাজার হতাহত শ্রমিকদের স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রীর শিশু ভ্যানচালক সংসারেরও চালক

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভ্যানের চালক ইমাম শেখ ১৭ বছরের শিশু।

স্বামী ভাত না খাওয়ায় স্ত্রীর আত্মহত্যা!

আশুলিয়া স্বামী রাগ করে ভাত না খাওয়ায় এক গার্মেন্টস শ্রমিকের আত্মহত্যা।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD