সর্বশেষ আপডেট ১১ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / ফিচার / ইতিহাস / মানুষ মারতে স্কুলে পিস্তল পেয়েছিলেন শিবরামও

মানুষ মারতে স্কুলে পিস্তল পেয়েছিলেন শিবরামও

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০১৬ ২১:৪৭ টা | আপডেট: ১০ জুলাই ২০১৬ ১২:২৮ টা

ফিচার ডেস্ক, অনলাইন বাংলাঃ

ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ১ জুলাই রাতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, স্কলাস্টিকা স্কুলের কয়েক ছাত্র হামলাকারী। এরপর ঈদের দিন শোলাকিয়ায় হামলা হলো। সেখানেও নর্থসাউথের ছাত্র। সবাই ধনীর সন্তান।

নানা সমীকরণ  মিলিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়ার স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া নিয়ে অনেকেই বিষ্মিত হচ্ছেন।  কিভাবে এমনটি হচ্ছেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।

ফলে ঠিকমোত সমাধানটাও বলতে পারছেন না। কেউ বলছেন ব্রেইন ওয়াশ, কেউ বলছেন সঙ্গীত-নাচ দরকার। কেউ পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবের কথা বলছেন। কেউ মেয়েদের একটু উদার হতেও পরামর্শ দিচ্ছেন।

কিন্তু নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে বঙ্গে জঙ্গিবাদের গোড়া নর্থসাউথই নয় শুধু দশদিক আলো করে ব্রিটিশ জমানা থেকেই চলে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বিদ্যালয়েই সন্ত্রাসবাদের দীক্ষা পেতেন ছাত্ররা। রীতিমত হাতে পিস্তলও তুলে দেয়া হতো। অবশ্য সেই সন্ত্রাসবাদ উপনিবেশমুক্ত স্বাধীনতাকালে এম্নিতেই উবে গেছিল।

নিশ্চয় শিবরাম চক্রবর্তীর নাম শুনেছেন। একজন রম্য গল্পকার। ১৯০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর জন্মে ১৯৮০ সালের ২৮ আগস্ট মারা গেছেন। বিচিত্র জীবন ছিল তার। রাজনীতি করেছেন, জেলখেটেছেন, রাস্তায় কাগজ ফেরি করেছেন, ফুটপাথে রাত্রিবাস করেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন, আজীবন মেস-জীবন যাপন করেছেন । করেননি যা, তা হল বিয়ে।

সেই শিবরামের নাম ধরে সন্ত্রাসবাদের একটা গল্প করা যাক-

শিবরাম তখন প্রাথমিক স্কুলে।

দেশ জুড়ে চলছে স্বাধীনতা আন্দোলনের জোয়ার। ইস্কুলে মাস্টারমশাই প্রবন্ধ লিখতে দিলেন— বড় হয়ে কী হতে চাও?

ছাত্রদের কেউ লিখল ডাক্তার, কেউ উকিল। শিবরাম লিখল, দেশপ্রেমিক হতে চাই।

শিক্ষক অবাক!

ইস্কুল শেষে এক বন্ধু আড়ালে টেনে নিয়ে বলল, ‘‘তুই দেশপ্রেমিক হতে চাইলে আমাদের দলে নাম লেখা। আমিও বিপ্লবী, আমার মতো দেশের কাজ করবি।’’

শিবরাম যোগ  দিল ওই বিপ্লবীদের দলে। দলে ছোটদের কাজ হল গোপনে চিঠি আর অস্ত্র দেওয়া নেওয়া করা, যাতে পুলিশ সন্দেহ না করে।

একদিন শিবরামের ওপর দায়িত্ব পড়ল এক সাহেবকে গুলি করে হত্যা করার। তা’ও আবার এক বিশাল সভার মাঝে।

পিস্তল এসে গেল। পকেটে পিস্তল নিয়ে দুরুদুরু বুকে শিবরাম পৌঁছলেন সেই সভায়। সাহেবকে গুলি করার পরেই যে নিজেকেও মরতে হবে তাও অজানা নয়। দেশের জন্য মরতেও প্রস্তুত।

মঞ্চে সেই সাহেব যেই উঠেছেন অমনি দর্শকের আসন থেকে উঠে দাঁড়ালেন শিবরাম। গুলি ছোড়ার জন্য সবে পকেট থেকে পিস্তল বার করতে যাবেন অমনই মাইকে ঘোষণা, ‘‘শিবরাম চক্রবর্তী মঞ্চে এসো।’’ কেন? উদ্বোধনী সঙ্গীত গাইতে হবে।

সবার চোখ তখন শিবরামের দিকে। আর উপায় নেই Gun এর বদলে গানই ব্যবহার করতে হল মঞ্চে। পকেটের পিস্তল পকেটেই রয়ে গেল!

সূত্র: উইকিপিডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা

পাঠক মন্তব্য () টি

জাফনা হাসপাতাল হত্যাযজ্ঞের ২৯ বছর

শ্রীলংকার জাফনা দ্বীপের জাফনা হাসপাতালে চালানো কুখ্যাত হত্যাযজ্ঞের ২৯তম বার্ষিকী আজ ২১…

আল্লাহ একমাত্র প্রভু, মুহাম্মদ (সা.) তার নবী: গাদ্দাফী

অসিয়তনামায় গাদ্দাফী তার বিশ্বাস সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আল্লাহ একমাত্র প্রভু, মুহাম্মদ…

শোকাবহ আশুরার বিবরণ

শাহাদাতের আগে হযরত হোসেনের শরীরে (রা.) ৩৩টি বর্শার এবং তলোয়ারের ৩৪টি আঘাত…

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD