সর্বশেষ আপডেট ২৯ দিন ২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / কলাম / মহীপুরের প্রান্তর

মহীপুরের প্রান্তর

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৬ ১৫:০৭ টা

ফজলে লোহানীঃ

[১৯৬৯ সাল। এক সংশয় আর সঙ্কটের ক্রান্তিলগ্নে পতিত পাকিস্তান। কি হতে যাচ্ছে? কি হবে? কি করা উচিত? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে মওলানা ভাসানীর কাছে ছুটে গিয়েছিলেন ফজলে লোহানী। মওলানা তখন ছিলেন বগুড়ার মহীপুরে। সেখানে মওলানার সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটিয়ে এসে ফজলে লোহানী লিখেছিলেন তার বিখ্যাত রচনা - ‘মহীপুরের প্রান্তর।’ ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিন কিস্তিতে সাড়া জাগানো স্মৃতিকাহিনীটি ছাপা হয়েছিল। টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মরহুম ফজলে লোহানীর বিখ্যাত লেখাটি পুনর্মুদ্রিত হলো।]

ভোর রাতে ট্রেনে উঠেছিলাম ঈশ্বরদী থেকে। সঙ্গে উঠলেন কয়েকজন স্থানীয় যাত্রী। যাত্রীদের সবাই প্রবীণ। এদের ভেতর একজন আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় চললেন?

পাঁচবিবি।

মওলানা সাহেবের ওখানে যাচ্ছেন বুঝি? কোন সম্মেলন টম্মেলন আছে নাকি?

হেসে বললাম, না সম্মেলন নয়। এমনি দেখা করতে চলেছি।

যাত্রীটি অনেক গল্পই করলেন। তারপর বললেন, মওলানা ভাসানী অনেক কিছুই করেছেন এদেশের জন্য। কিন্তু এবারে তিনি কি করবেন?

- ট্রেনের ঘূর্ণয়মান চাকার শব্দে প্রতিধ্বনি তুলে বহু কণ্ঠের সেই একই প্রশ্ন শুনতে পাই। এবারে তিনি কি করবেন?

এ প্রশ্নের জবাব খোজার জন্যই তো চলেছি মহীপুরে।

আজকের এই অবস্থা তো মওলানা ভাসানী সৃষ্টি করেননি। দেশের দারিদ্র্য, অভাব আর বঞ্চনার জন্য মওলানা তো দায়ী নন। যারা একদিন ভাগ্য - বিধাতা ছিলেন, তাদের দলে তো মওলানা কখনও ছিলেন না। তবুও মওলানার কাছেই প্রশ্ন করতে চলেছি, তিনি এবারে কি করবেন?

কারণ, আজকের এই পরিবেশ জন্ম দিয়েছে মওলানা ভাসানীকে। ভাসানী পরিবেশ সৃষ্টি করেননি। নেপোলিয়নের মতো আত্মবিলাসী সম্রাট তার গগণচুম্বী অহমকে তুষ্ট করার প্রয়োজনে পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারতেন। কিন্তু মওলানা ভাসানী নেপোলিয়ন নন। বাস্তিল দুর্গ আক্রমণকারী ফরাসি বিপ্লবীদের মতো দুর্জয় সাহস নিয়ে অশীতিপর এই বৃদ্ধ গিয়েছিলেন গত বছর ডিসেম্বর মাসে ঢাকার লাট প্রাসাদ ঘেরাও করতে। কোথা থেকে এলো এই দুর্জয় সাহস? মহীপুরের গ্রামের এই বয়োজ্যেষ্ঠ জননেতার কাছ থেকে জানতে হবে সেই কথা।

- মহীপুর।

আর কত দূর প্রশ্ন করি কোচেয়ানকে।

এইত এসে গেছি।

- একটা ক্যানালের কাছে এসে আমাদের গাড়ি থেমে যায়। আর যাবে না -

ক্যানালের ওপারেই মওলানা ভাসানীর মহীপুর মিশনের শুরু।… আরো সিকি মাইল হাঁটা পথে বীরপুর। মওলানা ভাসানীর গ্রামের বাড়ি সেখানে। পথে যেতে এক ঝলক দেখে নিলাম মওলানার মিশনের অপূর্ণ চিত্রটুকু। মওলানার জীবনের স্বপ্নই হচ্ছে গড়ে তোলা।

- চিরকাল বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে এসেছেন মওলানা। মওলানা একদিন বলেছিলেন, সংগ্রাম, দুর্জয় সংগ্রাম ছাড়া কেউই কোন দাবি আদায় করতে পারবে না। মওলানার এই সংগ্রাম বেঁচে থাকার নিয়ত প্রবাহমান পুন্যস্রোত সলিলেল প্রস্রবিত ধারার মতো হয়তো স্বতঃস্ফূর্ত।

মওলানা ভাসানী নীচুতলার মানুষের পরমজন। কৃষাণের জীবনের শরীক তিনি। তিনি আছেন মাটির কাছাকাছি। তৃণমূল মানুষের কর্ম প্রেরণাই মওলানার জীবন সংগ্রামে সাহস যুগিয়েছে।

- ধূলোর পথ ছেড়ে মহীপুরের প্রান্তর পেরিয়ে আমরা গিয়ে উঠলাম মওলানার বীরপুরের গাঁয়ের ভিটেতে। সামনে ছনের ছাউনি তোলা মাটির দুটো ঘর। সুপুরী আর তাল গাছের পাশে এক টুকরো ঘাসের জমিন।

একখানা হাতলহীন ধূলোমাখা চেয়ার পড়ে আছে শুধু। মওলানা ভাসানীর বসবার চেয়ার। উনি ভেতর বাড়িতে গেছেন নাশতা করতে।

একটি ছোট ছেলে হাসিমুখে এগিয়ে এলো আমাদের দিকে।

আপনারা বসেন। একটু পরে পীর সাহেব আসছেন। ছেলেটি বললো। বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন মওলানা ভাসানী। বসতে বললেন আমাদের সবাইকে। মওলানা বললেন, তোমাদের তো আরো আগে আসার কথা ছিল। ভাবছিলাম শেষে আসোই কিনা।

সকালের নাশতার ব্যবস্থা করলেন মওলানা। বললেন, এসেছো যখন ঘরের পিঠে খেয়ে যাও।

নাশতা এলো। দুধের পিঠে। ডিম ভাজা। আর চা…

সিরাজগঞ্জ শহরের অদূরে ধানগড়া গায়ে মওলানা ভাসানীর জন্ম। জীবনে ত্যাগের কথা বলা হচ্ছিল। সত্যিকার মহৎ আত্মত্যাগের আদর্শ সোনার মতো উজ্জ্বল। সেই কথা হচ্ছিল মওলানা ভাসানী বললেন, আমার আর ত্যাগ কি রয়েছে দেশের জন্যে? আমার বাবার ছিল সাত বিঘা জমি আর একটি দোকান। আমি চিরকালই পান্তা খেয়ে এসেছি। এখনও খাচ্ছি।

তবে দেশের জন্য ত্যাগ করেছেন অন্য দেশ প্রেমিকরা, তিনি বললেন। নাম উল্লেখ করলেন দেশবন্ধু চিত্ত রঞ্জন দাসের। হেকিম আজমল খানের। ইসলামের ইতিহাস থেকে ইবরাহিম বিন আদম-এর নাম তুলে ধরলেন, যিনি সব কিছু ছেড়ে দিয়ে কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

দেশের প্রয়োজনে সি আর দাশ সব কিছুই ত্যাগ করেছিলেন। তীক্ষèধী সম্পন্ন জোরদার ব্যারিস্টার। যুক্তি আর আইনের মারপ্যাচ। কথার কল্প ধারায় আবেগের হাত ধরে যুক্তিকে টেনে নিয়ে কি করে আনতে হয় তা জানা ছিল সি আর দাশের।

- আঠারো বছর তিনি জেল খেটেছিলেন। আরে বাপু তার ত্যাগ আর আমার ত্যাগ কখনো সমান হতে পারে? ব্যক্তিগত ত্যাগের মাপকাঠির কাছে নিজের প্রচেষ্টা অকিঞ্চিতকর তুচ্ছ বলে হাজির করার চেষ্টা করলেন মওলানা। তারপর হঠাৎ বলে উঠলেন, আমি যখন কিউবা থেকে লন্ডনে এসেছি। লন্ডনের বিমানবন্দরে এলেন ৯৫ বছরের বৃদ্ধা শ্রীযুক্তা কমলা দেবী। সি আর দাশের ইংরেজ স্ত্রী। তাকে বললাম, এত কষ্ট করে কেন এলেন মিছেমিছি? জবাব দিয়েছিলেন কমলা দেবী, অনেকদিন দেখিনি তোমাদের। তাই দেখতে এলাম।

মওলানার রাজনৈতিক চেতনার উৎস আসাম। এখানেই ক্ষেতের আলের ধারে বটতলায় কৃষকদের আলোচনা সভায় মওলানার রাজনীতির পাঠের শুরু। মন তার গোড়া থেকেই সংগ্রামী। কোনো বই পুস্তক পড়ে তিনি রাজনীতি শেখেননি। তার রাজনীতির ইস্কুল বসেছিল দেশের ধানের ক্ষেতগুলোর পাশে। সেই ইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন তারাই, যারা লাঙ্গল নিয়ে ভূমিকর্ষণ করেন। এখান থেকে মওলানা ভাসানী পেয়েছিলেন এক গভীর অভিজ্ঞান। তিনি শিখেছিলেন সেই আশ্চর্য উজ্জ্বল প্রভাবতী সত্যদর্শনের কথা। মওলানা বলেছেন, দেশের প্রকৃত রক্ষক, জাতির মেরুদন্ড কৃষক সমাজ। তারাই দেশের জনসংখ্যার শতকরা ৮৫ জন। এদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে উৎপাদিত হচ্ছে ধান, পাট, আখ, তামাক। এক কথায় এদের রক্ত পানি করে এরা যে সোনার ফসল উৎপাদন করছেন তাই প্রকৃতপক্ষে দেশের উকিল, মোক্তার, ডাক্তার, শিক্ষক, ছাত্র, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মচারী, সদস্য, সেক্রেটারি, মন্ত্রী, এমনকি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের জীবিকা নির্বাহ, তথা জীবন ধারনের একমাত্র উৎস।…

এদের কথাই ভাসানী বলেছেন, যে কৃষক স্বাধীনতার আগে কোন রকম খাইয়া জীবন যাপন করিত, তাহারা আজ রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষুক ভবঘুরে সাজিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছে। কোথায় যেন যুক্তি কাটা পড়ে যাচ্ছে? কোথায় সমাজের লজিকের একটি বিরাট অসমন্বয় ফুটে উঠেছে। এদেশের সবকটি মানুষকে খাওয়াচ্ছে, পরাচ্ছে, তারা কেন আজ ভিক্ষুক? এই কেনই আজকের সব চাইতে বড় জিজ্ঞাসা? যে গাছের ফল আমরা সবাই খাচ্ছি, তার যে শেকড় শুকিয়ে গেছে।

- আমরা বসে থাকতেই এল একজন ভিন গায়ের কৃষক। পায়ে রাবারের জুতো। হাতে এলুমিনিয়ামের বাটি। বাটিতে পানি রয়েছে -

হুজুর আমার ছোট ছেলেটার আজ তিন দিন ধইরা জ্বর। জ্বর সারছে না। তাই একটু পানি পড়া নিতে আসছি। লোকটা হাতের বাটি এাগিয়ে ধরে।

মওলানার চোখে দুশ্চিন্তার ছায়া।

‘কেন কি হয়েছে? ডাক্তার দেখাইছ? হু হুজুর।’

‘ডাক্তার কি কইছে?’

‘কি আর কইব। ওষুধ খাইবার জন্য লেইখা দিছে। ওষুধের দাম পাঁচ টাকা।

মওলানা পকেটের ভেতরে হাত ঢোকান। পকেট উজাড় করে জমিরের হাতে তুলে দেন। ‘যাও, যাও, জমির তাড়াতাড়ি গিয়ে ওষুধ কিনা বাচ্চাটারে দেও। দেরী কইরো না।’

এক হাতে পড়া পানির বাটি আর অন্য হাতে ওষুধের দাম নিয়ে লোকটা চলে যায়। এক হাতে বিশ্বাস আর অপর হাতে বিজ্ঞান। দুটো মিলে জমির শেখের বাচ্চাকে ভালো করে দেবে।

‘সরল মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করতে নেই।’ মওলানা আমাদের দিকে তাাকিয়ে কথাটা বললেন নিজের মনেই।

আমরা মাঠের ভেতর দিয়ে হেটে চলেছি। মওলানা ভাসানী এগিয়ে চলেছেন সামনে। পায়ে পুরনো রাবারের সোল দেয়া চটি জোড়া, যেটি সন্তোষে দেখে এসেছিলাম।… মওলানা সামনে হেটে যাচ্ছেন, আর কথা বলছেন। পেছন ফিরে তাকিয়ে বললেন, আমি সর্বহারাদের কথা ভালো বুঝি। তোমাদের মতো শহুরে মিডল ক্লাসের লোকদের বাপু আমি বুঝি কম।

তারপর হেসে রসিকতা করে বললেন, আজকাল মিডল ক্লাস, ক্লাসইনা। ইন্টার ক্লাসে যে লোক গাড়ি চলে সেত নির্বোধ।

মওলানার পরিধানে একটি চেক লুঙ্গি আর গায়ে কুর্তা। তার ওপর শীতের জন্য উলের হাত কাটা সোয়েটার। মওলানা বললেন, আমার একখানা লুঙ্গি। তা সেলাই করতে লাগে দু’আনা। আর তোমাদের স্যুট, তৈরি করতে লাগছে দেড়শ টাকা।

খবর রাখেন বৃদ্ধ সব জাগতিক ব্যাপারেই।

মওলানা বলে যান, আমাদের দেশের মেহনতী মানুষের মতো সংগ্রাম করার আদর্শ মানুষ দুনিয়াতে আর কোথাও নেই। দুটো কাঁচকলা সেদ্ধ, নুন আর ভাত এত সস্তায় এরা বেঁচে থেকে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

‘রোদ প্রখর হয়ে উঠছে। চলো ফেরা যাক। তোমাদের ক্ষিদে লেগেছে নিশ্চয়ই।’

আমরা ফিরে চলি মিশন এলাকার পথ ধরে।

মওলানা ডাকলেন আমাদের সবাইকে ভেতর বাড়িতে। খাবারের আয়োজন হয়েছে বড় ঘরের বারান্দায়। মুরগীর তরকারী। মাছের ঝোল। বেগুন ভাজা আর ডাল।

সামনের উঠানে মাটির চুলোয় আরেক হাড়ি ভাত চাপিয়ে দিয়েছেন মওলানার কনিষ্ঠ পুত্রবধূ। বড় ছেলের স্ত্রী মশলা বাটছিলেন বুঝি। মওলানার স্ত্রী ভেতরবাড়ীর টিউবওয়েলে কল টিপে পানি তুলছিলেন। একটা নীল রংয়ের কাঁথা বাঁশের আড়ে শুকোচ্ছে।

খেতে খেতে রাজনীতির কথাই হচ্ছিল।

…পূর্ব পাকিস্তানের ভবিষ্যত সম্পর্কে মওলানা ভাসানী কথা বলছিলেন। সম্প্রতি টেলিভিশন সাক্ষাতকারে মওলানা মন্তব্য করেছিলেন যে, আসাম ছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র সম্পূর্ণ নয়। সে কথার উল্লেখ করে মওলানা ভাসানী বলেন, ‘আসামের জনসাধারণ আজ নির্যাতিত, বঞ্চিত। আসামের প্রকৃত সৌর্হাদ্য হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে। আসামের স্বার্থেই পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে আসামের রাজনৈতিক অভিন্নতার সূত্র গ্রথিত হবে। তার বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন যে, আসামের বিরাট সম্পদ আজ অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। আসামের ভৌগোলিক সান্নিধ্য হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে। বহির্-বাণিজ্যের জন্য আসামের যে বন্দর ও পোতাশ্রয়ের দরকার, সে দরকার সত্যিকারভাবে মেটাতে পারে চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দর।

পথে আসতে মনে পড়ে অনেক কথা। ভাসানীর চরের মওলানা। আর আজকের মহীপুরের পৌষের দুপুর। কত দশক পেরিয়ে এসেছেন এই বৃদ্ধ? ভাসানীর চর। হামিদাবাদ। মানকার চর। ধূবড়ী। আসামের কতকগুলো ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত জায়গার নাম। কি এগুলো যে সুতো দিয়ে বাঁধা, তার নাম মওলানা ভাসানী।

কে না জানে আসামের গরিব চাষীদের জন্য মওলানা কিনা করেছেন? এদের মুক্তির জন্য নওয়াব-নাইট-উজিরদের কাছে ভিক্ষের ঝুলি নিয়ে গেছেন, একাকী এই বৃদ্ধ। - কৃষকের পাশে এখনো দাঁড়িয়ে শুধু একটি মানুষ। যুদ্ধ করতে করতে ইনি বুড়ো হয়ে গেছেন। কিন্তু এখনো যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে আসেননি তিনি।…

মওলানা এখনও কেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন? এই বুড়ো বয়সে তিনি কেন সামনে এসে দাঁড়াচ্ছেন সবার আগে? কই পূর্ব পাকিস্তানে আর কোন মওলানা আছে যিনি ক্ষেতমজুরের মিছিল বার করেন? যিনি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে নেমেছেন দেশের কৃষক-মজুরের মুক্তিই হচ্ছে সত্যিকার মুক্তির পথ।

…পূর্ব বাংলায় বারো বছর (৫৮ সালে) আগে শীতের রাতে সারা পাকিস্তান থেকে এলেন কৃষকেরা। ময়মনসিংহের গারো পাহাড় থেকে নেমে এলেন হাজং বীর। বেলুচিস্তান থেকে কর্মী জড়ো হয়েছিলেন ফুলছড়ির চরে। এক বৃদ্ধের কথা শুনতে - দারিদ্র্যকে শেষ করে দাও। শোষণকে নির্মূল করে দাও। আমার কাজ ফুরিয়ে যাবে তখন।।

পুনর্মুদ্রন কৃতজ্ঞতা: শাহজাহান মন্টু ও রবিউল করিম দুলাল সম্পাদিত গ্রন্থ ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী’ জুন – ১৯৯২ হতে, আমাদের বুধবারের সৌজন্যে

পাঠক মন্তব্য () টি

আবেগী গোলামদের টিস্যু দাও প্লিজ

গোলামেরা একটু আদেখলা হয়, ফ্যাঁচফ্যাঁচে হয়, অল্পতেই চোখে পানি চইলা আসে তাদের।

যে ভাবে বিজয় 'আমাদের' হলো

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। বছর ঘুরে ১৬ ডিসেম্বর ফিরে এসেছে। আমাদের দরোজায় কড়া…

আমার দেখা মওলানা ভাসানী

মওলানা ভাসানীকে অনেকে প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন আবার প্রয়োজন ফুরালে ত্যাগ করেছেন।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD