সর্বশেষ আপডেট ১৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
আপনি আছেন হোম / মতামত / ব্লগ / নির্যাতন নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন

নির্যাতন নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০১৫ ২৩:৩৮ টা

আনন্দ মজুমদারঃ

নীপিড়ন প্রক্রিয়া, ব্যাবহৃত টেকনিক ও হাতিয়ার নীপিড়কের চরিত্র সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। নীপিড়ক নানাভাবে নির্যাতন করতে পারে। কি কি বিষয় নিয়ে নীপিড়ক আক্রমণ করে, কী কী ব্যাপারে ক্ষেপে যা- তা’ দিয়ে তাদের চরিত্র আরো ভালভাবে বোঝা যায়।

নির্যাতন নিয়ে দুনিয়ার বহু দেশে সমাজবিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। রাষ্ট্রীয় নীপিড়ন নিয়ে গবেষণা করা সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য খুবই দরকারি কাজ; কিন্তু এই কাজে ঝুঁকি আছে। যে বুদ্ধিজীবি ঝুঁকির তোয়াক্কা না করেই, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা উপেক্ষা করে, ঘরের লক্ষী পায়ে ঠেলে দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে, সকল বেড়ি ছিন্ন করে কোনকিছুকেই পরোয়া করে না- সে-ই সত্যিকারের পণ্ডিত।

নির্যাতন নিয়ে Systematic Emperical Research করা খুবই প্রয়োজন। কিছু গবেষণা হয় Regime পরিবর্তন হওয়ার পরে; কিছুটা ইতিহাস আকারে; বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অনুকূল পরিবেশে। নীপিড়ন-নির্যাতনের স্টিম রোলার যখন চলতে থাকে- তখন Emperical findings এর জন্য মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় বেশীরভাগ গবেষকই অনীহা প্রকাশ করেন।

মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে দেখা যায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই যারা রাষ্ট্র ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করছে কিংবা আন্দোলন করছে কেবল “অধিকারের” জন্য, তাদের উপরই বেশি ফোকাস করা হয় কিন্তু খোদ রাষ্ট্রযন্ত্রের নীপিড়নের ম্যাট্রিক্স নিয়ে খুব বেশী empirical data দেয়া হয় না; যেমন, বাংলাদেশের Forensic Rport বা ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণা হয় নাই।

বিশ শতকের নামকরা (দুনিয়াব্যাপী যারা নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত) দমনদস্যূদের নিয়ে কাজ হয়েছে কিছু। কিন্তু সকল ধরনের ‘পীড়নপ্রিয়’ সরকার নিয়ে খুব একটা কাজ হয় নাই। কিছু কিছু সরকার পদ্ধতিকে পীড়নমুক্ত বলে ধরেই নেয়া নয়। এই অনুমান ভুল। আধুনিক পুলিশ, ইন্টেলিজেন্স ও মিলিটারি এস্টাব্লিসমেন্টে “Rebirth of Torture” কী করে হচ্ছে- এটাও গবেষণার ফোকাস হতে পারে।

রাষ্ট্র কতৃক জনগণের উপর নীপড়িনের ন্যায্যতা কোন কোন ক্ষেত্রে ‘সম্মতি’ আকারে রাষ্ট্র আদায় করে নেয়। এই ক্ষেত্রে জনমত নানা মাত্রিক হতে পারে। কী করে নির্যাতন (Plant itself) স্বয়ং আধুনিক রাষ্ট্রের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।

কি করে নির্যাতনকে আর চেনাই যায় না- আধুনিক রাষ্ট্রের ‘হাত লম্বা’ ইত্যাদি কথার মধ্যে জনগণ মনে মনে রাষ্ট্রের সাথে ভীতিকর সম্পর্ক স্থাপন করতে করতে এটাকেই  “ঠিক” বলে অনুমোদন দেয়?

কি করে নির্যাতন ‘নাগরিক মুখোশ’ পরে বাড়তেই থাকে?

কান্ট বলতেন, মানুষকে কখনো যন্ত্র মনে করো না; মানুষকে কেবল তোমার উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ারে পরিগণিত করো না। মানুষ ‘স্ব-শাসিত’ সত্তা , তাদের নিজস্ব লক্ষ্য আছে।

একটি টেপ রেকর্ডার ও একজন ব্যক্তির স্বরযন্ত্রের মধ্যে দুস্তর ফারাক। টেপ রেকর্ডার চলে না, ঘর ঘর করে, আপনি থাপ্পর দেন, আছাড় দেন, খোঁচান; ঠিক হলে হঊক; নিজে মালিক হলে, করেন; নইলে অনৈতিক কাজ হবে। কিন্তু একটা মানুষের কাছ থেকে তথ্য পেতে হলে “তথ্য –পাওয়ার ইচ্ছা” যার কাছে ‘তথ্য আছে’ তার উপর প্রভাবকের ভূমিকা পালন করলেই তথ্য পাওয়া সম্ভব। কোনো নির্যাতনের দরকার নাই। তথ্য থাকলে ‘তথ্যদাতা’ এক সময় না এক সময় তথ্য দেবেন। সম্ভাব্য তথ্যদাতাকে রাজি করানোর বহু প্রক্রিয়া আছে। উত্তরদাতার লক্ষ্যের সাথে প্রশ্নকর্তার লক্ষ্য মিলে গেলে তথ্য বেরিয়ে আসবে।

যারা ফলভোগবাদী/ ফলাফল বাদী- প্রক্রিয়া যাই হউক না কেন- ফলই আসল- তারা হয়তো বলবেন, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভাল হলে দমননীতিও জায়েজ। মোটেই না। আখেরে দমননীতি নিজেই আত্মস্ফীতিপরায়ণ হয়ে ফলাফল্বাদীদের ‘বৃহত্তর কল্যাণ’ নামক ধারণা নাকচ করে দেয়।

হাতকড়া লাগিয়ে, ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে যেমন আইনের স্পিরিট নষ্ট করা হয়, তেমনি নির্যাতনের মাধ্যমে তথ্য আদায়ও আইনকে কলুষিত করে; নাগরিক অধিকার নস্যাত করা হয়। মানুষের মর্যাদা ভূলুন্ঠিত হয়।

আইন মান্য করার অর্থ নাগরিকদের আইনের প্রতি অনুমোদন; অনেক ক্ষেত্রেই বিপরীত অবস্থান-অমান্য করা- নানামাত্রিক ব্যাখ্যার দাবী রাখে। মানুষ সপ্রাণ সত্তা; মানুষের কথা বলা ও না-বলার অধিকার স্বীকার করতেই হবে।

নির্যাতন যখন নাগরিক অধিকারের নামে হয়, তখন তা আরও ভয়ঙ্কর রূপ পরিগ্রহ করে। প্রতিটি মানুষ নিজের ও মানুষের মর্যাদার প্রতিনিধি। প্রতিটি মানুষের মুখ খোলা ও মুখ বন্ধ রাখার অধিকার তার নিজস্ব।

আনন্দ মজুমদার: উপদেষ্টা সম্পাদক, অনলাইন বাংলা

পাঠক মন্তব্য () টি

বিনিয়োগের ধারণায় চীনের নতুন চমক

কোন বিরতি ছাড়াই পাঁচ বছর নেপালে ‘বোধিছায়া’ নামের নাটকটির মঞ্চায়ন হবে।

কেন হানাফী মাজহাবের অনুসারী হলাম

চার ইমামের কারো যোগ্যতা কি ইমাম আলবানীর চেয়ে কম ছিল?

রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলে সহযোগী সেই রেনেটা

খুনীদের পৃষ্ঠপোষক কিভাবে জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে!

কপিরাইট ২০১৪ onlineBangla.com.bd
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: গুলবুদ্দিন গালীব ইহসান
অনলাইন বাংলা, ৬৯/জি গ্রিন রোড, পান্থপথ (নীচ তলা), ঢাকা-১২০৫।
ফোন: ৯৬৪১১৯৫, মোবাইল: ০১৯১৩৭৮৯৮৯৯
ইমেইল: contact.onlinebangla@gmail.com
Developed By: Uranus BD