সর্বশেষ আপডেট ২ দিন ১৬ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / বাংলাদেশ / জাতীয় / ব্রহ্মপুত নদের পানি: শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশকেও হিস্যা দেবে চীন

ব্রহ্মপুত নদের পানি: শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশকেও হিস্যা দেবে চীন

প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ১৫:৩৮ টা | আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ১৬:২৩ টা

বার্তা ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ




ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ভারতের মতো বাংলাদেশের হিস্যা নিশ্চিত করতে চায় বন্ধুদেশ চীন। দেশটি ত্রিদেশীয় সহযোগিতামূলক ফ্রেমওয়ার্ক (কাঠামো) চুক্তির আওতায় এ ইস্যুর সমাধান করতে আগ্রহী।

এ জন্য ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের নিজের স্বার্থ রক্ষার অধিকার বুঝে নিতে আহ্বান জানিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চীনের দ্য গ্লোবাল টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের ড্যাম নির্মাণ নিয়ে ভারতের নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নদের পানি ব্যবহারের জন্য ভারতের যে প্রচেষ্টা তার চেয়ে চীনের উচ্চাকাঙ্খা কম নয়। এর ফলে ভাটিতে থাকা দেশ বাংলাদেশের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ নদের পানি সম্পদ ব্যবহার নিয়ে তিনটি দেশেরই উচিত একটি সহযোগিতামুলক একটি ফ্রেমওয়ার্ক গঠন করা।

একই সঙ্গে এ নিয়ে দেশ তিনটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকের ব্যবস্থা করা উচিত।

এটা বোধগম্য যে, এ নদে ড্যাম নির্মাণ ইস্যুতে ও পানিবিজ্ঞান বিষয়ক তথ্য ভাগাভাগি নিয়ে চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি চাইতে পারে ভারত। কিন্তু ভারতের কাছ থেকে নিজের স্বার্থ রক্ষার একই রকম অধিকার থাকা উচিত বাংলাদেশের।

২৬ ডিসেম্বর চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দ্য গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

এ রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পরই ভারতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একই দিনে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নিয়ে সমঝোতায় ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে চায় চীন।

উপরন্তু চীন তার ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড অথবা সিল্ক রোড কর্মসূচির দিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে ব্রহ্মপুত্র ইস্যুকে। চীনের এই কর্মসূচির প্রধান সফলতা হলো বর্তমানে চলমান ‘চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’।

উল্লেখ্য, তিব্বতে জন্ম নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদটি উত্তর-পূর্ব ভারতের ভিতর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারত এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় নি। সাম্প্রতিক সময়ে নেপালে ব্যবসায়িক সুবিধা সৃষ্টি করতে সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে সফলতার সঙ্গে প্রবেশ করেছে চীন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এতে ভারত সরকারের মাঝে পর্যাপ্ত সতর্কতা আসে নি। এখন তারা ব্রহ্মপুত্র নদ ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে ব্যবহার করতে চাইছে।

ওদিকে চীনের গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদন বা মন্তব্য কলামকে আমলে নেয় কমিউনিস্ট পার্টি। সরকারের আইডিয়া ও আন্তর্জাতিক, বিশেষ করে এশিয়া অঞ্চলের কূটনীতি নিয়ে সংশয়সহ বিভিন্ন বিষয় এ পত্রিকার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

২৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত পত্রিকাটির রিপোর্টে বলা হয়, উজানে ইয়ারলুং জাঙবু নদ (ব্রহ্মপুত্র) কিভাবে চীন ব্যবহার করছে তা নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তঃদেশীয় নদ-নদী নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় ল্যানকাং-মেকং কো-অপারেশন (এলএমসি) চুক্তি রয়েছে। ইয়ারলুং নিয়ে সমস্যা সমাধানে এলএমসি কৌশল সম্পর্কে ধারণা নিতে গবেষণা করতে পারেন কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞজনরা।

গত শুক্রবারে কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এলএমসিভুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিতীয় বৈঠক। এর আওতায় রয়েছে ৬টি সদস্য দেশ। তারা হলো- চীন, মায়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম। ওই বৈঠক থেকে সব সদস্য দেশই সুফল পেয়েছে। আন্তঃদেশীয় বেশ কিছু নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে চীন থেকে। তাই এ নদ-নদীগুলোর উজানে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চীনের। এমন নদী হলো ল্যানকাং-মেকং নদী। এখানে চীন নির্মাণ করছে পানিবিদ্যুত উৎপাদনের জন্য ড্যাম। এ নিয়ে চীনের সঙ্গে অন্য পাঁচটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরোধ থেকেই এলএমসি গড়ে উঠেছে।

এই কৌশল সৃষ্টি করার পর শুধু যে মেকং নদীর পানি ব্যবহারে সমস্যার একটি টেকসই সমাধান হয়েছে তা-ই নয়, একই সঙ্গে এতে আঞ্চলকি অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা গতি পেয়েছে।

ইয়ারলুং জাঙবু (ব্রহ্মপুত্র) নদের মতো আন্তঃদেশীয় নদ-নদী নিয়ে বিরোধ নিস্পত্তিতে এলএমসি হতে পারে একটি মডেল।

এলএমসির ওপর ভিত্তি করে চীন তার ভাটিতে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ মিটাতে বহুজাতিক সহযোগিতামুলক ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তুলতে চায়।

পাঠক মন্তব্য () টি

ছাত্রী ধর্ষণ: ডিসি-ওসি ও রেইনট্রির এমডি-জিএমকে তলব

মঙ্গলবার বিকালে চারজনকে নোটিশ পাঠিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন…

ছাত্রী ধর্ষণ: সাফাতের বাবার মার্সিডিজ জব্দ

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত…

মধ্য জুলাই থেকে রাজনৈতিক সংলাপ: সিইসি

আগামী মধ্য জুলাই থেকে রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন। সংলাপ…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD