সর্বশেষ আপডেট ২ দিন ১৬ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / ফিচার / ইতিহাস / জাফনা হাসপাতাল হত্যাযজ্ঞের ২৯ বছর

জাফনা হাসপাতাল হত্যাযজ্ঞের ২৯ বছর

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৬ ১৭:২৮ টা | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৬ ২১:১৭ টা

ফিচার ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ

শ্রীলংকার জাফনা দ্বীপের জাফনা হাসপাতালে চালানো কুখ্যাত হত্যাযজ্ঞের ২৯তম বার্ষিকী আজ ২১ অক্টোবর।

১৯৮৭ সালের এই দিনে ভারতীয় সেনাবাহিনী জাফনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। দুদিন ধরে চলা এই হত্যাযজ্ঞের শিকার হন হাসপাতালটির ৬০-৭০ জন রোগী এবং কর্মী।

স্বাধীনতাকামী তামিলদের দমনের নাম করে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।

তবে তামিল ইলমের মুক্তিযোদ্ধা দল এলটিটিই, শ্রীলঙ্কা সরকার এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের দাবি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের দমন নয় জাফনা হাসপাতালে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

অবশ্য এ অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট জেনারেল দিপেন্দর সিংয়ের দাবি, তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাদের গুলিবিনিময়কালে বেসামরিক মানুষ ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে হত্যাযজ্ঞ চালানোর মতো জঘন্য জড়িত সেনাদের কখনোই বিচারের মুখোমুখি করেনি ভারত সরকার।

প্রেক্ষাপট

ঔপনিবেশিক বৃটিশ জমানায় শ্রীলঙ্কার নাম ছিল সিলিয়ন। ওই সময় বেশির ভাগ (প্রায় ৬০ ভাগ) সরকারি চাকরি ছিল শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিলদের দখলে। মোট জনসংখ্যার ১৫ ভাগ হলেও এমনটি সম্ভব হয়েছিল তামিল অধ্যুষিত জাফনা উপদ্বীপে মার্কিন মিশনারীদের পশ্চিমা শিক্ষার প্রসারের কারণে।

এদিকে স্বাধীনতা অর্জনের পর শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি জাতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে চাকরিসহ সুযোগ সুবিধা অর্জন। আর সিংহলি রাজনীতিকরা সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসায় জনসংখ্যার আনুপাতিক হারের ইস্যুটি জটিল আকার ধারণ করে। ফলশ্রুতিতে দেশটিতে সংখ্যালঘু তামিলরা দাঙ্গার শিকার হয়ে পড়ে। যার প্রতিক্রিয়ায় তামিলদের মধ্যে বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপ গড়ে ওঠে। যারা শ্রীলঙ্কার তামিলদের স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হন। ১৯৮৩ সালে ব্লাক জুলাই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

১৯৮৭ সালে শ্রীলঙ্কা ও ভারত সরকারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার বলে ভারতীয় সেনারা শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনীর (আইপিকেএফ) সঙ্গে তামিল মুক্তিযোদ্ধা দল এলটিটিইর সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। ১৯৮৭ সালের অক্টোবরে এলটিটিইর হাত থেকে জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে সেখানে হামলা চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

জাফনা হাসপাতালে হামলা

জাফনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাফনা জেনারেল হাসপাতাল ছিল ঘনবসতিপূর্ণ জাফনা দ্বীপের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এটি জাফনা হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত। গৃহযুদ্ধের মধ্যেও এটি একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে সচল ছিল। যদিও ভারত সেনারা জাফনার নিয়ন্ত্রণ নিতে হামলা চালাবে ধারণা করে এর কিছু কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন থেকে বিরত ছিল, কিন্তু হাসপাতালের মতো জায়গায় হামলা হবে না ধরে নিয়ে অন্যরা অবশ্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। এর কারণ ছিল রাজধানী কলম্বেোতে জাফনার বিশিষ্ট নাগরিকদের ভারতীয় দূতাবাস থেকে বলা হয়েছিল সহসা বড় ধরনের কোনো সেনা অভিযান চালানো হবে না।

জাফনা হাসপাতালের নিহত চিকিৎসক, নার্স এবং চিকিৎসা সহকারীবৃন্দকিন্তু ১৯৮৭ সালের ২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের দিওয়ালি উৎসবের দিন ভারতীয় সেনারা হাসপাতালটি লক্ষ্য করে গোলা বর্ষণ করে। যার ফলে অন্তত ৭০ জনের লাশের স্তুপ তৈরি হয়।

নিহতদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এ. শিবাপাতাসুনথারাম, ডা. কে পরিমলালাহার এবং ড. কে. গণেষারত্মম; তিনজন নার্স, ১৫জন চিকিৎসা সহকারী ছাড়াও নবজাতক এবং শিশুও ছিল।

২১ অক্টোবর বেলা ১১টায় হামলা শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। তারা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালটির বহির্বিভাগের ভবনটিতে গোলা বর্ষণ করে। এতে আট নম্বর ওয়ার্ডে সাত জন মানুষ নিহত হয়। ভারত সেনা নিহতদের লাশ পুড়িয়ে দেয়। এ সময় একজন নবজাতকসহ কয়েকজন শিশু কেঁদে উঠলে তাদেরও হত্যা করা হয়। একজন প্রবীণ ব্যক্তি শিবাপূরাণাম গাইছিলেন, তিনি ঘটনার ভয়াবহতা দেখে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মারা যান। যেসব নিরহ রোগী সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন তাতের ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি স্তব্ধ করে দেয়। যেসব শিশু এবং বয়স্ক মানুষ পানি পানি করে চিৎকার করছিলেন তারাও একই পরিণতি বরণ করেন।

এরপর ভারতীয় বাহিনী রেডিওলজি ব্লকে এসে উপস্থিত হয়। সেখানে থাকা মানুষদের ওপর নির্বিচার গুলি বর্ষণ করে তারা। সেখানে রোগীদের মৃত্যুবরণ করতে দেখা যায়।

২২ অক্টোবর ছিল হামলার শেষ দিন। এদিন হাসপাতালের আক্রান্তদের চিকিৎসা করতে ছুটে এসেছিলেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এ. শিবাপাতাসুনথারাম। সকাল সাড়ে ৮টায় তিনজন নার্সসহ হাসপাতালের বারান্দায় তাকে হাটতে দেখা যায়। তারা হাত তুলে চিৎকার করে বলছিলেন, "আমরা নিরীহ চিকিৎসক এবং নার্স, আমরা আত্মসমর্পণ করছি।" কিন্তু কাছ থেকে ছোড়া গুলিতে ডা. শিবাপাতাসুনথারামকে হত্যা করা হয়। সঙ্গে থাকা তিন নার্সও আহত হন।

পরে বেলা ১১টার দিকে একজন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা একটি ওয়ার্ডে প্রবেশের চেষ্টা চালালে একজন নারী চিকিৎসক বাধা দেন। তিনি ওই কর্মকর্তাকে পরিস্থিতি বুঝাতে সক্ষম হন। পরে আহতরা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে হাসপাতালের ১০জন কর্মী ছিলেন। পরে সারাদিন হাসপাতালের সব জায়গা থেকে লাশ উদ্ধার করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ হত্যাযজ্ঞকে ভারত সেনা শুরু থেকেই ক্রসফায়ার বলে দাবি করে আসছে। লে. জেনারেল দিপেন্দর সিংয়ের দাবি, হাসপাতালের ভেতর থেকেই তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। পরে ক্রসফায়ারে লোকজন নিহত হয়।

তবে স্বাধীনতামকামী এলটিটিই এবং শ্রীলঙ্কা সরকার এই ঘটনা কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ বলে আখ্যা দিয়ে আসছে। ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কা সরকার জাফনা হাসপাতালের হত্যাযজ্ঞকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার 'মারবাধিকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকবৃন্দ'সহ স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠন এবং পশ্চিমা পর্যবেক্ষরাও জাফনার এই ঘটনাকে 'হত্যাযজ্ঞ' আখ্যা দিয়ে আসছেন। সূত্র: উইকপিডিয়া

পাঠক মন্তব্য () টি

আল্লাহ একমাত্র প্রভু, মুহাম্মদ (সা.) তার নবী: গাদ্দাফী

অসিয়তনামায় গাদ্দাফী তার বিশ্বাস সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আল্লাহ একমাত্র প্রভু, মুহাম্মদ…

শোকাবহ আশুরার বিবরণ

শাহাদাতের আগে হযরত হোসেনের শরীরে (রা.) ৩৩টি বর্শার এবং তলোয়ারের ৩৪টি আঘাত…

‘কতলে হুসেন মরগে ইয়াজিদ হ্যায়’

জনসম্মতিহীন দখলদার শাসকের বিরুদ্ধে জীবনবাজী রেখে প্রতিবাদ করাই আশুরার শিক্ষা।

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD