সর্বশেষ আপডেট ১৩ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / ব্লগ / এদিন আমার এতিম হওয়ার কথা ছিল

এদিন আমার এতিম হওয়ার কথা ছিল

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ১১:২৮ টা | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ২৩:২২ টা

একেএম ওয়াহিদুজ্জামানঃ

১৯৭১ সালে এইদিন আমার এতিম হওয়ার কথা ছিল। টঙ্গীর কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলের দোতলার কোয়ার্টারে আমরা থাকতাম। বাবা, মা (পেটে আমার বোন), আমি, আমার মেঝো চাচা (এখনো টঙ্গীতে থাকেন)। মিলের ভেতরে পাকিস্তানী মিলিশিয়ারা ক্যাম্প করেছিল। মিলের ছাদে তিনটা বাসা ছিল, প্রথমটায় থাকতেন মালিক কাম ম্যানেজার কাম স্পিনিং অফিসার আমজাদ সাহেব, দ্বিতীয়টায় আমরা। আমজাদ সাহেব ছিলেন ভারতের বোম্বে থেকে আগত মোহাজের, মোটা দাগে যাদের আমরা বিহারী বলি।

যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটা বিষয় ছিল ডান্ডি কার্ড (আইডিয়েন্টিটি কার্ডকে পাকিস্তানীরা ঐ নামেই ডাকত)। আমার বাবা যেহেতু পার্সোনেল অফিসার এবং লেবার অফিসারের যৌথ দায়িত্ব পালন করতেন তাই শ্রমিকদের আইডি কার্ড ইস্যুর দায়িত্বটাও উনার ছিল। টঙ্গী-গাজীপুর এলাকার অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের (ইনক্লুডিং বর্তমান মন্ত্রী আ কা মোজাম্মেল) উনি তৎকালীন শ্রমিক নেতা কাজী জাফর কাকুর (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) অনুরোধে ভুয়া আইডি কার্ড ইস্যু করেছিলেন।

বাবার স্বাক্ষর করা এমন আইডি কার্ডসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ধরা পরেছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন। টঙ্গীতে এত মিল থাকতে কেন একটি মিলের আইডি কার্ডধারী এত মুক্তিযোদ্ধা, তা বুঝতে আর্মি এবং মিলিশিয়াদের কষ্ট হয়নি।

যাই হোক, ১৪ ডিসেম্বর রাতে বাসায় মিলিশিয়া এলো। দরজা খোলার সাথে সাথে কাজের ছেলে ময়না মামাকে ছাদের উপর লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে তারা ভেতরে ঢুকলো। আমার বাবার তখন জলবসন্ত হয়েছে, আলাদা বিছানায় মশারী টানিয়ে শুয়ে আছেন। মিলিশিয়ারা আমার বাবাকে সেখান থেকে ধরে ছাদের উপর তৈরী লাইনে দাঁড় করালো।

এমন সময় ফেরেশতার মত উদয় হলেন আমজাদ কাক্কু। উনি বাবার জলবসন্ত দেখিয়ে প্রথমে উনাকে মুক্ত করলেন, তারপর বিভিন্ন কারন দিয়ে অন্যদের। ১৫ তারিখ ভোরে উনি নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে আমাদের ঢাকায় এনে বুড়িগঙ্গার পারে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। এই মোহাজের মানুষটার কারণে আজো আমি এতিম হইনি।

১৯৭১ সালের ১৩, ১৪ এবং ১৫ ডিসেম্বর এমন অনেক চাকরীজীবী, শিক্ষক ও পেশাজীবীকে হত্যা করা হয়েছে। এদের সংখ্যা কয়েক হাজার হবার কথা। কিন্তু প্রতিটি বুদ্ধিজীবী দিবসে কেবলমাত্র ১৮জনের নাম আর ছবি ছাড়া আর কারো নাম দেখি না। কেন?

এতগুলো বছর চলে গেল, তবুও আমাদের সরকারগুলো পদক্ষেপ নিতে পারলো না, শহীদদের একটি তালিকা তৈরী করার?

যাই হোক, যারা আমার বাবার মত সৌভাগ্যবান ছিলেন না, যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি।

একেএম ওয়াহিদুজ্জামান: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষক

পাঠক মন্তব্য () টি

বিনিয়োগের ধারণায় চীনের নতুন চমক

কোন বিরতি ছাড়াই পাঁচ বছর নেপালে ‘বোধিছায়া’ নামের নাটকটির মঞ্চায়ন হবে।

কেন হানাফী মাজহাবের অনুসারী হলাম

চার ইমামের কারো যোগ্যতা কি ইমাম আলবানীর চেয়ে কম ছিল?

রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলে সহযোগী সেই রেনেটা

খুনীদের পৃষ্ঠপোষক কিভাবে জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে!

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD